খুলনা | রবিবার | ২৪ মার্চ ২০১৯ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘জামিন পেলেও, ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে আরো মামলা হতে পারে’

ঐক্যফ্রন্ট ‘ছাল-বাকল দিয়ে তৈরি’ নির্বাচন অবশ্যই হবে : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন  | প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১৬:০০

নতুন গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ‘ছাল-বাকল দিয়ে তৈরি’ জোট বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এই জোটকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে। এখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন, গণমাধ্যম স্বাধীন। যে কেউ ইচ্ছে করলে রাজনীতি করতে পারে। আমি নতুন জোটকে স্বাগত জানাই।’ সোমবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি আরব সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলন করছেন। ১৬ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে বলেন, খুনি, দুর্নীতিবাজ ও নারী কটূক্তিকারীদের ঐক্য হয়েছে। নতুন জোট সফল হলে অসুবিধা কোথায়?
নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধী দলগুলো চাইলে হবে, না হলে হবে না। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ছোট মন্ত্রিসভা ও তখনকার বিরোধী দলকে নিয়ে সব দলের সরকার গঠনের কথা বলেছিলাম। এখন এটা দরকার আছে কি না, সেটা দেখা যাবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিপরিষদ ছোট করা কী জরুরী? তিনি বলেন, প্রত্যেক মন্ত্রীর হাতে অনেক কাজ রয়েছে। অনেকগুলো প্রকল্প রয়েছে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রিপরিষদকে ছোট করা হলে এসব কাজ ব্যহত হয় কিনা তাও ভেবে দেখছি। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিপরিষদ ছোট হলে উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ থাকলে সমস্যা কোথায়?
সংবাদ সম্মেলনের প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে সৌদি আরব সফরের বর্ণনা দেন। তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে তাঁর একাধিক বৈঠকে আলোচিত বিষয় নিয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সাক্ষাতের সময় বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ সৌদি আরবকে আমার দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সময় সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। আর উন্নয়নের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।’
লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একে স্বাগত জানাই। তবে একটু লক্ষ্য রাখা দরকার, কারা কারা এক হলো। কোন চরিত্রের লোক তারা। এমনকি মেয়েদের প্রতি কার কী মন্তব্য।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখানে স্বাধীনতা বিরোধী আছে, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী আছে। সব মিলেই কিন্তু একটা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগে ছিল। তারা এখন আ’লীগের বিরোধী হয়েছে। আমি জোটকে স্বাগত জানাই। তবে একটু লক্ষ্য রাখা দরকার, কারা কারা এক হলো। কোন চরিত্রের লোক তারা। এমনকি মেয়েদের প্রতি কার কী মন্তব্য। বাংলাদেশে এখন কথা বলা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা করার স্বাধীনতা আছে। গণতান্ত্রিক ধারায় সবার রাজনীতি করার সুযোগ আছে। যারা এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তাদের কার কি ভূমিকা তা সবাই জানে।
নবগঠিত জোটের সাত দফা দাবি নিয়ে প্রশ্ন করলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাত দফা আর কত দূর যায়, তার জন্য অপেক্ষা করে আছি। তারপর আমি আমার বক্তব্য দেব।’
আগামী নির্বাচনে অঙ্গীকার কী, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশকে দেখতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত। আমার লক্ষ্য, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
যাঁরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তাঁরা দেশের অব্যাহত গণতন্ত্র চান না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে, যত ষড়যন্ত্রই হোক বাংলাদেশে নির্বাচন অবশ্যই হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গত শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় জানিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছিলেন, ‘আর কয়েক মাস পরই নির্বাচন। এ নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে আমি প্রবল আশঙ্কায় আছি। আমরা যেকোনো মূল্যে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।’ তাঁরই কথার সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের  (ডিইউজে) সভাপতি শাবান মাহমুদ।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক নম্বর হচ্ছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। নির্বাচন নিয়ে যাঁরা সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাঁদের উদ্দেশ্যটা কী? গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যাতে না থাকে, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের একটা চিরাচরিত বিষয়। ষড়যন্ত্র থাকবে, ষড়যন্ত্র চলবে। এর মধ্য দিয়েই তো আমরা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছি। এ দেশে যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সব ষড়যন্ত্র রোধ করে আমরা নির্বাচন করব। নির্বাচন অবশ্যই বাংলাদেশে হবে। আর যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার শক্তি আমার সরকার রাখে।’
এদিকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘কটূক্তি’ করার অভিযোগে মানহানির মামলায় জামিনে থাকা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন জামিন পেলেও, তাঁর বিরুদ্ধে আরো মামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া তিনি এ বিষয়ে নারী সংগঠনগুলোকে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্মেলনে তৎক্ষণাৎ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন পেয়ে যাওয়া এবং এ ঘটনায় সরকারদলীয়দের নিশ্চুপ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাবও জানতে চান এক নারী সাংবাদিক। উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখুন যখন একটা মামলা হয়, ওই ভদ্রলোক সকাল বেলায় উচ্চ আদালতে আশ্রয় নিয়ে বসে থাকে। তো স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বিচার বিভাগ, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে হামলা করতে পারে না। গ্রেফতার করে আনতে পারে না। তারপর সেখানে তিনি আগাম জামিন চেয়েছেন এবং কোর্ট তাঁকে জামিন দিয়ে দিয়েছেন এবং তাও কি পাঁচ মাসের। বরং আপনারা সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, যে যিনি এ রকম একটা জঘন্য কথা বললেন, একজন নারী সাংবাদিককে প্রকাশ্যে। সারা বাংলাদেশ কেন, বিশ্ব দেখেছে যে কীভাবে তিনি এই নারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কথা বললেন। এরপরে কীভাবে? ঠিক আছে এটা কোর্টের ইচ্ছা এখন যদি জামিন দেন আমাদের কিছু করার নাই। সেক্ষেত্রে আমি বলব, আমাদের নারী সাংবাদিকরা আপনারাই বা কী করেছেন? একজনের বিরুদ্ধে বলেছে, একটা মামলা না হয় হয়েছে। আরো তো মামলা হতে পারে এবং এর প্রতিবাদও আপনারা করতে পারেন। আপনারা প্রতিবাদ করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যা করার করবে। আপনারা মামলা করেন, আমরা যা করার করব। জামিন পেয়েছে ঠিক আছে, মামলা আরো করতে ব্যবস্থা নিতে তো আপত্তি নাই। সে যে এখন কোথায় ইন্দুরের গর্তে চলে গেছে। দেখেন। হ্যাঁ, ব্যবস্থা নিতে হবে।’ প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মেয়ে সংগঠনগুলা কই? সব প্রতিবাদ করবা।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি আবার পাল্টা মামলা করলেন। শিবিরের অনুষ্ঠানে উনি যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। ঐটা খুঁজে বের করেন। জামায়াত যে সমর্থন করে না, সেটা সে কি করে বলবে? সে যে শিবিরের মিটিংয়ে গিয়ে কথা বলেছে, আপনজন বলেছে, কাছের লোক বলেছে। এটাই তো বড় প্রমাণ।’
এ সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে নিয়ে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনার গুণের কোনো শেষ নাই। উনি গেছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। তো ব্যারিস্টারি পাস করে তিনি আসার পর, চাচা (তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া) দেখলেন উনার ছেলে আসছেন সাহেব হয়ে। বাঙালি খাবার খেতে পারেন না। আফসোস করে চাচি বলছেন যে, ছেলে তো বাঙালি খাবার খেতে পারে না। সেই যুগের ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি নিয়ে আসা হলো। তিনি বিলেতে গিয়ে ব্যারিস্টারি শিখেছিলেন ঠিকই। ইংরেজদের ভদ্রতা, এটি কেউ শিখে আসেন নাই। ওই কাকের ময়ূরপুচ্ছ লাগানোর মতো। আরো জানি। পরে বলব।’ সুত্র প্রথম আলো ও এনটিভি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ






অগ্নিঝরা মার্চ

অগ্নিঝরা মার্চ

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:৪৪





যশোরে ছাদ থেকে  পড়ে বৃদ্ধ নিহত

যশোরে ছাদ থেকে  পড়ে বৃদ্ধ নিহত

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:৪১