খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

খুলনার সাবেক পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী

আল মাহমুদ প্রিন্স | প্রকাশিত ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:০০:০০

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার সাবেক পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এর মধ্যে ৪ জন খুলনার চারটি আসনে এবং একজন বাগেরহাটের একটি আসনে মনোনয়য়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দলের পরীক্ষিত এসব নেতারা। রয়েছেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামেও। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দলীয় মনোনয়ন পেতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তারা।  
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৃণমূলে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, এস এম কামাল হোসেন, সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, শেখ মোঃ আবু হানিফ, মোঃ কামরুজ্জামান জামাল ও মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু। দলীয় মনোনয়নের আশায় এরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতা-কর্মী ও আমজনতার কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনাও করছেন। গেল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবে এসব নেতারা স্ব স্ব এলাকার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনসহ মন্দিরে আসা ভক্তদের সাথে মতবিনিময়ও করেছেন। এছাড়া তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন ছোট বড় নানা আয়োজনে। গড়ে তুলেছেন এলাকায় পরিচিতি।    
এস এম কামাল হোসেন : খুলনা মহানগরীর বাসিন্দা এস এম কামাল ছাত্র রাজনীতি থেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খুলনায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে এস এম কামাল ছিলেন অন্যতম। তিনি বলেন, ‘যখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে আসা। ৭৯-৮০ সালে আমি সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলাম। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদে আছি।’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৩ আসন (দৌলতপুর-খালিশপুর) থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবো জানিয়ে এ নেতা বলেন, ‘খুলনার সকল ছাত্র আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রেখেছি। তৎকালীন এরশাদ বিরোধী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা ছিলাম। ২০০১ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রেখেছি।’
গেল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। খালিশপুর-দৌলতপুর অঞ্চলের শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করে আসছেন তিনি। আর এরই সুবাদে খালিশপুর-দৌলতপুর অঞ্চলের সর্বস্তরের মানুষের সাথে তার গড়ে ওঠেছে সু-সম্পর্ক। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান এ নেতা। 
সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু : তেরখাদা উপজেলার নলিয়ার চর এলাকার বাসিন্দা সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনিও ছাত্র রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭৭ সালে নগরীর সরকারি ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএল) কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ১৯৭৮ সালে ওই কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। তবে ১৯৮০ সালে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হই।’ তিনি জানান, ১৯৯৮ সালে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুব ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, ২০০৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০১৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের বার্ষিক সম্মেলনে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। এরই মাঝে ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়নে প্রথমবারের মতো তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান ও ২০১৪ সালে দ্বিতীয় বারের মতো উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে আসছি।’ এছাড়া ২০১৪ সালে তিনি তেরখাদা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ের দায়িত্ব পালন করেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-৪ আসন (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান । 
শেখ মোঃ আবু হানিফ : বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার চিত্রা গ্রামের বাসিন্দা শেখ মোঃ আবু হানিফের ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি ছিল প্রবল ঝোক। ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসেছেন। ১৯৮৯ সালে ছিলেন সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য। ১৯৯০-১৯৯৩ সাল পর্যন্ত সুন্দরবন কলেজ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৩-১৯৯৬ পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগ দপ্তর সম্পাদক, ১৯৯৭-২০০০ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক, ২০০০-২০০২ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ২০০০-২০০২ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ২০০২-২০১১ সাল পর্যন্ত খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হন। আবু হানিফ জানান, ‘১৯৯১ সাল থেকে রামপাল-মোংলা এলাকার তৃণমূল দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে আসছি।’ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-৩ আসন (রামপাল- মোংলা) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও জানান তিনি।  
মোঃ কামরুজ্জামান জামাল : নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ কামরুজ্জামান জামাল। ছোটবেলা  থেকেই ছাত্র রাজনীতির প্রতি ছিল তার প্রবল ঝোক। প্রথমে তিনি ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে যুবলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ আসন (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান তিনি। 
কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘১৯৮৮ সালে নগরীর সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, নগর ছাত্রলীগের সদস্য (কো-অপ্ট), ১৯৮৯ সালে জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৯৭ সালে জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০০৩ সালে জেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করি। সর্বশেষ ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (১ম) নির্বাচিত হই’। খুলনা-৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়াবাসীর সুখ-দুঃখে পাশে থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান এ নেতা।
মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু : রূপসার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আকতারুজ্জামান বাবু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে যুবলীগের রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন (কয়রা-পাইকগাছা) থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানান তিনি। 
আকতারুজ্জামান বাবু বলেন, ‘১৯৮৩ সালে নগরীর সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকা অবস্থায় আমি ছাত্র রাজনীতি শুরু করি। ৮৭-৮৮ সালে বিএল কলেজ ছাত্রলীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। ১৯৯১ সালে রূপসার আইচগাতী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার সহযোগিতায় রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য, পরবর্তীতে রূপসা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক, এরপর দিঘলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এছাড়া ১৯৯২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ১৯৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৮ সালে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক, ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আর ২০০২ সালে জেলা যুবলীগের সদস্য, ২০০৩ সালে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। সর্বশেষ ২০১৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অদ্যাবধি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি।’ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন কয়রা-পাইকগাছার তৃণমূল পর্যায়ে নিরলস কাজ করে আসছেন বলে জানান এ নেতা।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০







ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০