খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

০৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫:০০

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন। দশ সহস্রাধিক বর্গ কিলোমিটারের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। তাদের বেশিরভাগেরই জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এই বনের সম্পদের উপর। বনজীবিদের প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হয় বাঘ, কুমির, সাপসহ আরও অনেক হিংস্র প্রাণির। কিন্তু তার চেয়েও ভয়ঙ্কর  সুন্দরবনের বনদস্যু। স্বস্তির কথা হল, সুন্দরবনকে গত বৃহস্পতিবার ‘দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। গণভবন হতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাগেরহাটে বনদস্যুদের একটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসন বনদস্যুদের মোটিভেট করে এবং  তাদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তারা যদি আত্মসমর্পণ করে তা হলে সরকার তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করবে। যে কারণে পর্যায়ক্রমে বনদস্যুরা সরকারের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের উপকূলীয় এলাকাগুলি ঘিরে দস্যুতার ইতিহাস অনেক দিনের। সাতক্ষীরার শ্যামনগর হতে শুরু  করে খুলনার কয়রা, বাগেরহাটের শরণখোল, বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, হাতিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলেএ সব বনদস্যুদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। জেলেদের ট্রলার ছিনতাই করে তাদের আটক রেখে মুক্তিপণ আদায়, বিভিন্ন পেশার বনজীবীদের অপহরণ ও ডাকাতির মাধ্যমে বিভিন্ন দস্যুদল উপকূলীয় জেলাগুলিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।এমনকি এসব জনপদের নিরীহ মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, বাঘ-হরিণ শিকার ও পাচার, বনের বৃক্ষ কর্তন হতে শুরু করে বনজ সম্পদ চুরির ক্ষেত্রেও তাদের দাপট বিপুল। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী গডফাদারদের হাত। এই গডফাদাররাই হত দরিদ্র সাধারণ মানুষদের ইন্ধন দিয়ে বিপথগামী করে নিয়ে আসে দস্যুতার মত অন্ধকার জগতে। এই পথ চক্রব্যুহের মতো, একবার প্রবেশ করলে আর বের হওয়া যায় না সহজে।
উপকূলীয় অঞ্চলের দস্যুতা দমনের জন্য সরকার ২০১২ সালে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্নয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। পরে র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ২২৩টি অভিযানে অন্তত ১৩৫ জন সন্দেহভাজন বনদস্যু বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়, গ্রেফতার হয় পাঁচ শতাধিক বাহিনী প্রধানসহ তার সক্রিয় সদস্য। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ২০১৬ সাল হতে এখন অবধি ২৬টি দস্যুদলের ২৭৪ জন আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে ৫৪ জন এবং তাক্ষণিকভাবে প্রত্যেকে এক লক্ষ টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
বনদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ এক অর্থে তাদের হাতে চাঁদ ধরার মতো। আত্মসমর্পণকৃত দস্যুদের বয়ান হতে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় এই খারাপ অন্ধকার জগতে পা বাড়াননি। এইক্ষেত্রে বিগত দুই বছর ধরে সরকারের সাথে সমঝোতা করে সাধারণ দস্যুরা যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবার নিশ্চয়তা পেয়েছে, তখনই তাহারা এই অভাবিত সুযোগ লুফে নেয়। স্বাভাবিক জীবনে ফিরবার এমন সুযোগ দান এবং সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করবার জন্য সরকার অকুণ্ঠ সাধুবাদ পাবে নিশ্চয়ই। তবে আমরা মনে করি বনদস্যুদের পৃষ্ঠপোষক ও স্থানীয় গডফাদারদের ব্যাপারেও সরকারের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। যাতে আর কোন দস্যু বাহিনীর জন্ম না হয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০