খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ৯টি টিম গঠন

যশোরে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন 

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৫:০০

যশোরে নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন 


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী আচারণবিধি প্রতিপালনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ৯টি টিম গঠন করেছেন। এসব টিম প্রার্থীদের আচারণবিধি নিয়ন্ত্রণে জেলাব্যাপী কাজ করবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। 
আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করেছে। তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষ দিন। এর আগে দেশের সকল জেলা থেকে প্রার্থীদের প্রচারণারমূলক ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড ও দেয়াল লিখন মুছে ফেলার নিদের্শনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে যশোর জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরে মাইকিং করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগ্রহী সকল প্রার্থীদের শহরে নির্বাচনী প্রচারণামূলক সকল প্রচারপত্র অপসারণ করতে হবে। নতুবা সেটা নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী হবে ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ১৮ নভেম্বর ছিল এ নিদের্শনা বাস্তবায়নের শেষ দিন। অবশ্য এরই মধ্যে যশোর শহর থেকে নির্বাচনী সকল পোস্টার, ব্যানার ও প্যানাফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা শহরময় টাঙানো এসব প্রচার পত্র অপসারণ করেছে।
গত সোমবার যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও কোন প্রার্থীদের কোন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন চোখে পড়েনি। শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানামোড়, চৌরাস্তা, চিত্রামোড়, পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মোড়, ঈদগাহমোড়, হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রার্থীদের কোন পোস্টার ও ব্যানার চোখে পড়েনি। সব এলাকার দেয়াল ছিল পরিষ্কার। সব পোস্টার তুলে ফেলা হয়েছে। সবাই নিজ উদ্যোগেই এসব প্রচার পত্র সরিয়ে ফেলেছে। এ কারণে গোটা শহরকে ঝকঝকে আবর্জনামুক্ত দেখা গেছে। যদিও বিভিন্ন কোম্পানি ও কোচিং সেন্টারের পোস্টার সাঁটা ছিল এসব দেয়ালে।
এদিকে, যশোরে নির্বাচনী আচারণবিধি প্রতিপালনের জন্য জোরেসোরে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে তারা জেলাব্যাপী আচারণবিধি নিয়ন্ত্রণে ৯টি টিম গঠন করেছে। এসব টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তারাই নির্বাচনী আচারণবিধি ভঙ্গকারী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের জেল, জরিমানাসহ সকল আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর ও প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। এদিন প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণায় নামতে পারবেন। এর আগে কোন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলে তিনি আচারণবিধি লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন। 
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সকল উপজেলার এসি ল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাই এসব টিমের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন। সে হিসেবে জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে ২টি উপজেলা শার্শা ও চৌগাছায় এসি ল্যান্ডের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে ওই দু’টি উপজেলায় যশোর থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা গিয়ে কাজ করবেন। এছাড়া, যশোর সদর ও পৌর এলাকায় আরো দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ লক্ষে কাজ করবেন।
এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচারণবিধি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে ৬টি উপজেলার এসি ল্যান্ড নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া, বাকি দু’টি উপজেলায় এসি ল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় যশোর থেকে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে এ দায়িত্ব পালন করবেন।গত সোমবার সকালে তিনি নিজে এ কাজে শহর পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী আচারণবিধি লংঘনের কোন পোস্টার ও ব্যানার দেখতে পাননি। যদি কোন প্রার্থী প্রচারণা শুরুর তারিখের আগে এ কাজে এগিয়ে আসে তাহলে তার ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউকেই এ বিষয়ে ছাড় দেয়া হবে না।
বিষয়টি নিয়ে রিটারিং অফিসার ও  জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য। এ কাজে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনকারী যেই হোক না কেন তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ