খুলনা | শুক্রবার | ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫ |

খুলনা পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিন

২৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

খুলনা পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিন

খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে হয়রানির শেষ নেই। নতুন পাসপোর্ট তৈরি, নবায়ন, সংশোধন, ডেলিভারী, কাগজ যাচাই ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ সর্বক্ষেত্রেই ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে দালাল ছাড়া যারাই পাসপোর্ট করতে আসে তাদেরই মূলত হয়রানি করা হয়। সাধারণভাবে পাসপোর্ট করতে ব্যাংক ফি বাবদ ৩৪৫০ টাকা লাগে। তবে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করালে হয়রানি এড়ানো সম্ভব হয়। আর পাসপোর্ট অফিসের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনৈতিক সুবিধা না দিলে দূর-দূরন্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
খুলনা বিভাগীয়  পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারীর কারণে দালালদের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনা ঠিকই কিন্তু পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের ফরম পূরণে সামান্য ত্র“টি বিচ্যুতি হলে নানা ভোগান্তির শিকার  হতে হয়। অফিসের কতিপয় স্টাফ ও নিরাপত্তা কর্মীদের অসহযোগিতার কারণে এসব পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এদের সাথে দু’বার কথা বলতে গেলেই উত্তেজিত হয়ে উঠে। যে কারণে বাধ্য হয়ে গেটের বাইরে অথবা রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে ওঁৎ পেতে  থাকা ভদ্রবেশী দালাল ধরে কাজ করতে বাধ্য হতে হয় ভুক্তভোগীদের। দালালের নির্ধারিত টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান মেলে। আবেদনের ২৪ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট হাতে পায় অনেকে। অন্যদিকে টাকা নাদিলে হয়রানিতে পড়তে হয় ছবি তোলা, স্বাক্ষর ও অন্যান্য কাজে। পাসপোর্ট অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত আনসার ভিডিপির দাপটও এখানে রয়েছে। এদের নানা অজুহাতের কারণে আধা ঘণ্টার কাজ করতে দেরি হয় প্রায় ৪ ঘণ্টা। তবে টাকা দিলে কোনো সিরিয়াল ছাড়াই সরাসরি ছবি তুলে ১ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্টের কাজ শেষ হয়ে যায়। অফিসের দুর্নীতি দূর করতে পুরো ভবনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেটাও অনেক ক্ষেত্রে কাজে আসছে না। দালাল চক্রের সদস্যরা নানা বাহানায় ঠিকই অফিসের ভেতরে প্রবেশ করছে। অন্যথায় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টাকা দিয়ে আগে থেকেই সব কিছুর ব্যবস্থা করছে।
উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর নজরদারির কারণে পাসপোর্ট অফিসের কাজকর্মে কিছুটা গতি ফিরলেও কর্মচারীদের আচরণের খুব একটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। অফিসের ভেতরে দালাল না দেখা গেলেও ভবনের সামনের চায়ের দোকানে রীতিমতো আড্ডা বসে দালালদের। অফিসের ভেতরে রয়েছে নানা সমস্যা। অফিসটির বিভিন্ন শাখার গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। অফিসের ১০টি ইউপিএসের মধ্যে আটটি নষ্ট। দু’টি প্রিন্টারের একটি এবং একটি ফটোকপি মেশিন নষ্ট। ছবি তোলার কক্ষে এসি নষ্ট, তিনটি ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিনের দু’টি নষ্ট, ছবি তোলার ক্যামেরার একটি নষ্ট।
পাসপোর্ট অফিসটি বিভাগীয় অফিস হওয়ার পরও এখানে পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে তা ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে পাসপোর্ট প্রিন্ট করে এর পর খুলনায় পাঠানো হয়। এতে সময় লাগে বেশি। আমাদের অভিমত খুলনায় পাসপোর্ট তৈরির জন্য প্রিন্টিং প্রেস স্থাপন করা গেলে সময় সাশ্রয় হবে। আবেদনের অল্প দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। সম্প্রতি “দালালমুক্ত পরিসেবা” কার্যক্রম চালু হয়েছে ঠিকই। এতে কিছুটা গতি ফিরেছে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে। তবে কর্মচারীদের আচরনে উন্নতি, নষ্ট সরঞ্জাম মেরামতসহ প্রতিষ্ঠাটিতে বহিরাগত চায়ের দোকানে বসে থাকা দলালমুক্ত হলে ভোগান্তি অনেক লাঘব হবে এবং দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান হবে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ





নগরীতে পদ্মা তেল  ডিপোতে আগুন 

নগরীতে পদ্মা তেল  ডিপোতে আগুন 

১৮ জানুয়ারী, ২০১৯ ০০:৫৪