খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

জেল হত্যা দিবসে জাতীয় চার বীরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ

০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫:০০

জেল হত্যা দিবসে জাতীয় চার বীরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ

আজ সেই ভয়াল-বীভৎস ৩ নভেম্বর। বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেক কলঙ্কিত দিন। চরম নির্মম ও নিষ্ঠুরতার সাক্ষী রক্তক্ষরা জেলহত্যা দিবস। এই দেশের আপমর জনতা যাদের নেতৃত্বে ও নির্দেশে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে মাত্র নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে স্বাধীন করেছিল। যারা মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে এদেশের মানুষকে একত্রিত করে বিজয়ের পতাকা উঁচিয়ে ধরেন। সেই চার নেতাকে চরম নির্মম ভাবে এই দিনে হত্যা করা হয়।
বাংলাদেশের যে কয়টি দিন চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, তার একটি ৩ নভেম্বর। যে কয়েকটি ঘটনা বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত অর্জনের পথে বাধা তৈরি করেছে, তার অন্যতমটি ঘটেছিল ১৯৭৫ সালের এই দিনে। বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করতে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ জাতির চার মহান সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচালক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্র“রা সেদিন দেশমাতৃকার সেরা সন্তান এই জাতীয় চার নেতাকে শুধু গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, কাপুরুষের মতো গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একাত্তরে পরাজয়ের জ্বালা মিটিয়েছিল। বাঙালিকে পিছিয়ে দিয়েছিল প্রগতি-সমৃদ্ধির অগ্র মিছিল থেকে। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল সারা বিশ্ব। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাস ঘাতক খুনীদের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য আজ জাতির সামনে পরিষ্কার। মিথ্যা কুয়াশার ধূম্রজাল ছিন্ন করে আজ নতুন সূর্যের আলোকের মতো প্রকাশিত হয়েছে সত্য। আসলে হত্যাকারীরা এবং তাদের দোসররা চেয়েছিল পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশটিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিকতার পথ থেকে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে বিচ্যুত করা এবং বাংলাদেশের মধ্যে থেকে একটি মিনি পাকিস্তান সৃষ্টি করা। এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যুর রক্তাক্ত অধ্যায়ে মানবতার শত্র“ ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ওই একই পরাজিত শক্তির দোসর বিপথগামী কিছু সেনাসদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করে। সেই থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই দিনে জাতীয় এ চার বীরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০