খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থান : প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

‘জান্নাত’ শব্দটি আরবী শব্দ, জানাহ্ শব্দ থেকে উৎপত্তি, যার অর্থ-বাগান, উদ্যান, সুখময় স্থান। যে বাগান বৃক্ষ, লতা দ্বারা আচ্ছাদিত, ফারসী ভাষায় যাকে বলে বেহেশ্ত।
আর পরিভাষায় পার্থিব ক্ষণস্থায়ী জীবনের অবসানের পর মু’মিনের অনন্ত সুখময় চিরস্থায়ী জীবনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সুসজ্জিত আবাস প্রস্তুত করে রেখেছেন। তাকে জান্নাত বা বেহেশ্ত বলে। জান্নাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, “তোমরা তোমাদের প্রভু পরওয়ারদিগারের ক্ষমা লাভের প্রতি দ্রুত ধাবিত হও এবং সে জান্নাতের প্রতি যার আয়তন আসমন সমূহ ও পৃথিবীর সমান। (আল-ইমরান-আয়াত নং- ১৩৩)।
জান্নাতীরা যা চাইবে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে তাই প্রদান করবেন। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে। “জান্নাতে তোমাদের জন্য তোমাদের মন যা চাবে তাহাই দেয়া হবে। এবং তোমরা সেখানে যা চাবে তাই পাবে (হামীম সিজদা-আয়াত নং- ৩১)। নবী করিম (সাঃ) বলেন, আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য জান্নাতে এমন সব নিয়ামত তৈরি করে রেখেছি যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ তা সম্পর্কে কোন ধারণা রাখেনা (বুখারী ও মুসলিম)। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে তিরমিজি বলেছেন, মহা নবী (সাঃ) এরশাদ করেছে, জান্নাতের মাটি অতীব পবিত্র এবং পানি অতীব মিষ্ট, আর মনে রেখো জান্নাত একটি খোলা প্রান্তর, তার বৃক্ষরাজি হলো তাসবীহ্, তাহমীদ এবং তাকবীর। (আল্লাহ্ আকবর) যারা জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করবে, তাঁদের অন্তরে কোন দুঃখ থাকবেনা, ক্রোধ থাকবেনা, তাঁরা পান করবে সুস্বাদু শরাব ও দুধ, যা প্রবাহিত হবে জান্নাতের তলদেশ “সালসাবীল” নামক ঝর্ণা থেকে, বেহেশ্তে থাকবে সৎ চরিত্রা সুন্দরী রমনীগণ, যা “হুর” হিসাবে পরিচিত হবে। তাঁদের চেহারা চতুর্দশীর চাঁদের মতো। হাতে থাকবে স্বর্ণের চিরুনী। এরা আসমান থেকে একবার উকি মারলে জগতের মানুষ দিশে হারা হয়ে যেত। দুঃখ জনক হলেও সত্য হলো, মুসলমান হয়েও কিছু লোক এই জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে। যার কারণ হিসেবে হাদিসে উল্লেখ আছে। যারা হারাম খাদ্য ভক্ষণকারী, আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী, প্রতিবেশীকে কষ্ট দানকারী, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, চোগলখোর, অহংকারী, রিয়াকারী, ওয়ারিসদের বঞ্চিতকারী। এই সমস্ত লোক জান্নাতে যাবেনা। 
যাতে নৈরায্য কিংবা উদাসীনতা কোনোটাই অতি প্রশ্রয় না পায়। নিম্নে জাহান্নামের পরিচয় তুলে ধরা হলঃ
জাহান্নাম শব্দটি আরবী। যার শাব্দিক অর্থ শাস্তির স্থান। আরবীতে জাহান্নামকে “নার” বলে। যার অর্থ আগুন। ফারসী ভাষায় যাকে বলে দোযক। জাহান্নামের পরিচয় হলো শেষ বিচারের দিন যারা অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে। তাদেরকে শাস্তি দেয়ার জন্য সে স্থান নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তাকেই জাহান্নাম বলে। জাহান্নাম সম্পর্কে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন। “আর যারা কুফরী করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের মৃত্যুর আদেশ ও দেয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি ও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞতে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি (ফাতির ঃ আয়াত নং- ৩৬)।
জাহান্নামাীদের ফুটান্ত পানি ও পুঁজ খেতে দেয়া হবে। তখন দোযখীদের নাড়ি ভুঁড়ি সমূহ খন্ড বিখন্ড করে দিবে। এবং জাক্কুম বৃক্ষ খেতে দেয়া হবে। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে” নিশ্চয়ই উক্ত জাক্কুম এমন একটি বৃক্ষ যার উৎপত্তি দোযখের তল দেশে আর তার উপরিভাগ ঠিক যেন সর্পের ফনা। (সূরা আছ্ ছফফাত ঃ আয়াত ঃ ৬৪-৬৫।)
জাহান্নামীদের চর্ম সমূহ খসে পড়লে সেখানে নতুন চর্ম তৈরি করে দেয়া হবে। জাহান্নাম সম্পর্কে নবী করিম (সাঃ) বলেছেন, “পৃথিবীর আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তোর ভাগের একভাগ। (বুখারী ও মুসলিম) অন্যস্থানে নবী করিম (সাঃ) বলেন। দোযখের সবচেয়ে নিম্নতম শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এক জোড়া আগুনের জুতা পরিয়ে দেয়া হবে। এর প্রভাবে আগুনে ফুটন্ত ডেকচির মতো তার মগজ টগ্বগ্ করে ফুটতে থাকবে। সে মনে করবে, তার চেয়ে অধিক শাস্তিভোগকারী আর কেউ নেই। (বুখারী ও মুসলিম) হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন রসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন, জাহান্নামের আগুন এক হাজার বছর জ্বলে জ্বলে লাল রঙ ধারণ করেছে। আরো এক হাজার বছর জ্বলতে জ্বলতে হয়েছে সাদা। এর পর আরো এক হাজার বছর প্রজ্বলিত হতে হতে হয়েছে ঘন কৃষ্ণ আঁধারের মতো। 
তাই বলা যায়, জাহান্নাম এই প্রস্তরাবরনের নীচে অবস্থিত, তবে তা মোটেই অসম্ভব বলে বিবেচিত হবে না। মহান আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের এই জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন ছুম্মা আমিন। (সূত্র ঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন: পৃষ্ঠা নং- ১৩০৫)
 
লেখক : মুফাসিরে কুরআন ও প্রভাষক। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রি কলেজ, শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম আজ

১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩২

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫



“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ