খুলনা | শুক্রবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শেষ কর্মদিবসে সতীর্থদের হাতে সচিব নিগৃহীত!

যশোর বোর্ডের কম্পিউটার থেকে দুর্নীতির দু’টি ফাইল গায়েব : তদন্ত কমিটি গঠন

জাহিদ আহমেদ লিটন, যশোর | প্রকাশিত ১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:০৫:০০

কম্পিউটার থেকে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ফাইল গায়েব হয়ে যাওয়ায় সতীর্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হাতে নিগৃহীত হলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদায়ী সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন। শেষ কর্মদিবসে তিনি সতীর্থদের কাছে দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় তার শেষ কর্মদিবসে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে গেলে বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে। ফাইল হারানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। হারিয়ে যাওয়া ফাইল দু’টি সচিবের ব্যক্তিগত দুর্নীতির মামলা সংক্রান্ত বলে জানিয়েছে বোর্ড সূত্রটি। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি খুলনার একটি সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সচিব ড. মোল্লা আমির হোসেন দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে যশোর শিক্ষা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার তার যোগদানের দিন ছিল। যে কারণে গত বুধবার শেষ কর্মদিবসের বিকেলে তিনি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে যান। এ সময় বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষ ঘেরাও করেন। তারা অভিযোগ করেন, সচিব গুরুত্বপূর্ণ দু’টি ফাইল বুঝিয়ে না দিয়ে চলে যাচ্ছেন। এ নিয়ে ওই সময় ব্যাপক হৈ চৈ শুরু হয়। এ নিয়ে দু’ঘন্টা যাবৎ তিনি চেয়ারম্যানের কক্ষে অবরুদ্ধ থাকেন। তবে সচিব কম্পিউটার থেকে হারিয়ে যাওয়া ফাইল দু’টির ফটোকপি চেয়ারম্যানের নিকট হস্তান্তর করেন।
ঘটনার সময় চেয়ারম্যানের কক্ষে উপস্থিত শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ড. মোল্লা আমির হোসেন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিন কোটি টাকার কাগজ কেনার ঘটনায় দুর্নীতি করে তিনি বোর্ডের এক কোটি নয় লাখ ৫৬ হাজার টাকার ক্ষতি করেছেন। ডিজিটাল প্রিন্টার 
কেনার নিলাম সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন সচিব। এ টাকা না পেয়ে তিনি প্রিন্টার গ্রহণ করেননি। যে কারণে তার নামে আদালতে মামলাও হয়। এছাড়া ৫৬ লাখ টাকার খাম ক্রয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তিনি পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এসব ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। ওই মামলা সংক্রান্ত ৩৩/৩ এবং ৭২ নম্বর ফাইল দু’টি সরিয়ে ফেলেছেন সচিব। এছাড়া সচিব খুলনা থেকে লোক এনে তার অফিসিয়াল কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক পাল্টে নিয়ে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, সচিব চতুরতার সঙ্গে বিষয়টি এড়িয়ে কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে আটকে দেন। পরে বোর্ডের চেয়্যারম্যান তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলে সচিবকে যোগদানের জন্য যেতে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলিম জানান, দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সচিবের কাছে সংরক্ষিত ছিল। যা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার সময় দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কিছুটা হৈ চৈ করেছে। ফাইল গায়েবের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে যশোর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবু তোরাবকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, বোর্ডের উপ বিদ্যালয় পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ও প্রধান মূল্যায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এর সঙ্গে সচিবের কোনো যোগসাজস থাকলে তাকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। চেয়ারম্যান আরো বলেন, সচিব যেহেতু নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন, সে কারণে তাকে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছে। তবে তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়নি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







খুলনায় আসা হলো না আইয়ুব বাচ্চু’র

খুলনায় আসা হলো না আইয়ুব বাচ্চু’র

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৩৮







ব্রেকিং নিউজ


রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৫