খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোন বিশ্বাস মেলেনি : রিজভী

মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরা লিখেছে : ফখরুল

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৪:০০

বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে কারাগারে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি নেতা বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেয়নি; বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেরা ছাড়পত্র লিখে নিয়েছে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কারাগারের সামনে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন বিএনপি’র মহাসচিব।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আমরা দেখেছি। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি হুইল চেয়ারেও ঠিকমতো বসতে পারছেন না। তাঁকে হুইলচেয়ারে নিয়ে আসা হয়েছে। তার মধ্যেও তাঁকে জোর করে আদালতে বসিয়ে রেখে কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। এটি খুবই অমানবিক। আমরা এটার নিন্দা করছি। এবং অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি করছি।’ ‘খালেদা জিয়ার যাঁরা চিকিৎসা করছেন, তাঁরা বলবেন, তিনি সুস্থ কি সুস্থ না। তাঁরা বলেছেন, তিনি এখনো চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁকে এখনই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া সঠিক নয়,’ যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
পরে বিএনপি’র চেয়ারপারসনের সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, ‘গাড়ি থেকে নামাতে তাঁকে (খালেদা জিয়াকে) অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। উনাকে নামাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাশতে কাশতে তিনি আদালতে গিয়েছেন।’
এর আগে চিকিৎসা না দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তার চিকিৎসার জন্য আদালতের নির্দেশনা ও মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশকে লঙ্ঘন করে সরকার দেশনেত্রীকে আজ হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, তার চিকিৎসা শুরুই হয়নি, কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, আর সেই মুহূর্তে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণ করা শুধু মনুষ্যত্বহীন কাজই নয়, এটি সরকারের ভয়ঙ্কর চক্রান্ত।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার ডাক্তার ও তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য সৈয়দ আতিকুল হকের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন। ডাক্তার আতিক খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছুটির ছাড়পত্র দেননি এবং মেডিকেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাক্তার জলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে, এমতাবস্থায় সরকারের নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খালেদা জিয়ার ছাড়পত্র দিতে বাধ্য করতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে প্রেরণ দেশনেত্রীর জীবনকে বিপন্ন করার অথবা শারীরিকভাবে চিরতরে পঙ্গু করার চক্রান্ত সরকারের কুৎসা সঞ্চারিত মনের বিকার।
বেগম জিয়া সুস্থ হোক, এটি বিদ্বেষ প্রবণ সরকার কখনো চায় না। তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে লাগাম ছাড়া ক্রোধে এই অবৈধ শাসকগোষ্ঠী এখন তার জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এটি শেখ হাসিনার হিংস্র আচরণেরই চরম বহিঃপ্রকাশ। অহংকার, উন্মত্ততা, হিংসা ও দখলকৃত ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার নির্লজ্জ লড়াই চালাতেই বিচার বুদ্ধি হারিয়ে সরকার খালেদা জিয়ার জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারের সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে বলেই দেশের বিপুল জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নিপীড়ন। সরকারের পাতানো পথে বিরোধী দলকে নির্বাচন করতে বাধ্য করানোর জন্যই সরকার দেশনেত্রীকে নিয়ে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় মেতে উঠেছে। তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে সরকার। চিকিৎসা শেষ না করেই পিজি হাসপাতাল থেকে দেশনেত্রীকে কারাগারে প্রেরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দেশনেত্রীর চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি রাখতে হবে। না হয়, জনগণ আর বসে থাকবে না। দেশনেত্রীকে বিপর্যস্ত করার যেকোন ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করতে এবারে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হলেও প্রতিরোধ করবে।
রিজভী আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে সংলাপকালে কথা দিয়েছিলেন-নতুন মামলা দেয়া হবে না, গ্রেফতার করা হবে না এবং প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের কোন বিশ্বাস মেলেনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ