খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নানা সংকট আন্তঃবিভাগে, বহির্বিভাগেও ভোগান্তির শেষ নেই

চাহিদার অর্ধেক সেবাও দিতে পারছে না আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বিকল, চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল শয্যাসহ নানান সংকটে ধুকছে শহিদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ। আর ওষুধ বাণিজ্য, দালাল দৌরাত্ব ও সময়মত চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ রোগীরা পূর্ণ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে বহিঃবিভাগ থেকে। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি থাকছেন ১৭০ জনের কম। ফলে নানান সংকটে চাহিদার অর্ধেকও সেবা দিতে পারছেনা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালটি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিউরোলোজি, নিউরোসার্জারী, নেফ্রোলোজি, কার্ডিওলজি, ইউরোলজিসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবায় আবু নাসের হাসপাতাল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে  হাসাপাতালের নেফ্রোলোজি ও কার্ডিওলোজিসহ আন্তঃবিভাগগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নেফ্রোলজি বিভাগে ৩০টি বেডের বিপরীতে গতকাল ভর্তি হয়েছে ৫৫৮৬ নম্বর সিরিয়ালের রোগী। আর ভর্তির অপেক্ষায় সিরিয়াল দিয়ে রয়েছেন ৫৬০৯ নম্বর পর্যন্ত মোট ২৩ জন। মহিলাদের ক্ষেত্রেও ১০ জন রোগী ভর্তির অপেক্ষায় অর্থাৎ এখনও ৩৩ জন রোগী ভর্তির জন্য অপেক্ষামান রয়েছেন। দিনদিন এ সংকট আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কারন পুনরায় ৩০ জন রোগীর ভর্তি হতে ভর্তি হওয়া ৩০ জনের ছাড়পত্র নিতে হবে। অথচ ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই ডায়ালাইসিস করানো হয়। তারা কবে নাগাদ হাসপাতাল ছেড়ে যাবে তার কোন নির্দিষ্ট সময় নাই । এতে গড়ে একজন রোগীকে ভর্তি হতে ২০ দিন থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।
খুলনায় শুধুমাত্র আবু নাসের হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস হয়। আর এই ডায়ালাইসিসের জন্য অপেক্ষমান আছে প্রায় ২শ’ রোগী। যে সংখ্যা বেড়েই চলছে। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিস একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হওয়ায় যে রোগীরা একবার ভর্তি হয়ে ডায়ালাইসিস শুরু করেছে তা সহজেই শেষ হয় না। রেফার হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়া অথবা রোগীর মৃত্যু হলেই সুযোগ পায় অন্যজন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের ৩০টি ডায়ালসিস মেশিনের অর্ধেক প্রায়ই নষ্ট থাকে। ফলে সার্বক্ষণিক সব মেশিনের সার্ভিস পাওয়া যায়না। হাসপাতাল সূত্র বলছে, এখানে ডায়ালাইসিস করতে খরচ মাত্র ৪শ’ টাকা অথচ নগরীর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে তা সর্বনিন্ম ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। এখানে প্রায় সময় অন্তত ৮ থেকে ১০টি মেশিন অকেজো থাকে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সুযোগ না পেয়ে সাধারণ রোগীরা দারস্ত হচ্ছেন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের।
কার্ডিওলোজি চিকিৎসায় আবু নাসের হাসপাতাল এ অঞ্চলের মানুষের ভরসার জায়গা। ইকো, এনজিওগ্রাম, পেস-মেকার বা রিং বসানো সব ধরণের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। তবে রোগ নির্ণয় করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এনজিওগ্রাম। অথচ প্রায়শই অকেজো হয়ে পড়ে থাকছে এনজিওগ্রাম মেশিনটি। আর একবার অকেজো হলে বন্ধ থাকছে মাসের পর মাস। সর্বশেষ চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এনজিওগ্রাম মেশিনটি। কবে এটি ঠিক হবে তাও বলতে পারছেনা কেউ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকায় পত্র দিয়ে অপেক্ষা করছে কবে ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিন ঠিক করে দিয়ে যাবে। এছাড়া রিং পরানো ও পেস মেকার বসানোর মত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাও এখানে সময়মত মেলেনা সাধারণ রোগীদের।
এদিকে বহির্বিভাগে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার ওষুধ চুরির বছর পার হলেও আইনের ফাঁকফোঁকোর দিয়ে অভিযুক্ত সবাই রয়েছে বহাল তবিয়তে। বহির্বিভাগে দালাল দৌরাত্ব, সময় মত চিকিৎসক না থাকাটা হাসপাতালের এখন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুপুর ১২টার পরে আর বহির্বিভাগে ডাক্তার থাকেনা। ডাক্তাররা বলছেন, রোগী থাকে না, আর রোগীরা বলছেন, সাড়ে ১১টার পরেই টিকিট দিতে চায় না। আর ১২টার পরে তো দেয়ই না। অনেক মানুষ টিকিট না পেয়ে চলে যায়। ইশরাত নামে এক রোগীর অভিভাবক বলেন, এখানে একদিনে সেবা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেক কষ্ট করে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হলেও যে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা দেয় তা সবগুলো করিয়ে এক সপ্তাহেও চিকিৎসকের সামনে যাওয়া যায় না। এতে করে রোগী আরও বেশি অসুস্থ্য হয়ে যায়।
আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী এ প্রতিবেদককে বলেন, এনজিও গ্রাম মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেছে। আগামীকাল (আজ) জানা যাাবে কবে এটি ঠিক হবে। এছাড়া ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো ভালো আছে তবে সব সময় সব মেশিন দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। মেশিন এরও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। বহির্বিভাগে রোগীদের চাপ প্রচুর। বিশেষায়িত হাসপাতাল হওয়ায় প্রচুর রোগী প্রতিদিন আসছে, সাধ্যমত সকলকে সেবা দেয়া হচ্ছে। সামর্থ্যরে বাইরে গেলে সিরিয়াল দিতে একটু কষ্ট হয় রোগীদের।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০






ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০