খুমেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে বাকবিতন্ডায় চোখ নষ্টের অভিযোগ 


ভুল অপারেশনে রোগীর চোখ নষ্ট করার অভিযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ আব্দুল মালেক খানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৬ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে (সিআর-১৬৬/১৮)। মামলাটি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মাসেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। 
গত ২ অক্টোবর খুলনা মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘ঙ’ অঞ্চলে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি নগরীর দোলখোলা লেন এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। অপারেশনের পর তার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।  
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর চোখে ছানি অপারেশন ও লেন্স স্থাপনের জন্য চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ২৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালের ২নং অপারেশন থিয়েটারে প্রফেসর ডাঃ আব্দুল মালেক খানের উপস্থিতিতে অপারেশনের কাজ শুরু হয়। বাচ্চু’র চোখ অপারেশন করাকালীন সময়ে ডাঃ আব্দুল মালেক খানের সাথে উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসকদের বাকবিতন্ডতা হয়। এক পর্যায়ে ডাঃ মালেক খান তার হাতে থাকা অপারেশনের যন্ত্রপাতি ছুরে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ পরে অন্যান্য চিকিসকরা ওটি টেবিলের রোগীর চোখের সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। তিনি তাৎক্ষণিক আর কোন চিকিৎসা না করে রোগী বাচ্চুর চোখে দ্রুত ব্যান্ডেজ করে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। পরদিন ২৯ জানুয়ারি বাদীর মা লিলিয়ারা বেগম ও স্ত্রী রোজি বেগমকে হাসপাতালে ডেকে আনেন ডাঃ আব্দুল মালেক খান। এ সময় তিনি বলেন, রোগীর চোখের লেন্স ভুলভাবে স্থাপন হয়ে গেছে’ কিন্তু কোন সমস্যা নেই। তিনি রোগীর স্বজনদের ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত বাংলাদেশ আই হসপিটাল এন্ড ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ডাঃ শাহানুর হাসানের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা দেরী না করে বাচ্চুকে নিয়ে ঢাকার ওই হাসপাতালে ডাঃ শাহানুর হাসানের কাছে যান। সেখানে বাচ্চুর চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর স্বজনদের ডেকে ডাঃ শাহানুর জানান, খুলনায় অপারেশনের পর বাচ্চুর চোখের ভিতরের এক প্রকার গ্লুকোজ ও তেল জাতীয় পদার্থ থাকে, যা বের হয়ে চোখ ছোট হয়ে গেছে। এছাড়া লেন্স যে রগের ওপরে নির্ভর করে দৃষ্টিশক্তি পায় সেই রগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এরপর সেখানে গত ৮ ফেব্র“য়ারি বাচ্চুর চোখের একটি অপারেশন করেন ডাঃ শাহানুর হাসান। দু’মাস পর ফের চোখ পরীক্ষার পর তিনি দেখেন রোগী বাচ্চুর ডান চোখটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। 
এ বিষয়ে এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, খুলনায় ডাঃ আব্দুল মালেক খান অপারেশন টেবিলে রেখে অন্যান্য চিকিৎসকদের সাথে বাকবিতন্ডা কালেই আমার চোখের ক্ষতি হয়েছে। আমার একটি চোখ এখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। ন্যায় বিচারের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছি।  
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর ডাঃ আব্দুল মালেক খানের টেলিফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। 
 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।