প্রতিষ্ঠার ১১ বছরেও চালু হয়নি খুলনা নার্সিং কলেজ অথচ পাশেই নার্সিং ইনস্টিটিউটের নতুন প্রকল্প!



প্রতিষ্ঠার ১১ বছরেও চালু হয়নি খুলনা নার্সিং কলেজ। কাজ শেষ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে থেমে যায় এ কলেজের কাজ। পুনরায় কাজ শেষ করতে রি-টেন্ডারিং প্রক্রিয়া শেষ হয়নি এখনও। ফলে চলতি সেশনেও চালু করা যায়নি খুলনা নার্সিং কলেজ। অথচ পাশেই আবার নার্সিং ইনস্টিটিউট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জমি অধিগ্রহণের কাজ চূড়ান্ত করেছে গণপূর্ত বিভাগ। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনায় নার্সিং ইনস্টিটিউট একটি রয়েছে। সেখানে নার্সিং কলেজের কাজ সম্পন্ন না করে নার্সিং ইনস্টিটিউটের নতুন প্রকল্প হাতে নেয়া যুক্তিযুক্ত নয়। অতিস্বত্বর নার্সিং কলেজ চালুর তাগিদ দেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নার্সিং পেশায় উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুরার সাথে খুলনায়ও প্রতিষ্ঠা হয় খুলনা নার্সিং কলেজ। বয়রার কলাবাগান এলাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১০ একর জমির উপর ১৬ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ কলেজটির নির্মাণ কাজ থেমে যায় ২০০৯ সালে। সরকারের সাথে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বনিবনা না হওয়ায় দু’বছরের মাথায় কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন কনস্ট্রাকশন। তখন একটি একাডেমিক ভবন, একটি গেস্ট হাউজ, দুইটি হোস্টেল ও তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ কাজের অধিকাংশ স¤পন্ন করা হয়। এরপর পার হয়েছে প্রায় ১০ বছর। কলেজ পরিচালনার জন্য অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে জনবল পদায়ন করা হলেও এর অনেকে বর্তমানে অন্য প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত হয়ে দায়িত্ব্ পালন করছেন। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ ফার্নিচারই চলে এসেছে। তবে নির্মাণ হয়নি কলেজের সীমানা প্রাচীর। এদিকে কলেজের জানালা দরজা খসে পড়েছে। গ্রিল কেটে বেসিনসহ অন্যান্য সামগ্রী চুরি হচ্ছে নিয়মিত। ছাদসহ বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টার খসে পড়ছে। সন্ধ্যা হলে মাদকসেবী ও এলাকার উঠতি বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় পুরো এলাকাটি। কর্তৃপক্ষ বারবার বলছে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। আগামী সেশনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে। বছর জুড়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বারবার এ আশ্বাস দিলেও ভর্তির সময় এসে ফলাফল শূন্য। রি টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় ঝুলে আছে পুনঃনির্মাণ কাজ।
এদিকে একই স্থানে এবার নার্সিং ইনস্টিটিউটের নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। গণপূর্ত-স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের শাখাগুলো দফায় দফায় বৈঠক করছে নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য। জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় অতীব গুরুত্ব দিয়ে পাশেই জমি অধিগ্রণের কাজও প্রায় চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। 
সুজন খুলনা জেলা সম্পাদক কুদরত-ই খুদা বলেন, নার্সিং কলেজ খুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। অতীব জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ না করে একই ধরণের নতুন প্রকল্প সমীচীন নয়। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এমন হটকারি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সবার আগে নাসিং কলেজ চালু করা উচিত, তারপর অন্য প্রকল্পে হাত দেয়া উচিত।
গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, অতি দ্রুত নার্সিং কলেজের পুনঃ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) খুলনা বিভাগীয় সভানেত্রী শীলা রানি দাস বলেন, খুলনায় নার্সিং কলেজটি চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের কর্মরত নার্সদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়ায় গিয়ে বিএসসি নার্সিং কোর্স করতে হচ্ছে। তিনি অতি শিঘ্রই নার্সিং কলেজের সকল জটিলতা দূর করে তা চালুর ব্যবস্থা করার দাবি জানান।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।