খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় এবং প্রাসঙ্গিক আলোচনা”

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০

গত পর্বে “ডায়াবেটিস নিরাময় যোগ্য রোগ নয়, নিয়ন্ত্রণ যোগ্য” লেখাটিতে আমি ডায়াবেটিস এবং ডায়াবেটিক ফুট (পায়ের ঘাঁ বা পচন) রোগীর সামগ্রীক সমস্যাবলী এবং খাদ্য অভ্যাস সম্পর্কে বলেছিলাম। আজ বলবো সামগ্রীক পরিচর্যা এবং ঔষধপত্র নিয়ে। বিগত কয়েক বছর রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সিংহভাগ ডায়াবেটিক ফুটের রোগীদের (৯৫% এর ও বেশি) মধ্যেই দীর্ঘদিন যাবৎ রক্তে সুগারের পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত পাওয়া যেত বারডেম হাসপাতালে, যা আমরা সাধারণত RBS (রেনডম ব্লাড সুগার) এবং HbA1C পরীক্ষা দ্বারা নিশ্চিত হতাম। এর প্রধান কারণসমূহ ছিল: (এক) অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য অভ্যাস, (দুই) পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও হাঁটাচলা না করা, (তিন) পায়ের সঠিক পরিচর্যা না নেয়া, (চার) নিয়মিত ইনসুলিন এবং ঔষধ নিতে তীব্র অনীহা ও অবহেলা, (পাঁচ) অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন (ধুমপান, তামাক ইত্যাদি কুঅভ্যাস)। 
ভয়াবহ বাস্তবতা এই যে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে গড়ে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুইজন ডায়াবেটিক ফুটের রোগীর Foot amputation (পা কাটার অপারেশন) করা হয়। পায়ে ঘাঁ বা পচন নিয়ে চিকিৎসাধীন এখনো প্রায় ২৫-৩০% রোগী (মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে)। অধিকাংশ রোগীদের মধ্যে এ বিষয় নিয়ে কিছু সাধারণ ভুল ধারণা বিদ্যমান। অনেকের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে অধিকাংশ খাবারই মনে হয় খাওয়া যায় না। এই ভয়ে তারা নিয়মিত ডায়াবেটিস চেক আপও করাতে চায় না। কিন্তু আসল সত্যটা হলো, ডায়াবেটিস রোগে আসলে সব কিছুই খাওয়া যায় (এমনকি চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার ও), তবে পরিমাণমতো। অনেকে আবার চিনি, মিষ্টি কিছুই খায় না, কিন্তু সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট (যেমন: প্রচুর ভাত, আলু ইত্যাদি) খায়। এগুলো গ্লুকোজে পরিণত হয়ে একই নিয়মে শরীরে শোষিত হয়। তাহলে লাভ কি হলো!!! আমি অবশ্যই বলছি না যে, ডায়াবেটিস হলে ভাত খেতে পারবেন না, সবই খেতে পারবেন, তবে পরিমাণমতো, নির্দিষ্ট মাত্রায়। 
অনেকের আবার এরকম ধারণা যে, আমার ডায়াবেটিস হওয়াতে তো এখন কোনো সমস্যাই হচ্ছে না, নিয়মিত চিকিৎসা নেবার প্রয়োজন কি??? মনে রাখতে হবে, এই রোগ একটা নীরব ঘাতক, Slow poison, যা কিনা কোনো রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াও ধীরে ধীরে বিকল করে দিতে পারে শরীরের প্রধান প্রধান অঙ্গসমূহ। তাই যথাসময়ে চিকিৎসা নেয়া জরুরী। কারো কারো দৃঢ় বিশ্বাস, আমি ডায়েট কন্ট্রোল করি, নিয়মিত হাটাহাটি করি; ইনসুলিন, ঔষধ কিংবা ফলো আপের দরকার কি? কারো আছে আবার ইনসুলিন গ্রহণে তীব্র অনীহা কিংবা ভীতি। তাদের জন্য বলা, আসলে মেটফরমিন, সালফোনাইলইউরিয়া ইত্যাদি সাধারণভাবে প্রচলিত ডায়াবেটিসের ঔষধ ষ বিশেষত সালফোনাইলইউরিয়া আমাদের অগ্ন্যাশয়কে (শরীরের ভিতর ইনসুলিনের একমাত্র উৎস) লেবুর মতো চিপড়ে ইনসুলিন বের করে নিয়ে আসে এবং রক্তে গ্লুকোজে কমায়। তাই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারে অগ্ন্যাশয় হয়ে পড়ে দুর্বল, আর সেক্ষেত্রে একটা সময় পর অধিক পরিমানে ইনজেকশন ইনসুলিন দরকার হয়ে পড়ে। তাই যেসব ক্ষেত্রে ইনসুলিন নেয়া অপরিহার্য (এমনকি চিকিৎসার শুরুতে), বিনা দ্বিধায় ইনসুলিন সময় মতো শুরু করা উচিত নিয়মিত ভাবে। এক্ষেত্রে ইনসুলিনের সাথে মুখে মেটফরমিন গ্র“পের ঔষধও শুরু করা যেতে পারে। এতে করে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ইনসুলিনের ডোজ কম লাগে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা। এতে করেও ইনসুলিনের ডোজ কম লাগতে পারে। সেই সাথে প্রয়োজন পায়ের যথাযথ পরিচর্যা নেয়া এবং পায়ে ক্ষত দেখা গেলে, অবহেলা না করে, দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া। আর ধুমপান প্রসঙ্গে একটাই কথা, আসুন নিজের স্বার্থেই ধুমপানকে না বলি সবাই। ধন্যবাদ।

ডাঃ ফারুকুজ্জামান 
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এমআরসিএস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এমএস (সার্জারী)-বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা
সহকারী রেজিস্ট্রার, সার্জারি বিভাগ 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

স্তন ক্যান্সার: আমরা কতটা সচেতন?

০৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

পাইলস রোগের সাধারণ আলোচনা

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০









ব্রেকিং নিউজ