খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি : ‘আমি একা কেন, শেখ হাসিনা কোথায়’

খালেদা জিয়া ফের কারাগারে

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৩:০০

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করতে বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার এই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া আদালতে এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল গতকাল। বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার চত্বরে স্থাপিত ঢাকা বিশেষ আদালত-৯ নাইকো দুর্নীতি মামলার শুনানি আজকের মতো শেষ হয়েছে। এই আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবির মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন রেখেছেন।  
শুনানিতে খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাঁকেও এখানে হাজির করা উচিত। এ সময় বিচারক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাঁকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।’ এরপর এই মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। প্রথমে মওদুদ আহমদ গতকাল শুনানি না করার জন্য আদালতে একটি দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু আদালত সে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাঁকে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দেন।
আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে শুনানি পেছানোর আবেদন করলেও তা মঞ্জুর করেননি বিচারক মাহমুদুল কবির। পরবর্তী সময়ে আজকে মামলার আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে শুনানি শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন তিনিও সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু এর বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
এই পর্যায়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। পরে তিনি মুলতবি প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বয়স ৮১ বছর। আমি অসুস্থ। আমার যে জুনিয়র, তাঁর নানি মারা গেছেন। এই কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। মামলার সব কাগজপত্র তাঁর কাছেই রয়েছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মামলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমি আজকে মামলার মুলতবি চাচ্ছি।’
পরে আদালত আগামী ১৪ নভেম্বর (বুধবার) পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করেন। গতকালকের মামলার শুনানির সময় আদালতে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বিএনপি’র চেয়ারপারসনের সঙ্গে দলের মহাসচিব আদালতের ভেতর আধা ঘণ্টা মামলার বিষয়ে কথা বলতে চান উল্লেখ করে সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু বিচারক এই আবেদন মঞ্জুর করেননি। তিনি বলেন, ‘এই এখতিয়ার আমার নেই। আপনি প্রয়োজনে এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তিনি এ ব্যাপারে আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।’ 
এর পরই খালেদা জিয়াকে ভেতরে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসেবা শেষ না করেই তাঁকে জোর করে হাসপাতাল থেকে পুনরায় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি এখনো অসুস্থ। এটা নিন্দনীয়। এটা অমানবিক।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাচত্বরে গাড়িবহর পৌঁছায় দুপুর ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।  খালেদা জিয়া একটি অফ-হোয়াইট শাড়ি পরে হুইলচেয়ারে করে আদালত চত্বরে আসেন। তাঁকে এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা সহায়তা করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা ছিলেন। 
এদিকে, খালেদা জিয়াকে পুরোনো কারাগারে নিয়ে যাওয়ার পথে পথে ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়। বিভিন্ন বহুতল ভবনের ছাদেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নাজিম উদ্দিন রোডে বিশেষ নিরাপত্তা চৌকি দেখা যায়। গণমাধ্যম কর্মীদের কারাগারের ফটকের বেশ আগেই আটকে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
শুনানি থেকে বেরিয়ে এসে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, আজ (বৃহস্পতিবার) মওদুদ আহমদ ও খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষ হবে। কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কথা বলে সময় প্রার্থনা করেছেন। মওদুদ সাহেব নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডে নানা সময় ওই মামলায় সময় নিয়েছেন। আদালত আগামী বুধবার তাঁদের বক্তব্য শুনবেন। সেদিন আদালত অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আমরা আশা করছি।’
বিএনপি’র চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘মামলাটি আলিয়া মাদ্রাসায় বসত। গত (বুধবার) সন্ধ্যায় হঠাৎ করে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা আমার দরজায় লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তাঁর নিজের কিছু শুনানি করেছেন।’
খালেদা জিয়া অসুস্থ উল্লেখ করে সানাউল্লাহ মিয়া আরো বলেন, গাড়ি থেকে নামাতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। উনাকে নামাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে হিমশিম খেতে হয়েছে। কাশতে কাশতে তিনি আদালতে গিয়েছেন। দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত তিনি আদালতে ছিলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এর পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। গত ৪ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের প্রিজন সেলে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছিল।   
এর মধ্যেই গত ৩০ অক্টোবর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর একদিন আগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন কারাগার চত্বরে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত। সূত্র এনটিভি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ