খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না : মহাসচিব  

সরকার উন্নয়নের কথা বললেও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে ভয় কেন : চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:১১:০০

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকার উন্নয়নের কথা বললেও সুন্দর পরিবেশে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে ভয় কেন পাচ্ছে। তাহলে বোঝা গেল সকারের উন্নয়নে বাংলার জনগণ খুশি হতে পারেনি। 
গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুন নূর মসজিদ চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায়, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। 
চরমোনাই পীর  সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জোয়ার যখন শুরু হয় তখন প্রথম বাঁধের মাধ্যমে জোয়ারকে থামানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জোয়ার যখন বাড়তে থাকে তখন বড় পাহাড়ের মতো বাঁধের মাধ্যমেও জোয়ারকে থামানো যাবে না। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এখন তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স ৪৭ বছর হয়ে গেল। যাদের মাধ্যমে দেশ চলছিল এবং বর্তমানে চলছে, বার বার তাদেরকে আমরা ক্ষমতায় উঠালাম এবং ক্ষমতা থেকে নামালাম। এই ৪৭ বছরে আমরা এদের থেকে কি পেলাম এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এখন যেদিকে তাকায় সেদিকেই হতাশ এবং অশান্তির আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলছে। স্বাধীনতার বয়স এই ৪৭ বছর পরেও আজকে বাংলাদেশের মানুষকে একটি নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আজকে তাদের রাজপথে সংগ্রাম করতে হবে এটা আমাদের ভাবতেও লজ্জা হয়, বলতেও লজ্জা হয়। ৫ অক্টোবর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জাতীয় মহাসমাবেশে থেকে ১০ দফা দাবি জানিয়ে ঘোষণা করেছিল। সেই দাবি সর্বমহল স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রপতির কাছেও দাবিগুলো পেশ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান সরকার বিভিন্ন তালবাহানার মাধ্যমে আজকে সমস্ত বাংলাদেশের সিংহ মানুষের মনের যে একটা চাহিদা, মনের ব্যথাকে গুরুত্ব না দিয়ে সে তার একক সিদ্ধান্ত বলে দেশকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে। 
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে যখন জোরালো কোন ব্যক্তিগত নীতি আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে, তখন তার ধ্বংস বাংলার জমিনে ভিতরে হয়ে গেছে। সেই হিসেবে আমরা আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় জন্য বার বার বলছি আপনার উন্নয়নের ফুলঝুড়ি কথা বললেও মনে রাখবেন আপনি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের মনকে জয় করতে পারেননি। বাংলাদেশের জনগণের মনে আপনি শান্তি নিয়ে আসতে পারেননি, মনের উন্নয়ন ঘটাতে পারেননি। আজকের রাস্তা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে। আমরা রাস্তার শান্তি চাই না, আমরা চাই আজকে বাংলাদেশের মানুষ যখন রাস্তায় নামবেন তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরবেন। মা-বোনরা যখন রাস্তায় যাবেন তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু আজকে আমরা লক্ষ্য করছি যখন রাস্তায় নামা হয়, রাস্তা থেকে মানুষ গুম হয়ে যায়। কিছুদিন পরে লাশ পরিচয় দিয়ে তাদের সন্ধান মেলে। আজকে যখন মানুষ ঘরে থাকে তখন খুন হয়ে যায়, আজকে মায়ের পেটের বাচ্চাটাও গুলিবিদ্ধ হয়ে যায়। আজকে মানুষের মনে অশান্তির আগুন ধাউ ধাউ করে জ্বলছে। 
তিনি বলেন, যখন বাংলাদেশের মানুষ দেখবেন তারা তাদের মনের ও পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে না, তারা তাদের স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও ব্যক্ত করতে পারছে না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন করেই ঘরে ফিরেছিল। আমাদের যুদ্ধ করার অভ্যাস রয়েছে, আমাদের জান, মাল ও রক্ত দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যে, দেশ রক্ষার জন্য যদি প্রয়োজন হয় আমাদের জান, মাল ও রক্ত বিসর্জন দিয়ে হলেও ফিরিয়ে আনবো। দেশে সর্বপ্রথম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক ভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। তিনি মঞ্চে উপস্থিত খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ছয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন।   
দলের মহাসচিব ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ বলেন, আমাদের ১০ দফা দাবি তোয়াক্কা করা হয়নি। এদেশে যে সরকার এসেছে তারা নামতে চায় না ঠিকই কিন্তু থাকতেও পারে না। বর্তমান সরকার যদি আশা করে থাকে তালবাহানার মাধ্যমে সবকিছু ম্যানেজ করে চিরকাল টিকে থাকা যাবে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। অতীতের অনেক সরকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। দাবি করেছিলাম এই তফসীল ঘোষণার আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের। দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। দাবি করেছিলাম সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রি পাওয়ার দিয়ে মোতায়েন করা হোক। কিন্তু দেওয়া হয়নি। এটার মধ্যে একটি তালবাহানা রয়েছে বলে মনে করি। ইভিএম পদ্ধতিতে দেশবাসী অভিজ্ঞ নয় আপনারা বিবেচনা করেন। কিন্তু বিবেচনা করা হয়নি। আজ চতুর্দিকে হাতপাখার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় বক্তারা আজকের জনসভা ডাকবাংলা সোনালী ব্যাংক চত্বরে করতে না দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। 
জনসভায় দলের মহানগর সভাপতি ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হকের সভাপতিত্বে এবং নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, নগর জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা ইমরান হুসাইন ও জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারী ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল। 
জনসভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, নগর সহ-সভাপতি মাওলানা মুজাফ্ফার হোসাইন, জেলা সহ-সভাপতি ও খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওঃ আবু সাঈদ, মাওঃ রেজাউল করীম, নগর সেক্রেটারী মুফতী আমানুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারী শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, সৌদিআরব শাখার সেক্রেটারী মাওঃ হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব, মোঃ গোলাম মোস্তফা সজিব, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, আবু গালিব, মোঃ তরিকুল ইসলাম কাবির, মাওঃ হারুন-অর-রশিদ, মোঃ আব্দুর রশিদ, শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, মোঃ রবিউল ইসলাম তুষার, মুফতী আব্দুর রহমান মিয়াজী, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওঃ মুজিবর রহমান, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, এড. কামাল হোসেন, হাফেজ মুস্তাফিজুর রহমান, মাওঃ দ্বীন ইসলাম, মাওঃ আব্দুস সাত্তার হালদার, মুক্তিযোদ্ধা জিএম কিবরিয়া, আমজাদ হোসেন, মোঃ হযরত আলী, আবু তাহের, মোঃ মিজানুর রহমান, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, মোঃ কামরুল ইসলাম, মুফতী তৈয়েবুর রহমান, মুফতী আওসাফুর রহমান, মোঃ তোফায়েল, মোঃ ইসমাঈল হোসেন, মোঃ টুটুল মোড়ল, জাহিদুল ইসলাম, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওঃ গাজী নূর আহম্মদ, মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মোঃ নুরুল হুদা সাজু, মোঃ ইসমাইল হোসেন, মাওঃ তৌহিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ ইমরান হোসেন মিয়া, হাফেজ নাজিম ফকির, মোঃ মাহমুদুল হক তানভীর, এইচ এম জুনায়েদ মাহমুদ, ছাত্র নেতা মুহাঃ ইসহাক ফরিদী, শেখ মুহাঃ আমিরুল ইসলাম, মোঃ হাসানুজ্জামান, মুহাঃ সাইফুল ইসলাম, এসকে নাজমুল হাসান, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, শেখ মুহাঃ নাজমুল হুদা, মুহাঃ কাজী আল আমিন, আব্দুস সালাম জায়েফ, মোঃ নাজমুস সাকিব  আব্দুল্লাহ আল নোমান প্রমুখ।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ