খুলনা | শনিবার | ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতা সফলে ৩টি কমিটি গঠন

রূপসা নদীতে ঐতিহ্যবাহী  নৌকাবাইচ ২০ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:০২:০০

রূপসা নদীতে ঐতিহ্যবাহী  নৌকাবাইচ ২০ অক্টোবর

আগামী ২০ অক্টোবর খুলনার রূপসা নদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। এবারের প্রতিযোগিতায় ৩৪টি দল অংশগ্রহণ করবে। পঞ্চমবারের মতো গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রূপসা নদীতে ১৩ তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উৎসবের এই প্রতিযোগিতার আয়োজক খুলনার নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র (এনএসএসকে) এবং তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা সফলের লক্ষে আইন-শৃঙ্খলা, উপদেষ্টা ও বাস্তবায়ন এই তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় ছোট, মাঝারি ও বড় তিনটি গ্র“পে অংশগ্রহণকারীদের পৃথকভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী পুরস্কার প্রদান করা হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা, তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল, মাদারিপুর থেকে ১২টি বড় এবং ১০টি ছোট বাইচ দল আসছে। ১২টি দলের মধ্যে তিনটি হিট অনুষ্ঠিত হবে। আর ছোট ও মাঝারি দলের জন্য একটি হিট থাকবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বড় দলের প্রথম বিজয়ীরা পাবেন এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় দল পাবেন ৬০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ছোটদলের প্রথম বিজয়ী দল ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দল ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ২০ হাজার টাকা। এবার গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ফরিদপুর এলাকার ১২টি বাচারি নৌকা নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। সেই দলের প্রথম বিজয়ী পাবে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় দল ৩০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় দল পাবেন ২০ হাজার টাকা। 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিযোগিতার দিন সকাল ১০টায় নগরীর শিববাড়ি থেকে শহীদ হাদিস পার্ক পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনব্যাপি এই উৎসব। এরপর দুপুর ২টায় রূপসা নদীর ১নং কাস্টমস ঘাটে ফেস্টুন ও বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ১নং কাস্টমস ঘাটে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৫টায়। প্রতিযোগিতা ১নং কাস্টমস ঘাট থেকে শুরু হয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু)-তে গিয়ে শেষ হবে। 
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, নৌকা বাইচ নির্বিঘেœ পরিচালনার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নৌকা বাইচের দিন সকাল ১০টা থেকে ১নং কাস্টমস ঘাট, নতুন বাজার লঞ্চ ঘাট ও রূপসা ফেরিঘাটে সকল যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তা রক্ষার্থে পুরো এলাকায় আইন রক্ষাকারী বাহিনী নিযুক্ত থাকবেন। এছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে মেডিকেল টীম ও ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত থাকবেন। রূপসা ব্রীজে কোন গাড়ি পার্ক করা যাবে না।  ব্রীজে শুধুমাত্র মহিলা ও শিশুরা অবস্থান করতে পারবেন। 
সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেল প্রধান মোঃ আওলাদ হোসেন, গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেল হেড অব মার্কেটিং আবুল হাসনাত, নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা শেখ আশরাফ-উজ-জামান, সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গ্রামীণফোনের মিডিয়া রিলেশন্স স্পেশালিস্ট তানভীর আহমেদ। 
গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেল প্রধান মোঃ আওলাদ হোসেন বলেন, পঞ্চমবারের মতো খুলনার রূপসী রূপসা নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগতায় গ্রামীণফোন সম্পৃক্ত। এই অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, “গ্রামীণফোন সকলের ভালোবাসার বিনিময়েই হয়ে উঠেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। আজকে গ্রামীণফোন সাত কোটিরও বেশি মানুষের পরিবার। তাদের অনুভুতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। আমরা আমাদের সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি করে যাচ্ছি। গ্রামীণফোন দেশের প্রথম অপারেটর যাকে সারা দেশের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ০১৭ নম্বর সিরিজের পাশাপাশি ০১৩ সিরিজের নম্বর বাজারে আনতে হয়েছে। এবং আমরা এতে অনেক অনুপ্রাণিত। আমাদের এই কোটি কোটি মানুষের পরিবার এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। আমরা সবসময়েই এ দেশের আনন্দ-বেদনার সাথে থেকেছি। আর সেই ধারাবাহিকতায় খুলনাবাসীদের একটি আনন্দঘন দিন উপহার দেয়ার জন্যই আমরা এই বাইচ প্রতিযোগিতার সহযোগী। তাদের ভালো লাগলেই আমাদের এই আয়োজন সফল হবে”। তিনি জানান, বাইচ প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা। গ্রামীণফোন গ্রাহকরা খুলনা নৌকা বাইচের ছবি ড়িনিড়ী এ ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেয়ার করে জিতে নিতে পারেন আকর্ষণীয় পুরস্কার। গ্রামীণফোন গ্রাহকরা গুগল প্লেস্টোর থেকে ড়িনিড়ী এ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া ফেসবুক লাইভ ও বাইস্কোপ এ্যাপ্লিকেশনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে পারবেন। 
নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ বলেন, “আমরা সবসময় এই খুলনা নৌকা বাইচকে সফল করে তুলতে চাই। সেই চেষ্টা পূরণে দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনকে পাশে পাওয়াটা অনেক সহায়ক। তিনি বলেন, রূপসা নদীর পাড় নেই। ফলে দর্শনার্থীরা পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করতে পারে না। খুলনার মানুষ যাতে উপভোগ করতে পারে সে জন্য নদীর পাড় বাধা দরকার।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ