খুলনা | বুধবার | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ |

সড়কে আর কত মৃত্যু? 

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

সড়কে আর কত মৃত্যু? 

সড়ক দুর্ঘটনা যেন সংক্রমক ব্যাধির মত ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। মা- মেয়ে থেকে শুরু করে গোটা পরিবার, স্কুলের শিক্ষার্থীসহ পথচারী কেউ বাদ পড়ছেনা দুর্ঘটনার কবল থেকে। দিন দিন নিহতরে স্বজনদের আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হতে চলেছে। আর এ নিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। আইন ও করা হয়েছে কঠোর। অথচ কোনভাবেই মিলছেনা প্রতিকার। ফলে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে।
গত রবিবার ১৩ ঘণ্টায় দেশের ৭টি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ১৬ জন মানুষ। বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্ট হিসাবে গত ৬৪১ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জন। এই সব অপমৃত্যু অনিবার্য ছিল না, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনাও নয় যে এ বিষয়ে মানুষের কিছু করার নেই। বিশেষজ্ঞরা সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করেছেন, কী কী উপায়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব, সে বিষয়েও তাঁদের অনেক সুপারিশ আছে। কিন্তু বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশসহ সরকারি যেসব সংস্থার ওই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করার কথা, তারা এ বিষয়ে ফলপ্রসূ কিছু করে না। চালকদের ভুয়া লাইসেন্স দেওয়া কমেনি, চলাচলের অনুপযোগী যানবাহনগুলো সড়ক-মহাসড়ক থেকে তুলে নেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেই। চালকের দোষে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটলে সেই চালকের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত করা হয় রাজনৈতিক প্রভাবে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি যেন এক অপ্রতিকার্য সমস্যা হিসেবে স্থায়িত্ব লাভ করেছে। এত বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, দাবি-দাওয়া, সুপারিশ, পরামর্শ, আইন সংশোধন সত্ত্বেও সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হচ্ছে না। সরকারের যেসব সংস্থার এ বিষয়ে অনেক কাজ করার আছে, তারা যেন তাদের দায়িত্ব ভুলে গেছে। কিংবা তারা ধরেই নিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করার ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। কিন্তু এভাবে অনন্তকাল চলতে দেওয়া যায় না। এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই? আমরা মনে করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দোষী চালককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবেই সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে নিরিহ প্রাণ রক্ষাসহ নিরাপদ সড়কের শ্লোগানটি কার্যকর হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ