খুলনা | রবিবার | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কালো পতাকাসহ সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ রায় : ফখরুল 

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০:০০

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বুধবার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রায় প্রত্যাখ্যান করার কথা জানান।
বিএনপি’র তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে কাল ১১ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশের মহানগর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ১৩ অক্টোবর ছাত্রদলের সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, ১৪ অক্টোবর যুবদলের সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল, ১৫ অক্টোবরœ স্বেচ্ছাসেবক দলের সারাদেশে বিক্ষোভ। ১৬ অক্টোবর বিএনপি ঢাকাসহ সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল করবে। এ ছাড়া ১৭ অক্টোবর মহিলা দল ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন ও ১৮ অক্টোবর শ্রমিক দল ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন করবে। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ রায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে, এ রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রায়। আমরা এ রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নোংরা প্রকাশ।
ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতির জন্য দুর্ভাগ্য এ রায়ের মাধ্যমে সরকার আরও একটি নোংরা প্রতিহিংসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। যেভাবে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেভাবে আরেকটি মিথ্যা মামলায় বিএনপি’র নেতাদের সাজা দেওয়া হলো। বিএনপি’র মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন সাজার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো এ দেশে সাধারণ কোনো মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন সাব জেলে ছিলেন, তখন মামলার সাক্ষী তারেক রহমান বা বিএনপি’র কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তখন তিনি এ ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করেছেন। অথচ ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অবসরে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দকে নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কথা বলতে হয়, যে দেশে প্রধান বিচারপতি ন্যায়বিচার পান না, সে দেশে নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করা যায় না। তিনি বলেন, আমরা দেশের জনগণকে আহ্বান জানাব রাজপথে এসে এ অনির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে। কোনো কর্মসূচি দেবেন কি না, তা জানতে চাইলে ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে, পাশাপাশি আইনি কর্মসূচিও থাকবে। তবে সেটি পরে জানতে পারবেন। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ’ নেতা-কর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকেœ নেতৃত্ব শূন্য করতেই এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে এ মামলার রায়ে উঠে আসে। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৮ সালে জামিনে মুক্ত হয়ে লন্ডনে যান বিএনপি’র জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক। এর পর থেকে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে তিনি সেখানেই থাকছেন। দুই বছর আগে মুদ্রাপাচারের এক মামলায় তারেককে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় হাই কোর্ট। আর গত ৮ ফেব্র“য়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। এ মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় গত আট মাস ধরে কারাগারে আছেন তারেকের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তারেক বা বিএনপি’র কেউ ২১ আগস্ট হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না দাবি করে দলটির নেতারা বলে আসছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য  থেকে করা অধিকতর তদন্তে তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেককে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমীন উপস্থিত ছিলেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

ড. কামাল হোসেনের  দুঃখ প্রকাশ

ড. কামাল হোসেনের  দুঃখ প্রকাশ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৪০













ব্রেকিং নিউজ