খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনার রাজনীতিতে নিত্য-নতুন মেরুকরণ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৭:০০

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনার রাজনীতিতে নিত্য-নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃতরাও সরকারি দলের আশীর্বাদ পেতে আয়োজন করছেন নানা অনুষ্ঠান। বিরোধী দল-মতের প্রার্থীরা প্রকাশ্যে না থাকলেও শো-ডাউনে ব্যস্ত ক্ষমতাসীনরা। বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সাবেক ও নতুন প্রার্থীরা সর্বশেষ চেষ্টাটাই করছেন দলীয় মনোনয়নের। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র ব্যবসায়ী শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলকে খুলনা-২ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে স্থানীয় আ’লীগ। তার আগে খুলনা-৪ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হয়েছেন শিল্পপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।
দলীয় সূত্রমতে, “নৌকা যার, আমরা তার” নীতিতে রাতারাতি নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হাওয়া বদল ঘটছে খুলনার রাজনীতিতে। মহানগরীসহ খুলনা জেলার একাধিক আসনে এ সপ্তাহে প্যানা পরিবর্তনের হিড়িক পড়েছে। বর্তমানকে পিছু ফেলে ভবিষ্যতকে বরণ করে নিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনা-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডল, উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন ও আশরাফুল আলম খান, শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে জেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ এ আসনটিতে প্রার্থী হলে অবাক হবেন না নেতা-কর্মীরা। এসব কারণে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস। স্থানীয় হিন্দু কমিউনিটি বর্তমানে সাবেক সংসদ সদস্য ননী গোপাল মন্ডলের পক্ষে দুর্গাপূজায় ব্যাপক শো-ডাউন দিয়েছে। খুলনা-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের চেয়ে সম্প্রতি জনসংযোগে এগিয়ে সাবেক ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেন। দলীয়, সামাজিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি তার। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদীর পাশাপাশি খুলনা-৪ আসনে জেলা আ’লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান জামালও মনোনয়ন চাইবেন। খুলনা-৫ আসনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকলেও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন মৎস্য মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। খুলনা-৬ আসনে প্রধানমন্ত্রীর অথনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক এমপি এড. সোহরাব আলী সানা মনোনয়ন চাইবেন।
জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি কেসিসি’র প্যানেল মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিও সরগরম। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতারা প্রীতিভোজ আয়োজনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন। এ প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে কতিপয় বিএনপি নেতা ও দলীয় কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, “দল যাকে যেখানে প্রয়োজন মনে করে মনোনয়ন দেবে নেতা-কর্মীরা তার হয়ে সেখানে কাজ করবো। অন্য কোন কথা নেই; দলের সিদ্ধান্ত আগে।”
দলের জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, “আওয়ামী লীগে কোন গ্র“পিং নেই। যাকে যে আসনে দল মনোনয়ন দেবে সকলেই মনোনীত প্রার্থীর হয়ে কাজ করবো। দ্রুত সময়ের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।”

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








ব্রেকিং নিউজ