খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুবলার  চরে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

মাহমুদ হাসান, মোংলা | প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৬:০০

আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুবলার  চরে ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব

সুন্দরবনের দুবলার চরে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ও উৎসবকে কেন্দ্র করে সেখানে বসবে সব ধর্মের মিলন মেলা। দেশী-বিদেশী হাজার হাজার দর্শনার্থী আর ভক্তদের আগমনে মেলা হয়ে উঠবে উৎসব মুখর। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে আয়োজক কমিটি। হরিন শিকার, কাঠ পাচার ও বন্যপ্রাণি পাচার রোধে বন বিভাগসহ প্রসাশনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জারি করা হয়েছে স্বঘোষিত রেট এলার্ট। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি র‌্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা টহল কার্যক্রম চালাবে রাস মেলায়।
বন বিভাগ ও রাস উৎসব আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, কয়েকশ’ বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে আলোরকোল এলাকায় এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস উৎসব উদযাপিত হয়। শুক্লপক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পার্থিব জীবনের কামনা বাসনা পূরণের লক্ষে সুন্দরবনের শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের তীরে দুবলার চরে এক নিবিড় পরিবেশে সমবেত হন। পূর্ণিমার জোয়ারের নোনাজলে স্নান করে পাপমোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রাস উৎসবে যোগ দিলেও কালের বিবর্তনে এখন তা নানা ধর্ম-বর্ণের লোকদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। 
সুন্দরবনের দুবলা ফরেস্ট স্টেশন থেকে জানায়, দুবলার চরের এ মেলায় লঞ্চ, ট্রলার ও নৌকাযোগে তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীরা এসে সমবেত হয়েছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে। একই সঙ্গে অসংখ্য বিদেশি পর্যটকও আসবে। উৎসবের সময় কুটির শিল্পের বিভিন্ন পন্যের পসরা সাজিয়ে বসে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী। এ ছাড়া নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। 
মংলার বেসরকারি পর্যটন কোম্পানি সাউদার্ন টুর’র পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, রাস উৎসবে যোগ দিতে এরই মধ্যে অনেক পর্যটক লঞ্চ, স্পিডবোট, জালিবোট ও ট্রালার সমূহ বুকিং করার কাজ সম্পন্ন করেছে। রাস উৎসবের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন জানান, তাদের পক্ষ থেকে এবার বেশ জমজমাটভাবে রাসমেলা উদ্যাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মেলায় মোংলাসহ সুন্দরবনের আটটি পয়েন্ট দিয়ে তীর্থযাত্রীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে। তিনি আরো বলেন, মেলায় প্রবেশকারীদের নির্দিষ্ট ফি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়ে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে পুরো মেলা এলাকা। নাশকতার কোন ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে নজর রাখবেন তারা। 
এদিকে, রাস উৎসব সামনে রেখে দর্শনার্থীর ছদ্মবেশে চোরাশিকারির দল হরিণ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে হরিণ শিকার রোধ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবন জুড়ে বন বিভাগ, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে জারি করা হবে অঘোষিত রেড এ্যালার্ট। হরিণ শিকাররোধে এরই মধ্যে বনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বন বিভাগের ১২টি দল। এ ছাড়া বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে বন বিভাগ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। 
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ শাহিন কবির জানান, রাসমেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন ও এর নিরাপত্তায় বন বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারও দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তাসহ হরিণ শিকাররোধে বনরক্ষীদের পাশাপাশি মেলায় র‌্যাব, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের টহল থাকছে।এ ছাড়া মেলায় চোরাশিকারিদের রুখতে দর্শনার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে পুণ্যস্নানের সময় কোনো পটকা ফোটানোও। 
এ ব্যাপারে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদ হাসান জানান, আজ ২১ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগর পারে রাস উৎসব, যা আগামী ২৩ নভেম্বর শেষ হবে। রাসমেলায় কোনো ভাবেই যেন হরিণ শিকার,বন্য প্রাণিপাচার ও বনজ সম্পদের ক্ষতি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এ বছর দর্শনার্থীদের জ্বালানি কাঠ সুন্দরবন থেকে সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে না। তীর্থযাত্রীরা কোনোরকম বনজ সম্পদ যাতে বিনষ্ট করতে না পারেন, সে জন্য নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ