খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০

রোগীর নাম তাসলিমা (ছদ্ম নাম)। বয়স মাত্র ১৮ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে পায়খানার সাথে রক্ত যায়। বেশ কিছুদিন ধরে গ্রামে কবিরাজের নিকট চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। কবিরাজ দীর্ঘদিন ধরে রক্ত বন্ধে এসিড ব্যবহার করে আসছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তখন এ ধরণের অনেক বেশি আসতো। বিশেষ করে গরীব রোগী। তবে মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠায় এ রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমেছে। এসিড ব্যবহারে পুরে যায় তাসলিমার পায়খানার রাস্তা। প্রথমে ঘা, তারপরে তীব্র পচন, প্রচন্ড ইনফেকশন এবং পায়খানা পেটে আটকে ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশন নিয়ে তীব্র ব্যাথা আর জীবন যায় যায় অবস্থা। এ অবস্থায় গতকাল ভর্তি হলেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে অপারেশনের মাধ্যমে পেটের নাড়িসহ পায়খানার রাস্তা পেটের বাম পাশে (অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন), এখানে যে কথাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বলার প্রয়োজন বোধ করছি, তা হলো এ ধরণের রোগীর পায়খানার রাস্তা সম্পূর্ণ এসিডে পুরে যাওয়ার কারণে এবং ইনফেকশনে পঁচে যাওয়ার কারণে তার আর কখনই পেটের উপরে থেকে আগের স্থানে পুনস্থাপন করা সম্ভব হয় না। বাকী জীবনটা তাকে পেটের উপরে পায়খানার রাস্তা নিয়ে বয়ে বেড়াতে হবে। এবারে একটু পাইলস নিয়ে বলা যাক। 
পাইলস কি: পাইলস হলো পায়খানার রাস্তার পাশে অবস্থিত রক্তের নালিকা ফুলে গিয়ে সেখান থেকে ক্রমাগত টাটকা রক্তক্ষরণজনিত রোগকেই সাধারণভাবে পাইলস বলা হয়। এই রোগের চারটি পর্যায় আছে যাকে আমরা বলি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ ডিগ্রি। পাইলস রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাথামুক্ত হলেও এর ৪র্থ ডিগ্রি অত্যন্ত ব্যাথাযুক্ত একটি ভয়াবহ অবস্থা। যা পাইলস রোগের সর্বোচ্চ পর্যায়। ৪র্থ ডিগ্রি পাইলস এর অপারেশন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই পর্যায়ে অপারেশনের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তীতে পায়খানা ধরে রাখতে না পারাসহ বিভিন্ন ধরণের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলস এর চিকিৎসা শুরু হওয়া আবশ্যক। পাইলস রোগের লক্ষণ: পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাথা অনুভব না করা, পায়খানার শেষ পর্যায়ে বা শেষে রক্ত যাওয়া। মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয় আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া, কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে। পাইলস এর চিকিৎসা নিয়ে পরের পর্বে আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ।

ডাঃ ফারুকুজ্জামান 
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমআরসিএস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এম এস (সার্জারি)-বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারী বিভাগ, 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫










ব্রেকিং নিউজ