খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০:০০

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজালে সয়লাব হয়ে গেছে সর্বত্র। জাল আর ভেজাল মিলেমিশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে তার থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আর এসব ভেজাল খাবার খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। যার নিরাময়ে যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে সেখানেও ভেজাল। বর্তমানে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ পেটের পীড়া, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, চর্মরোগ, হাঁপানি, লিভার ও কিডনিজনিত সমস্যার পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ক্রমবর্ধমান হারে। এসব রোগ নিরাময়ে ভেজাল ওষুধ খেয়ে আরোগ্য লাভ করা দূরের কথা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ আর কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে ‘ফাও’ তথ্য দিয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম অর্থাৎ শিশুরাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা হ্রাসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁঁকিতে পড়ার আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে। গর্ভজাত শিশু ও ঝুঁঁকিমুক্ত নয়। 
খাদ্য, পানি শুধু নয়, ওষুধ, এমনকি প্রসাধনীও আজ ভেজাল আক্রান্ত। বাস্তবতা আজ এমন যে, ভেজালমুক্ত খাদ্য পাওয়াই মুশকিল। এমনকি ক্ষতিকারক রং ও নানা রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে চালও। শুধু চাল নয়, গুঁড়া মরিচ হলুদেও ভেজাল। বাজারে চড়া দামে যে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে আয়োডিনযুক্ত বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে পরিমাণমতো আয়োডিন তাতে নেই। এমনকি আয়োডিনমুক্ত অধিকাংশ লবণ। বাজারে যে মাছ বিক্রি হচ্ছে তাতে ব্যবহৃত কীটনাশকের মধ্যে ৬০ শতাংশ চরম বিষাক্ত। ভোজ্যতেলে নানা উপায়ে ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক আর পেঁয়াজের রস মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘খাঁটি’ সরিষার তেল। বিভিন্ন ধরনের ফল পাকাতে ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন এবং ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এভাবে বিস্কুট, রুটি, সেমাই, নুডলসসহ মানুষের নিত্যদিনের প্রায় সব খাদ্যেই ভেজাল মেশানো হচ্ছে নানাভাবে। বোতলজাত বা মিনারেল পানির হালহকিকত তো আরও ভয়াবহ। বোতলজাত পানির বাণিজ্য বেশ রমরমা। কোনরকম পরিশোধন ছাড়াই নলকূপ থেকে প্লাাস্টিকের জারে পানি ভর্তি করে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বাসাবাড়িতে বিক্রি চলছে দেদার। এদের অধিকাংশেরই নেই বিএসটিআই’র অনুমোদন।
ভেজাল শনাক্ত করার নানা পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে দাবি করে কর্তৃৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি চরম ঝুঁঁকি বা হুমকির মুখে পড়লেও কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা নির্বিকার। আমাদের অভিমত, এসব দেখার জন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরী। ভেজাল ওষুধ, খাদ্য উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রয়কারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে বিপদ ক্রমশ বাড়বে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০