খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রিটার্নিং অফিসারকে ১২ দফা প্রস্তাব নগর বিএনপি’র

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও শঙ্কামুক্ত করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০:০০

জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও শঙ্কামুক্ত করার দাবি


অবাধ সুষ্ঠু ও ভীতিমুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে খুলনা রিটার্নিং অফিসারকে ১২ দফা প্রস্তাব দিয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছে নগর বিএনপি। গ্রহণযোগ্য ও শঙ্কামুক্ত নির্বাচনের দাবিতে গতকাল বুধবার এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়। রিটার্নিং অফিসার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট ৭ দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনের একপর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নেবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবর্তে ভোট ডাকাতি, সন্ত্রাস, প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ, প্রশাসনকে অসৎ ব্যবহার বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের উপর দমনপীড়ন করে নির্বাচনী মাঠ থেকে বিরোধী দলকে সরিয়ে দেয়া, কেন্দ্র দখল করে রাতে ও দিনে সীল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, প্রতিদিন নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন করা, ভীতি প্রদর্শন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারি দলের নিদের্শনায় চলতে বাধ্য করা সরকারি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিরোধী দলের বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়া প্রভৃতি ঘটনায় নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি ভোটারদের অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দেড় মাসে খুলনায় ১৮ গায়েবি মিথ্যা মামলা করে আড়াই হাজার নেতা-কর্মীকে  আসামি করে ১৫৯ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার অভিযানে আমাদের কর্মীকে না পেয়ে পরিবারের সদস্য পিতা-ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্দয় আচরণে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী বাড়ি ছাড়া এলাকা ছাড়া। বিএনপি খুলনাসহ সারাদেশে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতির কোন কাজই করতে পারেনি অথচ সরকারি দলের প্রধান হেলিকপ্টারে চড়ে গত ১ বছর সারাদেশে জনসভা করে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। সরকারি দল সভা সমাবেশ মিছিল করে প্রচারণা চালিয়েছে, নির্বাচনী ওয়ার্ড কমিটি, সেন্টার কমিটি, পুলিং এজেন্ট তৈরি ও ট্রেনিং প্রোগাম করেছে অথচ আমাদের গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। ওয়ার্ড থানা বিএনপি অফিস খুলতে দেয়া হয়নি। ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে আমাদের থাকতে হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে উপস্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ হল-নির্বাচনে প্রস্তুতি কাজের জন্য আরও তিন সপ্তাহ পিছিয়ে দিয়ে নির্বাচনী তফশীল পুনঃনির্ধারণ, গ্রেফতার অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার ও কারাগারে আটক নেতা-কর্মীদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও  সকলের সমান সুযোগ সৃষ্টি; দল নিরপেক্ষ নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ, বিশেষ করে গত মেয়র নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে সহায়তাকারীদের নির্বাচনের বাহিরে রাখা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ রাখা ও মাঠ পর্যায়ে ঢেলে সাজানো এবং সরকারিদের দলের নির্দেশ মান্য না করায় নির্দেশনা দেয়া; প্রতীক না দেয়া পর্যন্ত সরকারি দলের প্রচারনা, মহড়া, মোটরসাইকেল র‌্যালি বন্ধ করা, কোন পর্যায়ে  ইভিএম ব্যবহার না করা; ভোটারদের নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ; প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালানো, কালো টাকা দিয়ে ভোটকে প্রভাবিত না করতে পারে তার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, সম্ভাব্য প্রিজাইডিং এবং পুলিং অফিসারদের বাড়ি যেয়ে আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি করছে এবং তাদের উপর নজরদারী করছে তা বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্বাচন আচরন বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেবার প্রস্তাব করেছে বিএনপি।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিতি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, মীর কায়ছেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, মোল্লা আবুল কাশেম, শাহজামাল বাবলু, রেহেনা আক্তার, স ম রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, আরিফুজ্জামান অপু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মহিবুজ্জামান কচি, ইকবাল হোসেন খোকন, ইউসুফ হারুন মজনু, মুর্শিদ কামাল, মাসুদ পারভেজ বাবু, একরামুল কবীর মিল্টন, একরামুল হক হেলাল, হাসানুর রশীদ মিরাজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, নিয়াজ আহমেদ তুহিন, হাফিজুর রহমান মনি, শরিফুল আনাম, জহর মীর, অধ্যাপক শফিকুল আলম, কাজী মাহমুদ আলী, বাবু মোড়ল, ইমতিয়াজ আলম বাবু, মোস্তফা কামাল ও সরদার ইউনুচ আলী প্রমুখ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ