খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বৈরী আবহাওয়ায় ডুমুরিয়া এলাকায় আমন  ফলনে লক্ষ্যমাত্র পূরণে শঙ্কায় কৃষক

এফ এম মনির, ডুমুরিয়া | প্রকাশিত ১২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০:০০

বৈরী আবহাওয়ায় ডুমুরিয়া এলাকায় আমন  ফলনে লক্ষ্যমাত্র পূরণে শঙ্কায় কৃষক

ভরা বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ডুমুরিয়ার অধিকাংশ কৃষক আমন আবাদে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিশেষ করে উঁচু স্তরের ধানের জমিতে পানি সেচ দিতে কৃষকদের রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রচন্ড দাবদাহে রোপিত ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন বিলে বিশেষ করে উত্তর এলাকার যে সব নিচু জমি অন্যান্য বছর জলাবদ্ধতার জন্য অনাবাদী পড়ে থাকে সে সব এলাকায় এবছর বৃষ্টি কম হওয়ায় প্রায় ১৫-২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ সম্ভব হয়েছে। এ বছর সার্বিক পরিস্থিতি বিচার্যে আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না মর্মে সন্দেহ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কৃষি অফিস। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে ডুমুরিয়ায় নদী ও খাল খননের জন্য অনেক জমিতে খননকৃত মাটি ভরাট হয়ে ফসলী জমি নষ্ট হওয়ায় ধানের ফলন অনেক কম হবে। তাছাড়া প্রতি বছর অন্তত ১৫-৬০ হেক্টর আমন আবাদী জমি মৎস্য ঘেরে রূপান্তর হচ্ছে। যার ফলে আমন আবাদ আরো কমে যাচ্ছে। অবশ্য ঘেরের ভেড়িতে নানান সব্জির আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর ডুমুরিয়ায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫,৯৯৫ হেক্টর জমিতে কিন্তু শেষাবধি ১৫,৭০০ হেক্টর চাষের আওতায় আসে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৮,৪৬২ মেঃ টন। উল্লেখ্য অতীতে দেখা গেছে প্রতি বছরই ধানের ফলন পূর্বের বছরের তুলনায় বেশী উৎপাদন হয়। কিন্তু উপরোক্ত নানা কারণে বহুবছর পর চলতি বছর প্রধানত অনাবৃষ্টির জন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবেনা বলে জানা গেছে।
বরুনা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। পানির অভাবে ১ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। টোলনা গ্রামের আফাজ উদ্দিন বলেন, এবার তিনি ২ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। যে ১৫ কাঠা জমি নিচু হওয়ায় কোন বছর ফসল ফলানো যায়না, সেই জমিতে তিনি এবার আমন চাষ করতে পেরেছেন। শোভনা গ্রামের নিহার রঞ্জন মন্ডল জানায় তার ৪ বিঘা জমিতে ধান হয়েছে। এর মধ্যে ২ বিঘায় ভাল ধান হলেও অন্য জমিতে ধানের অবস্থা খুবই খারাপ। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়ায় আমন চাষ ব্যহত হচ্ছে। চারা তৈরীর ক্ষেত্রেও এর আগে কৃষকরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও কৃষি কর্মকর্তারা সংশয়ে আছেন বলে জানান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ