প্যাকেটজাত শিশু খাদ্য গ্রহণে  অভিভাবকদের সতর্কতা জরুরী


প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবারের প্রতি ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে আমাদের দেশের শিশুরা। এতে তারা আক্রান্ত হচ্ছে নানা জটিল রোগে। প্রায় নিয়মিতই দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুলের সামনে বসা ফেরিওয়ালা কিংবা দোকান থেকে শিশুরা চকলেট, মালাই বরফ, আইসক্রিম, চাটনি ও বোতলজাত জুস কিনে খাচ্ছে। স্বাভাবিক খাবারের চেয়ে এসব খাবারের প্রতিই শিশুদের আকর্ষণ বেশি। শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এসব খাবারের সঙ্গে মেশানো হয় রাসায়নিক রং এবং সুগন্ধি, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে গ্রীষ্মের গরমে অনেক শিশু বায়না ধরে এক বোতল জুস খাওয়ায় জন্য। মায়েরা শিশুদের আবদার রক্ষার্থে জুস খাওয়ান। অথচ মায়েরা জানেন না, তাদের শিশুদের জুসের নামে বিষ পান করাচ্ছেন। কারণ জুস অথবা ফ্রুটজুসের নামে বোতলজাত কিছু পানীয় বাজারে সহজলভ্য হলেও প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে ডাই হাইড্রোক্লোরিন এবং স্যাক সুইটের সঙ্গে রঙিন পানির বিষাক্ত মিশ্রণ। যা শিশুদের জটিল থেকে জটিলতর রোগে আক্রান্ত করতে পারে। আশঙ্কার কথা হচ্ছে, টেলিভিশনের বিভিন্ন চ্যানেলে বিভিন্ন জুসের চটকদার বিজ্ঞাপনে শিশুরাই বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। অথচ বাজারজাতকৃত শতকরা ৯৮ দশমিক ৩০ ভাগ জুসে ফলের রস বলে কিছুই থাকে না। ঢাকার মহাখালীর আইসিডিডিআরবির ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এসব জুসে ফলের রস বিন্দুমাত্র নেই। আছে বিষাক্ত রং, যা কিডনি, পেটের পীড়া এমনকি ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত করে।
সম্প্রতি ভেজালবিরোধী অভিযানে দেশে খাদ্যে ভেজালের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা উদ্বেগজনক। খাদ্যে ভেজাল ঠেকানোর জন্য কঠোর আইন করেছে সরকার। যে আইনে তিন বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এর পরও নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খবার বাজারজাত বন্ধ হচ্ছে না। সরকারকে তাই এ ব্যাপারে যেমন সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, তেমনি ক্রেতা-ভোক্তাদেরও হতে হবে সচেতন।
শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পুষ্টিকর খাদ্যের সঙ্গে জড়িত। এ জন্য বর্জন করতে হবে বাজারের তৈরি খাবার। শিশুদের বোঝাতে হবে এসব খাবার আসলে অখাদ্য। শিশুদের মা-বাবা যদি সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন, তবে শিশুদের অনেক কঠিন রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।