খুলনা | রবিবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পড়ে রয়েছে ২৪ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিনটি

খুমেক হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট চালুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন হয়নি দেড় বছরেও

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১০:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি দেড় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। গত বছরের মার্চে খুলনা সফরকালে খুমেক হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং রেডিও থেরাপি মেশিনটি প্রতিস্থাপন করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও ২৪ কোটি টাকার মেশিনটি এখনও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। চালু হয়নি ক্যান্সার ইউনিট। কোন রোগী ভর্তি হয়না এখানে। সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন চিকিৎসক সপ্তাহে তিন দিন কেমোথেরাপি দিয়ে আবার চলে যান। চিকিৎসক নেতারা বলছেন ক্যান্সার ইউনিটই ক্যান্সার আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতাল হলেও চিকিৎসা ব্যয় বহন করছে রোগী নিজেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা সফরে এলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং লনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিনটি প্রতিস্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেন। এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি। এরপর পার হয়েছে দেড় বছর। হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগে সরেজমিন দেখা যায়, গেটের সামনেই পলিথিনে মোড়ানো রয়েছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা মূল্যের রেডিও থেরাপি মেশিনটি। ২০১২ সালের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় স্বতন্ত্র ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য লিনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিনটি দিয়েছিলেন। তখন মেশিনটি সংস্থাপনের জন্য ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হলেও বরাদ্দের অভাবে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে খুমেক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ চলছে শুধুমাত্র বহির্বিভাগের সেবা দিয়ে। চিকিৎসা নেয়ার পরে কোন রোগীর কেমো থেরাপির প্রয়োজন হলে এখানে দেয়া হয়। তবে এসব ওষুধের ব্যয়ভার বহন করে রোগী নিজেই। হাসপাতাল থেকে ক্যানোলা, রেনিটিড ও সাধারণ কয়েকটি ইঞ্জেকশন সরবরাহ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সোম, মঙ্গল ও বুধবার এখানে নির্দিষ্ট সংখ্যক রোগীদের কেমো থেরাপি দেয়া হয়।
বিভাগের রেজিস্ট্রার খাতা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত এক মাসে দুই শতাধিক ক্যান্সার রোগী এখানে কেমো থেরাপি চিকিৎসা নিয়েছেন। নির্ধারিত দিনে অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ক্যান্সার রোগীদের এখানে কেমো দিয়ে আবার ভর্তিকৃত ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদিকে রেডিওথেরাপিসহ অন্যান্য ক্যান্সার চিকিৎসা এখানে না হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ১৫ গুণ ব্যয় বেশি হয়। অথচ খুমেক হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য একজন চিকিৎসক, ৫ জন করে ইন্টার্ণ চিকিৎসক, ৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ওয়ার্ড বয় আয়া সবই রয়েছে। রয়েছে কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য ৮টি বেড। তবে, খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মুকিতুল হুদা খুলনায় নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও সপ্তাহে তিন দিন তিনি খুলনায় অবস্থান করেন না, ঢাকায় ব্যক্তিগত চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকেন।
নিজের বোনকে নিয়ে খুমেক হাসপাতালে কেমো থেরাপি দেয়ার জন্য নিয়মিত আসছেন মিত্র শ্যামল। তিনি বলেন, এখানে রেডিওথেরাপি মেশিনটি বছরের পর বছর পড়ে আছে। আর আমার বোনের রেডিও থেরাপি করাতে ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ খুলনায় যা লাগতো মাত্র ৫ হাজার টাকা। 
বিএমএ খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু করতে স্বাস্থ্য প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। খুলনায় চিকৎসক পদায়ন করা হবে অথচ সে খুলনায় না থেকে ঢাকায় থাকবে আর খুলনার মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হবে এটা মেনে নেয়া যায় না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকার প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীকে আসতে অনুরোধ জানাবে আর তিনি আসবেন না এটা হতে পারে না। ক্যান্সার ইউনিট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু ও রেডিও থেরাপি মেশিন প্রতিস্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান তিনি।
হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ডাঃ মোঃ মুকিতুল হুদা বলেন, তিন দিনে আমরা ছয় দিনের সেবা দিয়ে থাকি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকি। কোন রোগী ফেরত পাঠাই না। হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট চালু করতে সব কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু করে সব কাজই করছি। নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। হাসপাতালের জনবল পাওয়া গেলে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ক্যান্সার ইউনিট চালুর জন্য গণপূর্তের বাঙ্কার, রাস্তা, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণসহ মোট ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে। যা শেষ হলে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। তবে, অত্যন্ত মূল্যবান এই মেশিনটি ফেরত নিয়ে নতুন মেশিন দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাই পুনরায় মেশিন পাওয়া গেলে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ