খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

গণতন্ত্র রক্ষায় অবাধ সুষ্ঠু  নির্বাচনই সবার কাম্য

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

গণতন্ত্র রক্ষায় অবাধ সুষ্ঠু  নির্বাচনই সবার কাম্য


জাতীয় নির্বাচনে আচারণবিধি তদারকির জন্য মাঠ পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়কে চিঠি দিয়ে অবগত করানো হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে গতকাল রবিবার থেকে নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণে সারা দেশে মাঠে নামানো হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এরই অংশ হিসেবে বিভাগীয় শহর খুলনাতেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার। একই সাথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধিক্ষেত্রও বন্টন করা হয়েছে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে। আচরণবিধি প্রতিপালনের লক্ষে নিয়োগ প্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। 
সারাদেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নানা উদ্বেগ আর উৎকন্ঠার পর সব দল যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। আর একটি অবাধ শুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচণের দিকে চেয়ে আছে সারা দেশবাসী। নির্বাচন কমিশনও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় এ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের দায়িত্ব নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন। তবে সময় বৃদ্ধির পরও খুলনায় প্রার্থীদের পোস্টার-প্যানা-ফেস্টুন পুরোপুরি অপসারন হয়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আবাসিক ভবন, দোকান, স্থাপনাসহ যানবাহন থেকে সম্ভব্য প্রার্থীর ছবি, পোস্টার, প্যানাসহ বিভিন্ন প্রচার সামগ্রী অপসারনে খুলনা ৬টি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। রবিবার রাত ১২টার পর ওই গুলো সরানো না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীরা কর্তব্য পালনে গাফিলতি করলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই এসব অপসারন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। 
একটা সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংবিধান ও আইন নির্বাচন কমিশনকে যেসব ক্ষমতা দিয়েছে, তারা সেটির কতটা প্রয়োগ করছেন বা করতে পারছেন তার ওপরেও নির্ভর করবে ভোট কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। খেলার মাঠের রেফারির মতো সংশ্লিষ্টদের গলায় বাঁশি এবং পকেটে কার্ড আছে। কিন্তু দেখা গেল রেফারি ফাউল হলেও কার্ড দেখাচ্ছে না বা বাঁশি বাজাচ্ছে না বরং পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। এতে খেলার মাঠে যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ থাকার কথা সেটি নিশ্চিত ব্যর্থ হবে। এ কারণে বলা হয়, একটি নির্বাচন কেমন হবে, তার পুরোটাই নির্ভর করে যে সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, তাঁরা নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে কতটা আন্তরিক তার ওপর। সেই সঙ্গে নির্বাচনের যারা মূল পক্ষ, অর্থাৎ রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী, তাঁদের আচরণের ওপরেও নির্ভর করে ভোটের মাঠের পরিবেশ কেমন থাকবে এবং ভোটার সেটা বুঝতে পারবে। তখন অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের ওপর এক ধরনের নৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। আমাদের অভিমত নির্বাচন কমিশন যদি স্বচ্ছতার সাথে তাদের দ্বায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন আর তার সাথে সংশ্লিষ্টরা যদি সততার সাথে সেটা চর্চা করেন, তবেই একটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করা যায়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবেনা----

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

উৎসবমুখর নির্বাচন সবার কাম্য 

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

শীত কষ্টের না হয়ে উৎসবের হয়ে উঠুক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ