খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দালাল ঠেকাতে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি বিপিসিডিওএ’র

খুমেক হাসপাতালের সামনে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

বশির হোসেন   | প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:০৫:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এসব প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে। আর রোগীদের জন্য শতভাগ দালাল নির্ভর এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কোন কিছুই প্রয়োজনের ধারে কাছেও নেই। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চলা হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসক নেতারা বলছেন এসব প্রতিষ্ঠান প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষ ফোড়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি মেডিকেল ও হাসপাতালের ৫শ’ গজের ভেতরে কোন ধরনের বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠান না করতে নীতিমালা রয়েছে। এসব নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে ১৭টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগের সাথেই কোন চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা নেই। তবে এর মধ্যে আনোয়ারা মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর প্রায় সব ধরনের লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া সায়েন্স ভিউ ডায়াগনস্টিক এন্ড রিচার্স সেন্টার সাউথ জোন ও বিশ্বাস ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স রয়েছে। তবে হাসপাতালের সামনে নিয়মনীতি পাশ কাটিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বলে মনে করেন বিপিসিডিওএ এর খুলনার সভাপতি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাইরে বেশির ভাগেরই কোন ধরণের কাগজপত্র নেই।নেই নিয়মিত চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান, আধুনিক ল্যাব যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।তাদের রোগী আনার একমাত্র কৌশল খুমেক হাসপাতালের ভিতরে দালাল নিয়োগ। রোগীদের সাথে সেবার বদলে প্রতারণার অভিযোগে গত দুই বছরে একাধিকবার র‌্যাব অভিযান চালায় বিশ্বাস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উদয়ন ডায়াগনস্টিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। মালিকসহ একাধিক দালালকে আটক করে র‌্যাব। এদের অনেককেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এরপরও এদের দৌরাত্ম কমছে না।
বাংলাদেশ প্যাথলজিস্ট সোসাইটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে কোন ডিগ্রিধারী ও মানসম্মত প্যাথলজিস্টরা রিপোর্ট করতে যায়না। প্রতিনিয়ত রোগীদের ধরে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে হর হামেশা। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন হাসপাতালের সামনে চিকিৎসার নামে খোলা দোকানগুলোর কারণে দালাল নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রোগীদের খদ্দের বানিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের বহির্বিভাগে ঘুরতে থাকে। মাত্র ১শ’ টাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার-নীরিক্ষার ফাদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে এরা। কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিয়মনীতি অনুসরণ করতে স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ জানান তিনি।
প্রাইভেট বিপিসিডিওএ এর সভাপতি খুলনা বিএমএ এর সহ-সভাপতি ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালের ৫শ’ গজের মধ্যে কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নিয়ম নেই। হলে তার লাইসেন্স পাওয়ার কথা নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্বীকৃত সারা বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল মালিকদের সংগঠন বিপিসিডিওএ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি নীতিমালা মেনে চলার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠান সংগঠনের স্বার্থ রক্ষায় সোচ্চার রয়েছে। তবে খুমেক হাসপাতালের সামনের এসব প্রতিষ্ঠান বিপিসিডিওএর সদস্য নয়। কারণ তারা কেউ নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে না। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই দালাল নির্ভর। মানহীন এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানান তিনি। স্বাস্থ্য খাতে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে তাকে আগে সেবার মানসিকতায় এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ