খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর

নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর 

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৫:০০

আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা গতকাল সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে সংসদ নির্বাচনের এই তফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ পেছাতে বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৩ দফা (৩) উপ-দফা (ক)-এর বরাতে এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করেন সিইসি।
তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ২৩ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এক যোগে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সিইসির এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও ভাষণ সম্প্রচার করা হয়।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘মতবিরোধ থাকলেও সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানাই। প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা আশা করি।’
নির্বাচনী প্রচারণায় সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, একথা উল্লে¬খ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র অনলাইনে দাখিল করা যাবে। সিইসি তাঁর ভাষণে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সিইসি কে এম নুরুল হুদা তার ভাষনে বলেন নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৭ লক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী থেকে ৬ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাদের মধ্যে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যগণ। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনী  মোতায়েন থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন জাতির উচ্ছ্বসিত প্রস্তুতির মধ্যখানে দাঁড়িয়ে প্রার্থী এবং তার সমর্থক নির্বাচনি আইন ও আচরণবিধি মেনে চলবেন। প্রত্যেক ভোটার অবাধে ও স্বাধীন বিবেকে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান, স্ব স্ব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহায়তা, পোলিং এজেন্টগণ ফলাফলের তালিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। নির্বাচনি কর্মকর্তাগণ নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে অটল থাকবেন। নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভোটকেন্দ্র, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনি কর্মকর্তা এবং এজেন্টগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত, গণমাধ্যম কর্মী বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও পর্যবেক্ষকগণ নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং তত্ত্বাবধানের আওতায় রাখবে। 
কে এম নুরুল হুদা তার ভাষনে আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়; নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়। এমন নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবারো আহ্বান জানান। তাদের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসা, প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণের অনুরোধ জানান সিইসি। তিনি সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হবে। প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনও প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখারও অনুরোধ জানান।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষনে সিইসি বলেন, ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন, তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে। দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী পুরুষভেদে সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে, ভোট শেষে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে অবস্থান করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে। সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লে¬য়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে। এসব নিয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় পরিপত্র জারি করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কমিশনের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নির্বাচনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি আদান প্রদান পদ্ধতি সংক্রান্ত সফটওয়্যার ও প্রোগ্রাম আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। সরাসরি অথবা অনলাইনেও মনোনয়নপত্র দাখিলের বিধানও রাখা হয়েছে। পুরাতন পদ্ধতির পাশাপাশি ভোট গ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগতমান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে। সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকা থেকে দৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে।
এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গত সোমবার ইসির সঙ্গে বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি করে। কারণ হিসেবে তারা বলেছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ চলছে। এর ফলাফল দেখে তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারে। ঐক্যফ্রন্ট বলেছে, সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা করা হলে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে।
এছাড়া জাতীয় পার্টি ও যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের তফসিল না পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গত বুধবার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার অনুরোধ করেন। যুক্তফ্রন্টের নেতা ও বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তফসিল ঘোষণার অনুরোধ জানিয়ে গত মঙ্গলবার ইসিকে চিঠি দেয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ