খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

উপকূলের বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরী 

২৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

উপকূলের বেড়িবাঁধের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরী 

বছরের পর বছর ভাঙছে বেড়িবাঁধ আর সেই ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে উপকূলীয় জনপদের মানুষ। বাধ ভাঙ্গার কারণে ভিটে-মাটি ছেড়ে অনেকেই অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। তবে প্রতি বছর প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি আর ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে যারা লোকালয়ে টিকে আছে তাদের জীবন কাটছে অবর্ননীয় দুর্ভোগ আর দুঃখ দুর্দশার মধ্যে দিয়ে। প্রতিনিয়ত বন্যা আর জলোচ্ছ্বাসের কারণে উৎপাদন হচ্ছে না ফসল। পাশাপাশি উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম চিংড়ি ঘেরও ভাসিয়ে নিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিকে ভাঙন রক্ষায় নেই কার্যকর টেকসই উদ্যোগ অন্যদিকে দুর্যোগকালীণ নেই তেমন ত্রাণ তৎপরতা। ফলে এলাকায় টিকে থাকার আশায় স্থানীয়রা ত্রানের পরিবর্তে চাইছে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ। যা এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলে ১২ মাসই নদী ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয় স্থানীয়দের। তবে শীতের মৌসুম এলে তারা একটু স্বস্তিতে বা শঙ্কা মুক্ত থাকে। কারণ শীত কালে নদীর জোয়ারের পানি তেমন বৃদ্ধি পায় না, বৃষ্টি ও কম হয়। যে কারণে বাকি ঋতুর চেয়ে সাচ্ছন্দ বোধ করে জনপদের মানুষ। কিন্তু শীতের মৌসুমটিও বাদ যাচ্ছেনা এখন। গত দু’দিন আগে শুক্রবার রাতে আশাশুনির চাকলার হাইলচর এলাকার পাউবো’র বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামটির নিম্নাঞ্চল ও ছোট বড় মাছের ঘের প্লাবিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাধটি মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বার বার জনানো হলেও সংশ্লিষ্ট পাউবো’র কাউকে পাওয়া যায়নি। 
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদে কপোতাক্ষ নদীর দু’পাড়ই দেশের অন্যতম ভাঙন প্রবণ এলাকা। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে এখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। বর্ষা মওসুমের আগেই এখানে ভাঙনের ফলে আতঙ্কে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। দুর্গম এ জনপদে নদী ভাঙন সমস্যার সমাধান কোন ভাবেই হচ্ছে না। সম্প্রতি হারেস খালী থেকে ৩০০ গজ পূর্বে জোড়শিং বাজার লঞ্চঘাট ও একটি স্লুইচ গেট নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ ছাড়া মহারাপুর ইউনিয়নের সুতিবাজার সংলগ্ন  স্লুইচ গেট ও কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা স্লুইচ গেট নদী ভাংগনে বিলীন হয়েছে। আশাশুনির প্রতাপনগর ও শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের  বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চলতি বছর এ ইউনিয়নের কোন বাধই ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়নি।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডরে প্রাণ হারায় উপকূলের ৭ হাজার মানুষ। ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বরের বন্যা, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের জলোচ্ছ্বাসের দুর্বিসহ স্মৃতিতে এখনও শিউরে ওঠেন ক্ষতিগ্রস্থরা। চলতি বছর উত্তর বেদকাশীর গাব্বুনিয়া, কয়রা সদর ইনিয়নের গোবরা এবং গত ২৩ অক্টোবর মদিনাবাদ লঞ্চঘাট সংলগ্ন ভেড়িবাঁধ ভেঙে প্লবিত হয়। এসব বাধ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নির্মাণ করে। বর্তমানে মদিনারাদসহ কয়রার ৬টি ইউনিয়নের পাউবো’র ভেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্যপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব বাঁধ গুলি জরুরী ভাবে মেরামত না করলে আবারও আইলার মত ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। প্রাকৃতিক রুদ্ররোষ থেকে বাঁচার জন্য এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরী বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ