খুলনা | সোমবার | ২৫ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ |

চেয়ারম্যানের আবু বকর হত্যা রহস্য দ্রুত উন্মোচন হোক

২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০

চেয়ারম্যানের আবু বকর হত্যা রহস্য দ্রুত উন্মোচন হোক

ঢাকায় মনোনয়নপত্র নিতে এসে রহস্যজনকভাবে খুন হলেন বিএনপি’র যশোর জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর আবু (৬৫)। গত ১৮ নভেম্বর পুরনো পল্টনের একটি আবাসিক হোটেল থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এলাকার জনপ্রিয় এ নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বুড়িগঙ্গা নদী থেকে। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ গত সোমবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রেখে যান। 
আবু বকর আবু যশোর-৬ সংসদীয় আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছিলেন। সে জন্য গত শনিবার তিনি কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীসহ পুরানা পল্টনের হোটেল মেট্রোপলিটনে উঠেন। রবিবার রাত ৮টার দিকে তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। তার ঘন্টাখানেক পর স্বজনদের ফোন করে বলা হয়, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা অপহরণ করে তাকে নিয়ে যাচ্ছে। টাকা না দিলে হত্যা করা হতে পারে। অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা একটি বিকাশ নম্বরে দু’দফায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা বিকাশ করার পরও অপহরণকারীরা তাকে ছাড়েনি। পরদিন ১৯ নভেম্বর দুপুর ১টার দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর চর খেজুরবাগ বেবী সাহেব ডকইয়ার্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এর আগে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী পাঁচ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে গত বুধবার দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও আবু বকর আবুর নাম ছিল। তবে কারা কেন কিভাবে আবুকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা পুলিশ দিতে পারেনি।  
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আবু বকর আবু বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ২০০১ সাল পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে যশোর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি। বিএনপি’র পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, “বর্তমান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এজেন্সির মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কোন্দলের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
যে কোন মৃত্যুর ঘটনাই দুঃখজনক। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার এভাবে মৃত্যুর ঘটনা কেউ মেনে নিতে পারে না। বিশেষ করে একজন জনপ্রিয় নেতার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোন মোটিভ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারন সাধারণত অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকার জন্য অপহরণ করে থাকে, আর টাকা পেলে ভিকটিমকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর ভিকটিমকে খুন করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দ্বারা তার এভাবে মৃত্যু হয়েছে কিনা সেটিও ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের অভিমত চেয়ারম্যান আবু বকরের মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উন্মোচনের মাধ্যমে আসল অপরাধীদের আইনের কাঠগড়ায় আনা হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক অপরাধীদের ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ