খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরী

২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০:০০

উপকূলীয় অঞ্চল কয়রায় টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরী

বছরের পর বছর ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে উপকূলীয় অঞ্চল কয়রার মানুষ। বাধ ভাঙ্গার কারণে ভিটে-মাটি ছেড়ে অনেকেই অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছে। তবে প্রতি বছর প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি আর ঝড়-ঝঞ্চা উপেক্ষা করে যারা লোকালয়ে টিকে আছে তাদের জীবন কাটছে অবর্ননীয় দুর্ভোগ আর দুঃখ দুর্দশার মধ্যে দিয়ে। প্রতিনিয়ত বন্যা আর জলোচ্ছ্বাসের কারণে উৎপাদন হচ্ছে না ফসল। পাশাপাশি উপার্জনের অন্য মাধ্যম চিংড়ি ঘেরও ভাসিয়ে নিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিকে ভাঙন রক্ষায় নেই কার্যকর টেকসই উদ্যোগ অন্যদিকে দুর্যোগকালীণ নেই তেমন ত্রান তৎপরতা। ফলে এলাকায় টিকে থাকার আশায় স্থানীয়রা ত্রানের পরবির্তে চাইছে টেকসই ভেড়িবাধ নির্মাণ। যা এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ কয়রা দেশের অন্যতম ভাঙন প্রবণ এলাকা। ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে এখানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। এ এলাকায় সব ঋতুতেই ভাঙন অব্যাহত থাকে। বর্ষা মওসুমের আগেই এখানে ভাঙনের ফলে আতঙ্কে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। কয়রা খুলনা জেলার মধ্যে হলেও বাঁধের প্রশাসনিক ক্ষমতা সাতক্ষীরার হাতে। এ জটিলতার কারণেই দুর্গম কয়রার নদী ভাঙন সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। 
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের উপকূলে ২ হাজার ২৯২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৪২৪ কিলোমিটার ঝুঁঁকিপূর্ণ। পাউবো খুলনা-১ এর অধীনে ৩৬৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে ১০৯ কিলোমিটারের অবস্থা করুণ। পাউবো খুলনা-২ এর অধীনে ৫১০ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার ঝুঁঁকিপূর্ণ। বাগেরহাটের ৩১৮ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের ৬০ কিলোমিটার ঝুঁঁকিপূর্ণ। ৪০ কিলোমিটার বাঁধ নিচু হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার ৭৯৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধের মধ্যে ২১০ কিলোমিটারই ঝুঁঁকিপূণ।
কয়রা উপজেলা খুলনার জেলার মধ্যে। কিন্তু ভেড়িবাঁধগুলি সাতক্ষীরা জেলা  পানি উন্নয়ন বোর্ডের-২ অধীনে। এর ফলে ভেড়িবাঁধ সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয় না। যে কারণে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে। এখানে বর্তমানে নতুন নতুন ফাটল দেখা দিয়েছে। এ অংশ ভাঙনে জোড়শিং বাজার সাইক্লোন শেল্টার ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৫/৩০টি বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি নদী ভাঙনের ঝুঁঁকিতে রয়েছে। সাতক্ষীরার পাউবোর প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ভাঙন প্রবণ কয়রাবাসীর এ দুঃখ লাঘবে আশানুরূপ কোনও সফলতা দেখা যাচ্ছে না। আর খুলনা পাউবো-১ এর ৩২ ও ৩৩নং পোল্ডারটির ঝুঁঁকিপূর্ণ অংশ মেরামতে বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর কাজও দৃশ্যমান নয়। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর পাউবো-২ (কয়রার অংশে) ৪২২ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার ঝুঁঁকিপূর্ণ। গত বছর ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। এ টাকায় মাত্র ১৫ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার হয়েছে। যার গুনগত মান নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছে। কারণ প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান নয়। বর্তমান হারেস খালী থেকে ৩০০ গজ পূর্বে জোড়শিং বাজার লঞ্চঘাট ও একটি স্লুইচ গেট নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এ ছাড়া মহারাপুর ইউনিয়রে সুতিবাজার সংলগ্ন স্লুইচগেট ও কয়রা সদর ইউনিয়নের গোবরা স্লুইচগেট নদী ভাংগনে বিলীন হয়েছে।
২০০৭ সালের ১৫ নবেম্বর সিডরে প্রাণ হারায় উপকূলের ৭ হাজার মানুষ। ১৯৮৮ সালের ২৯ নবেম্বরের বন্যা, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের জলোচ্ছ্বাসের দুর্বিসহ স্মৃতিতে এখনও শিউরে ওঠেন ক্ষতিগ্রস্তরা। চলতি বছর উত্তর বেদকাশীর গাব্বুনিয়া, কয়রা সদর ইনিয়নের গোবরা এবং গত ২৩ অক্টোবর মদিনাবাদ লঞ্চঘাট সংলগ্ন ভেড়িবাঁধ ভেঙে প্লবিত হয় এ সব বাধ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নির্মাণ করে। চলতি বছর মদিনারাদসহ কয়রার ৬টি ইউনিয়নের পাউবো’র ভেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ব্যপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব বাঁধ গুলি জরুরী ভাবে মেরামত না করলে আবারও আইলার মত সংশ্লিষ্ট এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। স্থানীয়রা ত্রাণ চয়না চায় প্রাকৃতিক রুদ্ররোষ থেকে বাঁচার জন্য চায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০