খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমন বন্ধ ঘোষণা

বন্দরে ৪নং হুঁশিয়ারী সংকেত

মংলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪০:০০

ঘূর্ণিঝড় তিতলির কারণে মংলা, চট্টগ্রাম, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে গতকাল বুধবার সকাল থেকে মংলাসহ উপকূলীয় এলাকায় আকাশ মেঘলা রয়েছে। কোন বড় ধরনের ঝড়ো হাওয়া না থাকলেও মাঝে মাঝে সামান্য গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মংলা বন্দর হতে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় তিতলি উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জানান, ঘূর্ণিঝড়টি গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ৮৫০, মংলা থেকে ৭২০ এবং পায়রা থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তিনি আরো বলেন, মংলা সমুদ্র বন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী সংকেত নামিয়ে চার নম্বর হুঁশিয়ারী সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার এম দুরুল হুদা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাগর প্রচন্ড উত্তাল। মংলা বন্দরে বর্তমানে সার, ক্লিংকার, জিপসাম, কয়লা জেনারেলকার্গোসহ মোট ২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। তিতলির প্রভাবে এ বন্দরের বিশেষ সর্তকবার্তা এলার্ট-২ জারী করা হয়েছে। এছাড়াও বন্দরে দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন-নির্গমন বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্দরে নৌ-পথে বাণিজ্যিক মালামাল আনা নেয়ার জন্য বোর্ট, কার্গো ও লাইটারেজ জাহাজসহ সকল নৌযান সমূহকে নিরাপদে রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৪নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত জারির পর গতকাল বুধবার সকালে সতর্কতা ও প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে বন্দরে অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গতকাল বুধবার দুপুরে জরুরী প্রস্তুতি সভা করেছে উপজেলা প্রশাসনও। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে মংলা বন্দরসহ উপকূলীয় নদ-নদী উত্তাল হয়ে পড়ায় সকল ধরনের ছোট ছোট নৌযান চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মংলা বন্দরের উপর আঘাত করলে এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ-বাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌ-পুরিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও বন বিভাগ, উপজেলা প্রসাশন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সকল উদ্ধারকারী নৌ-যানকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস আরো জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্ন চাপটি গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। এটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘তিতলি’। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় তিতলি বাংলাদেশে মংলা ও খুলনা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে পারে। তিতলির কারণে গতকাল দিনভর মংলায়  থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের এ কর্মকর্তা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ