খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিভাগের ৩৫টি আসনে মাত্র দু’টিতে সম্ভাব্য দুই নারী প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা

নারী নেতৃত্ব : উল্টো চিত্র খুলনাঞ্চলে!

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০৫:০০

দেশের শীর্ষ দুই রাজনীতিক ও জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী। সংসদের বিরোধী দলের নেতৃত্বেও নারী। জেষ্ঠ্য এ নারী নেত্রীদের সাথে জাতীয় রাজনীতিতে এগিয়ে আসছেন তারকা ও তরুণ নারী প্রার্থীরা। পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী প্রার্থী এবার মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। তবে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র খুলনা অঞ্চলের (বিভাগে) নারী নেতৃত্ব বিকাশে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণেচ্ছুক নারী প্রার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি শূন্যের কোটায়। খুলনা বিভাগের ৩৫টি আসনে মাত্র দু’টিতে দুইজন সম্ভাব্য নারী প্রার্থী মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, ১৯৭২ সালে খুলনার দৌলতপুরে শ্রমিক নেতা অধ্যাপক আবু সুফিয়ান সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। তারপর রাজনীতিতে সক্রিয় হন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির হাসিনা বানু শিরিন এ আসনে সর্বপ্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারপর ২০০৮ সালে আ’লীগের মনোনয়নে বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বিজয়ী হয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি আবার বিজয়ী হন। এবারের নির্বাচনেও তিনি আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। তবে অভ্যন্তরীণ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে তার। সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ছেড়ে দেয়া বাগেরহাট-৩ আসনে গত ১৪ জুন শপথগ্রহণ করেন হাবিবুন নাহার এমপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অবশ্যই ২০০৮ সালে রামপাল-মংলার ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন হাবিবুন নাহার। তাঁর রাজনীতির নিজস্ব বলয় নেই; স্বামীর রাজনৈতিক সঙ্গী হিসেবে স্বার্থক অর্ধাঙ্গী তিনি।
এ দু’জন ব্যতীত সরাসরি সংসদ সদস্য পদে সম্প্রতিকালে জাতীয় সংসদে বসেননি কেউ। তবে সংরক্ষিত আসনে সদস্য হতে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। ২০০০ সালে বাগেরহাটের চিতলমারীতে খুন হওয়ায় আ’লীগ নেতা কালী দাস বড়াল। পরবর্তীতে তার স্ত্রী এ অঞ্চলের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।
সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হ্যাপী বাড়াল বলেন, “তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে নারী নেতৃত্ব বিকশিত হচ্ছে না এ অঞ্চলে। রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েও সুযোগ-সুবিধার অভাবে নারীরা যে হারে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।”
নগর মহিলা দলের সভানেত্রী নারী নেত্রী সৈয়দ রেহানা ঈসাও অনুরূপ কথা বললেন। তিনি বলেন, “যোগ্য ও রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েও পরিমিত সুযোগ-সুবিধার অভাবে জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্য কম। রাজপথে আন্দোলনের পরও মূল্যায়ন কম। তবে অবহেলিত অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে; এখন জাতীয় রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের জয়জয়কার। যদিও খুলনা অঞ্চল সেদিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে।”
সূত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত আসনে আ’লীগের ৩৯, জাতীয় পার্টির ৬, জাসদের একজন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র তিনজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার বর্তমান সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বাইরে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য ছিলেন ২০ জন। তার মধ্যে আ’লীগের ১৮ জন। সংরক্ষিত সংসদ সদস্যদের নিজস্ব এলাকা নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কোনো এলাকার ‘দায়িত্ব’ দিয়েছিলেন।
আরও জানা যায়, অষ্টম সংসদে সংবিধানের দশম সংশোধনী পাস হয়। সেই সংসদেই সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী গৃহীত হয়, যেখানে নারী আসনসংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ৪৫। সবই করা হয় সরকারি দলের স্বার্থে এবং দলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়াতে, নারীসমাজের অগ্রগতির প্রয়োজনে নয়। নবম সংসদের ২০১১-এর ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। বেতন-ভাতা, শুল্কমুক্ত গাড়ি, বাড়ি করার জন্য রাজধানীতে প্লট প্রভৃতি সুবিধা যত বাড়ছে, সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ও মেয়াদ তত বাড়ানো হচ্ছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ