খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

মানুষ জিম্মি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজুন

৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০:০০

মানুষ জিম্মি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজুন

সদ্য পাস হওয়া নিরাপদ সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা শিথিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট শেষ হয়েছে। তবে কর্মবিরতির নামে এ ধর্মঘটে রাজধানীসহ দেশজুড়ে পরিবহন শ্রমিকরা যে বিশৃঙ্খল আচরন করেছে তা নজীরবিহীন। ধর্মঘট পালনকালে তারা দল বেঁধে ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের উপর চড়াও হয়েছে। গাড়ি বের করার অপরাধে তাদের শরীরে ও মুখে পোড়া মোবিল লেপন করা হয়েছে। রোগীর এ্যাম্বুলেন্স আটকানোর ফলে শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। বাদ পড়েনি স্কুলের কোলমতি শিক্ষার্থীরাও। তাদের ইউনিফর্মে ঢেলে দেয়া হয়েছে নোংরা কালো পোড়া মবিল। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ ফেজ বুকের কল্যাণে প্রকাশ পেলে দেশবাসী হতবাক হয়েছেন।
নামে কর্মবিরতি হলেও কার্যতঃ ধর্মঘটের ডাকে রাজধানীসহ গোটা দেশ গত দু’দিন ছিল প্রায় অচল। টার্মিনালগুলো থেকে এ দু’দিন কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা পথে নেমে এক প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের কোনটিই তাদের হামলার কবল থেকে রেহাই পায়নি। কোনো কোনো এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। ওষুধের গাড়ি, এমনকি রোগীবাহী এ্যাম্বুল্যান্সও চলাচল করতে দেয়নি আন্দোলনকারীরা। ব্যক্তিগত গাড়ির চালক, মোটরসাইকেল চালকদেরও হেনস্তা করা হয়েছে। সংবাদকর্মীরাও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। শ্রমিকদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের শিকার হতে হয়েছে পথচারীদেরও। ধর্মঘটের দিন রাজধানীবাসীর অবলম্বন ছিল বিআরটিসির বাস, রিকশা, অটোরিকশা, অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন। কিন্তু এসব যানবাহন, বিশেষ করে বিআরটিসির বাস আটকে দেওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। কর্মবিরতির নামে এ নৈরাজ্য কারো কাম্য হতে পারে না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশে প্রথমবারের মতো সড়ক পরিবহন আইন পাশ হয়েছে। সরকারের দাবি, পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি পাস হয়েছে। কিন্তু পাস হওয়া আইনে সন্তুষ্ট নয় মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনগুলো। আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের জন্য তারা আট দফা দাবি পেশ করেছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হলে ৩০ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরুর আগে থেকেই শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য থেকে অনেকেরই ধারণা হতে পারে, তাঁরা সব আইনের উর্ধ্বে থাকতে চান। দেশের প্রচলিত আইন তাঁদের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। যেহেতু গণপরিবহন দেশের মানুষের চলাচলের জন্য অত্যাবশ্যকীয়, তাই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেই দাবি আদায় করা তাদের উদ্দেশ্য। কর্মবিরতিতে যাওয়া শ্রমিকদের পথে নেমে আসার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে গায়ের জোরে আইন শিথিল করে নিতে চান তাঁরা। শ্রমিক-নেতৃত্ব যে ভাষায় কথা বলছে, তাতেও এটা প্রমাণ হয়।
আমাদের অভিমত, শ্রমিকদের এই আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের কোনো মানুষই আইন-আদালতের উর্ধ্বে নয়। আইন সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী অবশ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে আইন পরিবর্তন সম্ভব নয়। শ্রমিকদের আগামী সংসদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনার সমাধান হতে পারে বলে আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০