খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ভাড়াও আদায় করছে নিজেদের মতো করে

নগরীতে ইজিবাইকের মতোই আরেক সমস্যা মাহেন্দ্রা : আতঙ্কে পথচারী

বিশেষ প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০

মহানগরীতে ইজিবাইকের মতোই আরেক সমস্যা মাহেন্দ্রা নামের পরিবহন। জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন রুটে মাহেন্দ্রা যেভাবে চলছে তাদের সেভাবে চলার রুট পারমিট আদতেই নেই। একজন জনপ্রতিনিধির সমর্থন নিয়ে অনেকটা গায়ের জোরে আর আবেগ দিয়ে এই শহরে মাহেন্দ্রা চলাচল করছে। বিষয়টি স্বীকার করে বিআরটিএ খুলনা অফিসের উপ-পরিচালক জিয়াউর রহমান বলেছেন, মাহেন্দ্রাকে বাসের মতো চলাচল করার রুট পারমিট তারা কোনও সময়েই দেননি। মূলতঃ মাহেন্দ্রার রুট পারমিট দেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে চলাচলের জন্য। যে কেউ চাইলে মাহেন্দ্রাকে কল দিয়ে যে কোনও জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন। অনেকটা ঢাকা নগরীতে সিএনজি চালিত অটো রিকশার মতো। কিন্তু মাহেন্দ্রা রাজনৈতিক শেল্টারে থেকে বাসের মতো সিট ভর্তি প্যাসেঞ্জার নিয়ে এক রকম গায়ের জোরেই চলাচল করছে। ভাড়াও আদায় করছে নিজেদের মতো করে। কেউ চাইলেও মাহেন্দ্রাকে নিজের কাক্সিক্ষত স্থানে নিয়ে যেতে পারে না, যেতে রাজি হলেও তার প্রতি সিটের ভাড়া হিসাব করে তারপরেই রওনা দেয়। বিআরটিএ বা সরকার নির্ধারিত কোনও ভাড়া তারা নিচ্ছে না। গাড়ি প্রতি একজন বা পরিবারের সদস্য নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও তার সিট ভরেই প্যাসেঞ্জার নিয়ে চলাচল করছে। 
জানা গেছে, নগরীতে ১১শ’র মতো মাহেন্দ্রাকে চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়েছে বিআরটিএ কিন্তু চলাচল করছে ১৩শ’র উপরে। কেএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবির টেলিফোনে আলাপকালে অবশ্য জানিয়েছেন, মহানগরীতে কোনও অবৈধ পরিবহন চলাচল করে না। 
এদিকে নগরীতে নগর পরিবহন তেমন ভাবে না থাকায় ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক কিংবা খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কে চলাচল করছে অবাধে। 
জেলা পুলিশ সুপার কে এম শফিউল্লাহ বিষয়টি স্বীকার করে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, মূল সড়ক, মহাসড়কে তারা থ্রি হুইলার জাতীয় পরিবহন বন্ধ করতে বদ্ধ পরিকর। কিন্তু পূজার সময়ে মানবিক কারণে স্বল্প সময়ের জন্য থ্রি হুইলার চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, চুকনগর, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, কইয়া বাজার কিংবা ফুলতলা, নওয়াপাড়া থেকে লোকজন শহরে আসতে পারছেন না, এটা আসলেই একটা সমস্যা। থ্রি হুইলার বা ইজিবাইক বন্ধ করে দিলে এই সমস্যা আরও বাড়বে, তাই বিকল্প ব্যবস্থা না করে আপাতত এটা আমরা চাইলেও বন্ধ করতে পারছি না। আগামী আরটিসি মিটিংয়ে এ বিষয় নিয়ে কথা বলে তিনি সবার নজরে আনবেন। 
অন্যদিকে, খুলনা-তেরখাদা রুটে চলাচলরত কোনও লেগুনারই কাগজপত্র নেই। জানা গেছে, নিটল পরিবহন এসব লেগুনা স্থানীয় ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করেছে। লেগুনা কিনেছেন, এমন মালিকেরা এই প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেছেন, বিক্রির সময়ে গাড়ি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নিলেও গত তিন বা ক্ষেত্র বিশেষে চার বছরেও তারা গাড়ির মালিকানার কোনও কাগজপত্র পায়নি। এসব লেগুনা মালিকের কাছে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পেপার, ইন্স্যুরেন্স, রুট পারমিট, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন কোনও কিছুই নেই। স্থানীয় মালিকেরা পুলিশ ও বিআরটিএকে ম্যানেজ করে সেখানে গাড়ি চালাচ্ছেন। 
এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য দফায় দফায় ফোন করে, সেল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও নিটলের সংশ্লিষ্ট ডিলারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নিটল কোম্পানির চেয়ারম্যান মাতলুব আহমেদের কাছেও ফোন করে এবং সেল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 
ভুক্তভোগী একাধিক মালিক অভিযোগ করেছেন, তারা ডাউন পেমেন্ট দিয়ে গাড়ি নামিয়েছেন, মাসিক কিস্তিও সময়মতও দিয়ে এসেছেন কিন্তু আজ অবধি গাড়ির মালিকানার কাগজ বুঝে পাননি। খুলনার ডিলার এখন তার সেই শো রুম বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন, শতাধিক লেগুনা ক্রেতা। 
তেরখাদা উপজেলার চেয়ারম্যান শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেছেন, অনেক মালিকই তাকে এমন অভিযোগ করেছেন। তার রুটে এসব অবৈধ গাড়ি চলছে জেনে তিনি নিজেও বিস্মিত হয়েছেন। 
অন্যদিকে মহানগরী ও আশে-পাশে চলাচলরত ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে হাজারো অনিয়ম থাকলেও লেগুনা চলাচলের জন্য নিটোল মটরসের স্থানীয় ডিলার বন্ধন মটরস রূপসা বাসস্ট্যান্ড থেকে কইয়া বাজার হয়ে গল্লামারী রুটে ৪০টি হিউমান হলার (যা টেম্পু নামেই সমধিক পরিচিত) এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে নতুন রাস্তা ভায়া খালিশপুর রুটে ৩০টি হিউমান হলার চলাচলের জন্য অনুমতি চেয়েছেন। বিআরটিএ থেকে এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানালেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারনে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ