খুলনা | বুধবার | ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

এপেন্ডিসাইটিস নিয়ে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫:০০

এপেন্ডিসাইটিস রোগটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। এপেন্ডিক্স আমাদের বৃহদান্তের একটি ছোট্ট অংশ। এপেন্ডিসাইটিস হলো ইনফ্ল্যামেশন/ইনফেকশন জনিত কারণে এপেন্ডিক্স-এর প্রদাহ। এই রোগের লক্ষণ সমূহ হলো: প্রথমে নাভির চারপাশে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, সময়ের সাথে সাথে যে ব্যথার তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং আস্তে আস্তে ব্যথা তলপেটের ডান দিকে সরে যায়। বমি বমি ভাব হয় বা বমি হতে থাকে। মারাত্মক ব্যথার ফলে রোগীর জ্বর জ্বর ভাব বা জ্বর হয় ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, পাতলা পায়খানাও হতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ অবস্থায় এন্টিবায়োটিক, ব্যথার ঔষধ, বমির ঔষধ ইত্যাদি নিলে ব্যথা সাময়িক ভাবে কমে যায়। সাধারণভাবে ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে এপেন্ডিসেক্টমি অপারেশন (এপেন্ডিক্স কেটে বাদ দেয়া) করিয়ে ফেলা হলো স্থায়ী সমাধান। কিন্তু ৭২ ঘন্টা পর এই অপারেশন করা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, ৭২ ঘন্টা পর এপেন্ডিক্স-এর ইনফ্ল্যামেশনকে ঢেকে ফেলার জন্য, আশে-পাশের পেটের নাড়ীর কিছু অংশ এবং তৎসংলগ্ন চর্বির একটা পর্দা (Greater omentum) এসে এপেন্ডিক্স-এর সাথে যুক্ত হয়ে একটা গোটার মতো তৈরি করে ফেলে এপেন্ডিক্স-সহ এই গোটাকেই তখন আমরা বলি এপেন্ডিকুলার লাম্প (Appendicular lump)। এই অবস্থায় অপারেশন করা অনুচিত। কারণ, এপেন্ডিক্স, গোটার মধ্যে নাড়ীর সাথে জড়িয়ে থাকার ফলে, অপেরেশনের সময় পেটের নাড়ী ফুটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে, যার কারণে মারাত্মক ইনফেকশন, ফিকাল ফিস্টুলা (অপেরেশনের জায়গা দিয়ে পায়খানা পেটের ওপর বেরিয়ে আসার পথ তৈরি হয়, যা একটি প্রাণঘাতী অবস্থা)-সহ সৃষ্টি হতে পারে নানা রকম জটিলতা।   
তাই এসব জটিলতা এড়াতে, এক্ষেত্রে  ইমার্জেন্সি অপারেশন না করিয়ে, সাময়িক ভাবে এন্টিবায়োটিক, ব্যথার ইনজেকশন চালিয়ে যাওয়া উচিত। সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থতা অনুভব করে। তারপর, কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ অপেক্ষা করে (এ সময়ের মধ্যে গোটা ছাড়িয়ে গিয়ে এপেন্ডিক্স মোটামুটি ভাবে তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে) এপেন্ডিসেক্টমি অপারেশন করিয়ে ফেলা ভালো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে, এপেন্ডিকুলার লাম্প থেকে এপেন্ডিকুলার এবসেস (এপেন্ডিকুলার লাম্পের মধ্যে পুঁজ জমে ফোড়া হওয়া) হতে পারে। এক্ষেত্রে রোগী কাঁপুনি দিয়ে প্রচন্ড জ্বর অনুভব করতে পারে এবং তলপেটের ডান পাশের ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে পারে। এটা একটা সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সি। এই অবস্থায় দ্রুত অপেরেশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করে দেওয়াই সাময়িক সমাধান।
এবার জানা যাক, এপেন্ডিসেক্টমি অপারেশন না করার প্রধান প্রধান সমস্যাবলী নিয়ে।
প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যা:
১) এপেন্ডিক্স ফুটা হয়ে পুঁজ, পায়খানা পেটের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া তারপর ভয়াবহ ইনফেকশন, ২) এপেন্ডিকুলার লাম্প, ৩) এপেন্ডিকুলার এবসেস, ৪) সেপ্টিসেমিয়া (রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়া) ইত্যাদি।
পরবর্তী পর্যায়ে সমস্যা:
Recurrent appendicitis (পুনরায় এপেন্ডিসাইটিস হওয়া)।
ধন্যবাদ ।

ডাঃ ফারুকুজ্জামান 
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এম আর সি এস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এম এস (সার্জারী)- বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারী বিভাগ। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০








ব্রেকিং নিউজ