খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জাপার চাই ১ ও ৬ আসন জাসদ ২ : জেপির ৩

খুলনায় আসন ভাগাভাগিতে টানাপোড়নে আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে খুলনার ছয়টি আসন ভাগাভাগিতে টানাপোড়ন চলছে ক্ষমতাসীন আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে। ক্ষমতাসীন দলটির পাশাপাশি জোট শরীকদের সম্ভাব্য প্রার্থীর দাবিও জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে খুলনায় ছয়টি আসনের মধ্যে খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) ও খুলনা-৬ (কয়রা-পাইগাছা) দাবি করছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, আবার জাসদের (ইনু) গ্র“পের সম্ভাব্য প্রার্থী চায় খুলনা-২ আসন। জেপির পছন্দ খুলনা-৩। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে জোটনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণায়।
গত রবিবার দিবাগত রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভাপতির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। আ’লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিকদের বৈঠক শেষে ১৪ দল মুখপাত্র আ’লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ কথা জানিয়েছেন।
সূত্রমতে, আগামী নির্বাচনে ১৪ দল শরিকদের কোন দল কত আসন চায়? এ বিষয় নিয়ে বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে-জানতে চাইলে মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, ১৪ দলের শরিকরা আসন বণ্টনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বিজয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছেন, ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক জাতীয় পার্টি (জাপা) খুলনার ছয়টি আসনেই সম্ভাব্যপ্রার্থী প্রস্তুত করলেও খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) ও খুলনা-৬ আসনে মহাজোটের সমর্থন চাইছে জাপা।
খুলনা-১ আসনের জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় এবং খুলনা-৬ আসনে একই দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু জোটের মনোনয়ন চাইছেন। 
আ’লীগের একাধিক নেতা জানান, খুলনা-১ আসনে আ’লীগের আত্মকোন্দল, জাতীয় পার্টির জোরালো দাবির কারণে আসনটিতে শেখ হাসিনা নির্বাচন করলেও অবাক হবেন না নেতা-কর্মীরা। আবার, জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ হোসেনের পছন্দ খুলনা-২ আসন। সর্বশেষ, ২০১৪ সালে বিএনপি’র নির্বাচন বয়কটের মধ্যে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান। পরাজিত হন জেপির নগর সভাপতি রাশিদা খাতুন। এবারের নির্বাচনে সংসদীয় আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়নের মধ্যে আছে ক্ষমতাসীনরা।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, “খুলনার ছয়টি আসনেই তিন-চারজন করে প্রার্থী নির্ধারণ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে জোটগতভাবে খুলনা-১ ও ৬নং আসন চেয়েছি। সেভাবেই নির্বাচনী প্রস্তুতি হাতে নিয়েছি।”
জাতীয় পাটি জেপি’র (মঞ্জু) কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান শরীফ শফিকুল হামিদ চন্দন বলেন, “জোটগতভাবে এবারের নির্বাচন হবে। তাই খুলনা-২ রাশিদা করিমকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। খুলনা বিভাগ থেকে আমাদের কোটায় একটি আসন দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে আমি খুলনা-৩ আসনে জোটের মনোনয়ন চেয়েছি। মনোনয়ন পাওয়ার শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।”
জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি মোঃ খালিদ হোসেন বলেন, “আমি জোটের কাছে খুলনা-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এখন যাদের প্রচার-প্রচারণা দেখছেন, এসব সঠিক নয়। এখনো কেন্দ্র থেকে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।”
১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, “দল যাকে যেখানে মনোনয়ন দেবে সকলকেই সেখানে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেহেতু জোটগতভাবে নির্বাচন হবে, সেহেতু জোটের সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে। মনোনয়ন দেবেন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জোটের শরীকরা তার কাছে চাইতেই পারেন; তবে মনোনয়ন ঘোষণা দেবার পর কেউ মনোনীত প্রার্থীর বিরোধীতা করতে পারবেন না।”

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








ব্রেকিং নিউজ