খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিএনপি’র রাজনীতিতে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের নির্বাচনমুখী তৎপরতা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

বিএনপি’র রাজনীতিতে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের নির্বাচনমুখী তৎপরতা বাড়ছে। খুলনার রাজনীতিতে কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতা রয়েছেন মজবুত অবস্থানে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন কয়েকজন সাবেক ছাত্রদল নেতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পূর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের সাথে নতুন এসব প্রার্থীরা উঠে এসেছেন আলোচনায়।
অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম : আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম। ১৯৮৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নকালে বিএল কলেজ গেট থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। জেলা ছাত্রদলের সদস্য, বিএল কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন ও ‘৮৫ সালে ছাত্রসংসদের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন (৮৯-৯০) নব্বইয়ের উত্তাল আন্দোলনের সময়ে। এরপর ছাত্রজীবন শেষে সরাসারি মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন তারিকুল ইসলাম। ৯২-৯৩ সালে দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালনের পর ৯৩ সালে দলের নগর কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিন পর ২০০৯ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে নগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন এ সাবেক ছাত্রনেতা। একাধিকবার জীবনের ঝুঁকি পেরিয়ে বহু ঘাত-প্রতিঘাত মাড়িয়ে অন্তত ১২বার কারাবন্দী ও সরাসারি গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হয়েছেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। ৩৭টি রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়েছেন তিনি।
সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বললেন, “কোয়ালিফিকেশন, কমিউনিকেশন, কন্ট্রিবিউশন এন্ড কমিটমেন্ট এই চারটি জায়গায় যদি আমার কোন সহকর্মী বেশি অর্জন থাকে তাহলে আমি নমিনেশন চাই না।”
রকিবুল ইসলাম বকুল : বিএল কলেজে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নকালেই ছাত্রদলের মিছিলের অগ্রভাগেই থাকতেন রকিবুল ইসলাম বকুল। সে ১৯৮৩-৮৫ সালের কথা; পদ-পদবী না থাকলেও ছাত্রদলের আদর্শতলে তিনি ছিলেন সক্রিয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই নাম লেখালেন ছাত্রদলের হল কমিটিতে। নেতৃত্বের যোগ্যতায় অল্পদিনেই পাশ্চত্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। সেই থেকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি রাজনীতিক জীবনে। ’৯০ সালে ঢাকসুর ফজলুল হক হলের জিএস নির্বাচিত হন। সোহেল-পিন্টু ও পিন্টু লাল্টু এ দু’টি কমিটিতে পরপর দু’বার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র রাজনীতির সুবাদে ঘনিষ্ঠ হন বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে। 
খুলনা-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি; তারপর নির্বাচনীয় ভাবনা। দল আমাকে দায়িত্ব দিলে অবশ্যই খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী থানা এলাকাবাসীর খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করবো। পার্টির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, আমার নির্বাচন করা না করার বিষয়ে।”
তারিকুল ইসলাম জহির : খুলনায় ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতীত তারিকুল ইসলাম জহির, যিনি ভিপি জহির নামেই বেশি পরিচিত। সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজে একাদশ শ্রেণীর ছাত্রাবস্থায় ১৯৮৪ সালে তার রাজনৈতিক প্রথম পদ-পদবী খুলনা সদর থানা যুবদলের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতিতে স্থান করে নিয়ে ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত তিনি। সুন্দরবন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রসংসদের নির্বাচনে ভিপি পদে নির্বাচন করেন; একই সাথে তিনি নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৭-৮৮ বর্ষে ভিপি নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ৯২-৯৪ সাল পর্যন্তমহানগর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নগর বিএনপি’র সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৮-২০০০ সালে নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ভিপি জহির। রাজনৈতিক নিষ্ঠাচার নষ্ট, স্থানীয় পর্যায়ে সম্মেলন না করে কেন্দ্র থেকে পকেট কমিটি চাপিয়ে দেয়া এবং খুলনা রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রবল আকার ধারণ করায় রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নেন নিজেকে। আশির দশকের এ তুখোড় ছাত্রনেতা বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, “দেশ ও জাতির চরম ক্রান্তিকাল চলছে; অতীতে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যেমন বিশ্বস্ততার সাথে দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে আন্দোলন করেছি; তেমনি আজকে জিয়া পরিবারের বিপদের দিনে দুরে থাকতে পারি না। দুষ্টলোকের হাতে রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে; তবুও ঘরে বসে থাকার সময় নেই, বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। এ সংকটময় মুহূর্তে মাতৃসম বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাই। দল যেখানে দায়িত্ব দেবে সেখানেই দায়িত্ব মাথা পেতে নেবো। কোন নির্ধারিত সীমারেখা নয়। রাজনীতি যখন যেখানে প্রয়োজন তখন সেখানেই কাজে লেগে পড়তে হবে। ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পিরোজপুরসহ কয়েকটি স্থানে দলের হয়ে কাজ করেছি, দায়িত্ব পালন করেছি। এখন জন্মস্থল পিরোজপুর-৩ আসনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো।”
এস এম রফিকুল ইসলাম : ১৯৯৫ সালে বিএল কলেজে এইচএসসি অধ্যায়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতিতে ঢোকেন রফিকুল ইসলাম। অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতি কাছে টানে তাকে। এরপর বাড়তে থাকে গভীরতা। ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য হয়ে ফুলটাইম রাজনীতিতে নেমে পড়েন রফিকুল ইসলাম। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-দপ্তর সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক, দু’টার্ম সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকার এ কৃতি সন্তান। ছাত্র রাজনীতির পর খুলনা-৬ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।
সাবেক ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি এই এলাকার সন্তান সুখে-দুঃখে কয়রা-পাইকগাছাবাসীর পাশে থাকতে চাই। দল যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করে সে মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করবো।”

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








ব্রেকিং নিউজ