খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করবো : মঞ্জু

দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিতি দৃশ্যমান নয় বিএনপি’র জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীদের

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০:০০

অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে চরম দুঃসময়ে বিএনপি। কয়েকবার সরকারে থাকা দলটির পাশে এখন নেই সুবিধাবাদীরা। বিএনপি’র মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের দলের কর্মসূচিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি চোখে পড়ে না তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। অথচ, নির্বাচনের সময়ে সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে কেসিসি’র কাউন্সিলর, পৌরসভা মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হিড়িক লক্ষ্য করা যায়। এতে ত্যাগী নেতা-কর্মীরা বেশ ক্ষুব্ধ।
দলীয় সূত্রমতে, নাশকতার অভিযোগে মামলা, গণগ্রেফতার, বাড়ি-বাড়ি পুলিশী তল্ল¬াশীসহ নানাভাবে দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ বিএনপি। এসব কারণেই মূলতঃ দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিতি কমছে নেতা-কর্মীদের। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েক গজ দূরত্বে নগর ও জেলা বিএনপি’র পৃথক ব্যানারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে উপস্থিতি পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে তুলনামূলক কমছে। চোখে পড়ছে না বিএনপি’র মনোনয়নে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের। ২নং ওয়ার্ডে মোঃ সাইফুল ইসলাম, ৪নং ওয়ার্ডে কবির হোসেন কবু মোল্লা, ৬নং ওয়ার্ডে শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, ৭নং ওয়ার্ডে সুলতান মাহমুদ পিন্টু, ৮নং ওয়ার্ডে এইচ এম ডালিম, ১৮নং ওয়ার্ডে হাফিজুর রহমান মনি, ১৯নং ওয়ার্ডে আশফাকুর রহমান কাকন, ২০নং ওয়ার্ডে শেখ মোঃ গাউসুল আজম, ২৪নং ওয়ার্ডে শমসের আলী মিন্টু সরাসরি বিএনপি মনোনয়নে গেল কেসিসি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ মনিরুজ্জামান মনি বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর  হাফিজুর রহমান হাফিজ নির্বাচনের ক’দিন পূর্বে বহি®কৃত হন দল থেকে। আর প্যানেল মেয়র ও ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান বিশ্বাষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। 
দলীয় কর্মসূচি পালনকালে কয়েকজন ত্যাগী কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত কাউন্সিলররা দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিত না থাকায়। তাদের প্রশ্ন, “দলের সুসময়ের বন্ধুরা এখন দুঃসময়ে কই?”
এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, “কম ঝুঁকির সময়ে সুবিধাবাদী নেতাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। ওই সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্যানা টানানোর হিড়িক পড়ে। দুঃসময়ে যারা বিএনপি’র পাশে নেই তারা দলের আদর্শের প্রতি আনুগত্য নয়, তারাই সুবিধাবাদী।”
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “বিএনপি দেশের সর্বোবৃহৎ রাজনৈতিক দল; এ দলটি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের বিশাল প্লাটফর্ম। সকলকে সব কর্মসূচিতে আসার প্রয়োজনও হয় না। তবে প্রয়োজনে খুলনা বিএনপি নেতা-কর্মীরা ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ। এ দুঃসময়ে যারা দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, করছে ও ভবিষ্যতে করবে নিশ্চিয় ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। খুলনাবাসী তাদের ক্ষমা করবে না। আমরাও তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বয়কট করবো।”
অন্যদিকে, জেলা বিএনপি’র আওতাধীন পাইকগাছা ও চালনা পৌরসভা, নয়টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী থাকেন সহস্রাধিক। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভরাডুবি হওয়ায় কারচুপির করেছিল বিএনপি। শুধু পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ব্যতীত তেমন কোন জনপ্রতিনিধিত্ব নেই দলটির। তবে বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থীর শুধু নির্বাচন আসলেই পদচারণা দেখা যায় বলে অভিযোগ ত্যাগী নেতা-কর্মীদের। জাতীয় সংসদের খুলনা-১, ৪, ৫ ও ৬নং আসনও জেলা শাখার আওতাধীন। এসব আসনের খুব কম সংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থীকে দেখা যায় নিয়মিত কর্মসূচিতে।
জেলা বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “দলের নেতা-কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রতি মুহূর্তে গণগ্রেফতার আতঙ্কে কাটছে। এ অবস্থায় গ্রেফতার এড়িয়েও বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী কর্মসূচিতে আসছেন। তবে ইচ্ছা থাকার পরও অনেকেই আসতে পারছে না। অনেকেই বিভিন্ন মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন, রয়েছেন পলাতকও। তবে সুবিধাবাদী কিছু নেতা-কর্মী তো বর্তমান সময়ের ঝুঁকির বাইরে থাকবেন; সেটাও মেনে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।”
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বললেন, “জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। সরকার দলীয় নির্যাতন ও পুলিশী হয়রানি উপেক্ষা করে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে উপস্থিত হচ্ছেন। তবে হামলা-মামলা ও গণগ্রেফতারের কারণে একটু গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হয় নেতা-কর্মীদের। ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








ব্রেকিং নিউজ