খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নরসিংদীতে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর বাড়ি  কালীগঞ্জে, পড়াশুনা করতো যশোরে

যশোর প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪২:০০

নরসিংদীতে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহর বাড়ি  কালীগঞ্জে, পড়াশুনা করতো যশোরে


নরসিংদীতে পুলিশী অভিযানে নিহত জঙ্গি আবদুল্লাহ আল বাঙালির বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। তিনি যশোর শহরের একটি মেসে থেকে সরকারি এম এম কলেজে পড়াশুনা করতেন ও পাশাপাশি চাকুরি করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। সোয়াটের অভিযানে তার স্ত্রীও মারা যান। 
নিহত আবদুল্লাহ কালীগঞ্জে উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে। তবে পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি গোলাম মোস্তফা ওরফে রুবেল নামে পরিচিত। তার স্ত্রী ঢাকার গাজীপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাত থেকে নরসিংদী জেলার মাধবদীর ভগীরথপুরে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা হিসেবে দু’টি বাড়ি ঘিরে রাখে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার সদস্যরা। গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ওই বাড়িতে অপারেশন গার্ডিয়ান নট চালানো হয়। এতে নিহত হন আবদুল্লাহ আল বাঙালি ও তার স্ত্রী আকলিমা আকতার মনি। পুলিশের দাবি, নিহত আবদুল্লাহ নব্য জেএমবির মিডিয়া শাখার প্রধান।
র‌্যাবের সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ১৬ আগস্টে নিহত আকলিমাসহ তিন নারী র‌্যার-৪ এর হাতে রাজধানীর মিরপুরে গ্রেফতার হয়েছিলেন। র‌্যাবের হাতে সম্প্রতি তাদের আরেক বান্ধবীও গ্রেফতার হন। তিনি হলেন শাহনাজ আকতার ওরফে সাদিকা। তাকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ডেমরা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এই চারজনের মধ্যে গত মঙ্গলবারের অভিযানে আকলিমা আকতার মনি মারা গেছেন। পুলিশ বলেছে, তারা কয়েক মাস জেল খাটার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, কালীগঞ্জে তার পরিবারের স্বজন ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ ওরফে মোস্তফা যশোর এমএম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। পাশাপাশি সেখানে তিনি একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। এরপর গত ৮/৯ মাস ধরে তিনি আহলে হাদিস মত অনুসরণ করতে শুরু করেন। ছোট বয়সে তার বাবা মারা যান। এরপর একই গ্রামের আব্দুল মান্নান খোকনের সঙ্গে তার মা মর্জিনার বিয়ে হয়। তখন থেকেই আব্দুল্লাহ তার দাদা আক্কাছ আলী ও মায়ের সংসারে যৌথ বসবাস করতো।
আব্দুল্লাহ প্রায় পাঁচ মাস আগে আকলিমা আক্তার মনির সঙ্গে প্রেমজ সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে। পড়াশোনা করায় তার স্ত্রী বাবার বাড়িতেই থাকতো। ১ অক্টোবর মোস্তফা ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তিনদিন থাকার পর স্ত্রীকে নিয়ে যশোর চলে আসে। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
চাচা নজরুল ইসলাম জানান, গত ২ অক্টোবর আবদুল্লাহ বাড়িতে বলে যায়, কয়েকদিন তার মোবাইল বন্ধ থাকবে। এরপর সাত দিন পার হয়ে গেলেও তার কোনো যোগাযোগ না পেয়ে বাড়ির লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তিনি জানান, এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তারা পুত্রবধূর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু ছেলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে নিহত জঙ্গির সাথে তার চেহারা অনেকটা মিলে যাওয়ায় বাড়িতে এখন কান্নাকাটি চলছে।
কালীগঞ্জের বেজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, গত ৭/৮ মাস ধরেই মোস্তফার চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল। তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু কথা শোনেনি। নিহত আব্দুল্লাহর স্ত্রী আকলিমা আক্তার মনির ভগ্নিপতি হাসান আলী বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি তারা দুইজনই নিহত হয়েছে। আমরা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুছ আলী বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০






ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০