খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আত্মহত্যা একটি মহাপাপ

 মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫:০০

আত্মহত্যা বর্তমানে নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণে অকারণে উড়তি বয়সী যুবক-যুবতীরা এই কাজের স্বীকার, আল্লাহর দেয়া প্রাণ ও আয়ুস্কাল একটি মস্ত বড় নিয়ামত এবং আখিরাতের জন্য নেক কাজ করার সীমিত অবকাশ একে যারা স্বহস্তে খতম করে, তাদের উপর আল্লাহর লানত। আত্মহত্যা আরবীতে বলা হয় “ইনতেহার” যার অর্থঃ নিজেকে হত্যা স্বেচ্ছায় নিজেই নিজের জীবননাশ। এর ইংরেজী প্রতি শব্দ ‘Suicide’ যার অর্থ নিজেকে হত্যা করা বা  The action of killing oneself intentionally. অর্থাৎ ইচ্ছা করে নিজেকে বধ করাই হলো আত্মহত্যা। পরিভাষায় বলা হয়, “আত্মহত্যা হচ্ছে একজন নর কিংবা নারী কর্তৃক ইচ্ছা কৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ নাশের প্রক্রিয়া বিশেষ। মূলতঃ আত্মহত্যা হলো নিজে নিজকে হত্যা করা। এ প্রসংগে মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন, “তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর দয়ালু। আর সে ব্যক্তি বাড়াবাড়ি ও যুলুমের মাধ্যমে এ কাজ করবে, তাকে আমি আগুনে পোড়াবো। এ কাজ আল্লাহর পক্ষে সহজ (নিসা ঃ ২৯-৩০)।
আত্মহত্যার কারণ ঃ আত্মহত্যা করা হারাম ও জঘন্য মহাপাপ। একথা জানার পরও অতিরিক্ত রাগ যখন মানুষকে ঘিরে ফেলে ব্যক্তির উপর যখন শয়তান প্রভাব বিস্তার করে তখন এই ঘৃণিত কাজ “আত্মহত্যা” পথ বেচে নেয়। এই আত্মহত্যা সমাজের কারণ গুলো এখন আর রহস্য নয়, এর অনেকটাই প্রকাশ্য যা বিভিন্ন পত্র/পত্রিকায় দেখা যায়। নিম্নে কিছু কারণ তুলে ধরা হলো ঃ
(ক) নিজের কৃত ভুল কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। অনেকে আবার সামান্য অভিমান থেকেই আত্মহত্যা করে।
(খ) আবার কেহ কেহ অন্যের দ্বারা কষ্ট পেয়ে অপমানিত হয়েও আত্মহত্যা করে।
আত্মহত্যার পরিণাম ও প্রতিকার ঃ ইসলাম মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত ঘোষণা দিয়ে মানুষকে দিয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের প্রাণের মূল্য অনেক বেশী এবং জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করার প্রতি বার বার উৎসাহিত করা হয়েছে। অসুখ হলে চিকিৎসা করতে বলা হয়েছে। অন্যকে হত্যা করা যেমন মারাত্মক করিবা গুনাহ তেমনি আত্মহত্যা করাও কবিরা গুনাহ। মহান আল্লাহ্ তায়ালা এ প্রসংগে বলেন, “তোমরা নিজেদের কে হত্যা করনা। (সূরা নিসাঃ আয়াত নং : ২৯) অন্য স্থানে বলা হয়েছে, “তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের কে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিওনা (সূরা আল বাকারাহ ঃ ১৯৫)। 
পরিশেষে বলতে চাই, আসুন, আমরা সমাজের সবাইকে সচেতন করি, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীর প্রতি সুদৃষ্টি রাখি যে কোন সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। মহান আল্লাহ্ তায়ালা “আত্মহত্যার” হাত থেকে সবাইকে হিফাজত করুক। আমিন ছুম্মা আমিন।

লেখক: মুফাসসিরে কুরআন, প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ। শরণখোলা, বাগেরহাট।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

“তাওবা করার নিয়ম ও পদ্ধতি”

২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

চেয়ারে বসে নামায ও শরয়ী হুকুম

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

“শরীয় বিধানে দেনমোহর”

১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

যে আগে সালাম দেয় সে অহংকার মুক্ত

০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

“অকাল মৃত্যু” একটি ভ্রান্ত ধারণা

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:১২


রহস্যময় আবে যমযম কূপ

রহস্যময় আবে যমযম কূপ

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৯

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

পবিত্র আশুরা  ২১ সেপ্টেম্বর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্রেকিং নিউজ