খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তেরখাদার কিশোরীকে মোল্লাহাটে গণধর্ষণ : এলাকায় চাঞ্চল্য

মোল্লাহাট প্রতিনিধি | প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০:০০

মোল্লাহাটে পৃথক দুই দল যুবক কর্তৃক এক কিশোরীকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে গণধর্ষণ অতঃপর উল্লাস করেছে। ঘটনা জানাজানি হয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভয়ে মামলা করতে চাইছে না ভিকটিম পরিবার। অবশ্য থানা পুলিশ বলছে ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত নন। উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে পৈশাচিক এ ঘটনা ঘটে। 
অসহায় ভিকটিম, তার পরিবারবর্গ এবং রোমহর্ষক এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবকের সাথে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানায়, তেরখাদা উপজেলার ধানাখালী গ্রামের অত্যন্ত গরীব-অসহায় পরিবারের এ কিশোরীর (১৫) মা প্রায় ১০/১২ বছর পূর্বে মৃত্যু বরণ করেন। পরে তার পিতা দ্বিতীয় বিয়ে করায় সৎ মায়ের কাছে সে বড় হয়। গত মঙ্গলবার উক্ত  কিশোরী রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঢাকার যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোল্লাহাট উপজেলার জয়ডিহি বাসস্ট্যান্ডে আসে। সেখান থেকে সে মহাসড়ক দিয়ে ভ্যান যোগে মোল্লাহাটের দিকে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে রাত ৮টার দিকে কাহালপুর পশ্চিপাড়া এলাকায় পৌছালে পাঁচ জনের একদল যুবক জোরপূর্বক মেয়েটিকে মুখ চেপে ধরে জনৈক আয়ূব শেখের ঘেরের পাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ খবর পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে সাত জনের আর একদল লম্পট। এ দলটি প্রথম দলের কাছ থেকে মেয়েটিকে ছিনিয়ে নেয়। এ সময় মেয়েটি কিছুটা আশ্বস্থ হয় তাদের সহযোগিতায় মুক্তি চায়। তখন তারা কিশোরীকে আশ্বস্ত করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বিশাল এক বাগানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে রাত সাড়ে দশটার দিকে মেয়েটিকে ওই বাগানে রেখে তারা চলে যায়। এ সুযোগে অসুস্থ কিশোরী বাগানের অদূরে জনৈক রফিক মহুরীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় চায়। মহুরী রফিক ভিকটিমের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে নিজের চাচাকে মোবাইল ফোনে ডেকে বাড়িতে নেয়। রফিকের চাচা ভিকটিমকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে কিশোরীর আত্মীয়-স্বজনদের মোবাইলে খবর দেন। খবর পেয়ে ওই রাত দুইটার দিকে তার পিতা ও স্বজনরা এসে অসুস্থ ভিকটিমকে বাড়িতে নিয়ে যায়। ভিকটিমের পিতা জানান, মানসম্মান ও জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তারা মামলা করতে চান না। 
এ বিষয়ে লম্পট দলের সদস্য দুলাল নিজেকে নিরাপরাধ দাবী করে জানায়, অপর একটি দল মেয়েটিকে ধরে এনে ধর্ষণ করছিল। সে মোবাইল ফোন পেয়ে তার লোক-জন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উলঙ্গ অবস্থায় পায়। মেয়েটি তখন তার কাছে কান্না-কাটি করে সাহাজ্য চাইছিল। সে মেয়েটির কোন ক্ষতি করেনি দাবি করলেও তার সাথে থাকা ছেলেরা মেয়েটির কাছে গেছে বলে সে স্বীকার করে। বরকত আরো জানায়, তার সাথে যারা ছিলো তারা হলো টুকু মোল্লার ছেলে উজ্জ্বল, রকিত মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা, ইব্রাহিম ফকিরের ছেলে সোহেল, হাসমত কাজীর ছেলে মোর্শেদ কাজী, সবুর ফকিরের ছেলে মারু ও রহমান গাজীর ছেলে সোহাগ। এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ কাজী গোলাম কবীর বলেন, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ