খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

আবু নাসের হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা রোধ করুন

২৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

আবু নাসের হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা রোধ করুন

মাত্র ১০ টাকার বিনিময় খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে জনসাধারণের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে সমাজের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা স্বাস্থ্যসেবা মেলে। খুলনাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জটিল রোগের আরোগ্য লাভের আশায় এখানে আসেন রোগীরা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় একটা সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। আর প্রতিনিয়ত এ দালাল চক্রের তৎপরতা যেন  বেড়েই চলেছে। এ চক্রটির বিরুদ্ধে রোগীর সাথে আসা  লোকজনের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারবার দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও তাদের অপতৎপরতা কমছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
খুলনা আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে পুরুষ ও মহিলা মিলে কমপক্ষে ২৫ জন দালালের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। এদের হাতে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হতে হয় আউটডোর ও ইনডোরে আসা রোগীরদের। এ চক্রটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নানা কৌশলে জিম্মি করে রেখেছে। এদের দৌরাত্ম এতই বেশি যে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিলে বাইরে এসে লাঞ্ছিত, অপমানিত হতে হয়। ফলে অপদস্থ হওয়ার আশঙ্কায় দালাল চক্রের ভয়ে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা ।
বছর খানেক আগে র‌্যাব-৬ হাসপাতালে অভিযান চালানোর পর দালালদের দৌরাত্ম অনেকাংশে কমে যায়। তবে কেসিসির নির্বাচনের পর দালালরা আবারো সংবদ্ধ হয়ে একটি চক্র তৈরি করেছে। এ চক্রটি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের ভর্তি করা, রোগীদের ভাগিয়ে নেয়াসহ মহিলা দালালরা আউটডোরে রোগীদের দাঁড়ানো সিরিয়ালে রোগী সেজে দূর-দূরন্ত থেকে আসা রোগীদের টাকা, পয়সা, মোবাইল ফোন চুরি করাসহ নানা অপরাধ করে চলেছে। হাসপাতালটিতে রোগী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দালাল চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রোগীকে দালালদের নির্দ্ধারিত বাইরের ডায়াগস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এতে রোগীর ভুল পরীক্ষার ফলে অনেক সময় মৃত্যুও ঘটে। হাসপাতালটিতে রোগীর স্বল্প মূল্যে থাকার ব্যাবস্থা থাকলেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে রোগীকে সর্বশান্ত করা হয়। প্রতিদিন বিকেলে দালালরা ৫০ টাকা করে চক্রের এক নেতার কাছে জমা রাখে। পুলিশ ধরলে অথবা কোন সমস্যা হলে ওই টাকা দিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করা হয়। 
মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে আসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে। বিশেষ করে যারা অর্থ সংকটের কারনে বাইরে চিকিৎসা সেবা নিতে পারেনা, তারাই চলে আসে হাসপাতালটিতে। সেখানে যদি দালালদের খপ্পরে পড়ে কাড়ি কাড়ি টাকা গুণতে হয় তাহলে বেসরকারি হাসপাতাল আর সরকারি হাসপাতালের পার্থক্যটা কোথায়। দালালদের কারনেই সরকারের মহৎ উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অভিমত, জনগণকে স্বল্প খরচে নির্বিঘেœ চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষে হাসপাতালটিকে দালালমুক্ত করা খুবই জরুরী।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ