খুলনা | শুক্রবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

রোগী বাড়লেও বাড়েনি সেবার মান

নানা সংকটে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট

এম সাইফুল ইসলাম | প্রকাশিত ১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২০:০০

খুলনা অঞ্চলে মানসিক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চললেও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা। একমাত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ নামে একটি ওয়ার্ড থাকলেও জনবলসহ নানা সংকটে ধুকছে ওয়ার্ডটি। প্রতিদিন চিকিৎসা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে ফেরত যাচ্ছে রোগীরা। এই ওয়ার্ডটি ছাড়া খুলনায় বেসরকারি পর্যায়ে কোন মানসিক রোগীর চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। এসব সংকটের মধ্যেই আজ খুলনায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “পরিবর্তনশীল বিশ্বে যুব সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য”।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬ হাজার সাড়ে ৯ শতাধিক মানসিক রোগী। আর চলতি বছরের ৯ মাসে এ সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন বাকি তিন মাসে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই বছরই প্রথম আন্তঃবিভাগ চালু হয়। শয্যা সংখ্যা স্বল্পতা জনবল সংকটসহ নানা সংকটের ভেতরেই বছরের ফেব্র“য়ারি মাস থেকে খুমেকের আন্তঃবিভাগে ভর্তি নেয়া শুরু করে। ফেব্র“য়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্তঃ বিভাগে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১শ’ ৬২ জন। প্রতিনিয়ত এ সংখ্যা বাড়ছে।
সূত্র জানায়, খুমেকে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসক রয়েছেন ৩ জন, যা খুবই অপ্রতুল। নেই কোন সহকারী চিকিৎসক, ওয়ার্ড বয় ও আয়া। ফলে সুফল নিচ্ছেন বাইরে থেকে আসা ফ্রি সার্ভিস কর্মীরা। সিনিয়র স্টাফ নার্স রয়েছে মাত্র ৭ জন। রোগীদের জন্য শয্যা রয়েছে ১১টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রতিদিন খুমেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফেরত যাচ্ছে। চিকিৎসক নেতাদের মতে, মানসিক রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। কারণ মানসিক রোগীদের দ্বারা দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ওয়ার্ডবয় ও আয়ারা যেকোন মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারে। অথচ খুমেকে এই ইউনিটটি অবহেলিত ও জনবল সংকটে ভুগছে।জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্রমতে, খুলনার প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ২০ শতাংশের বেশি কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছে। যার মধ্যে শিশুদের হার প্রায় ২৫ শতাংশ এবং যা গত দশ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল সূত্রমতে দেশে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী ১৬ দশমিক ১ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। সূত্রমতে ১২ বছর থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০০ জন বিপরীত লিঙ্গের মধ্য ৫১ শতাংশ কোন কোন সময় আত্মহত্যার চিন্তা করছে এবং ৩০ শতাংশ মানুষ একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনবল সংকটে ধুকতে থাকা খুমেকের এই ইউনিটটির উপরেই আবার চাপিয়ে দেয়া হয়েছে কয়েদি রোগীদের। এই স্বল্প জনবল দিয়েই কয়েদি রোগীদের পরিচর্যা করতে হয়। তাদের জন্য নেই কোন অতিরিক্ত শয্যা। গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা যায় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ১৫টি শয্যা সংগ্রহ করা হলেও ১৮ জন কয়েদি ভর্তি রয়েছেন। তবে শয্যা কত তা মুখ্য বিষয় নয় তাদের কাছে। রোগী যতজন ততজনই তারা ভর্তি নিয়ে ফ্লোরে  রাখেন। ফলে  কয়েদি রোগী  ও দায়িত্বরত চিকিৎসক নার্সরাই ভোগান্তির শিকার হন। 
বিশেষজ্ঞদের মতে তরুণদের বয়স ভেদে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে  তৈরি মানসিক অবসাদ রূপ নিতে পারে মারাত্মক মানসিক ব্যধিতে। এতে তারা আংশিক ও সম্পূর্ণ মানসিক রোগীতে (পাগল) পরিণত হতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কারণে মানসিক রোগী  তৈরি হতে পারে। খুলনাসহ আশেপাশের এলাকায় মানসিক রোগীদের কার্যত কোন সেবা নেই। মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিটের কর্তব্যরত নার্স মঙ্গলি বাছাড় বলেন, আমাদের মানসিক রোগী ও  কয়েদি রোগীদের পরিচর্যা এই স্বল্প সংখ্যক নার্স দিয়ে পালন করতে হয়। যা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, কয়েদি রোগীরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের হয়ে থাকে। ফলে একই সাথে যদি একাধিক চিকিৎসক রাউন্ডে আসেন তখন সমন্বয় করতে গিয়ে খুবই ঝামেলায় পড়তে হয়।
খুমেকে মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ এস এম সাইফুল ইসলাম রাজু বলেন, অপ্রতুল জনবল দিয়ে ইউনিটটি চলছে। চিকিৎসক মাত্র তিনজন। যেখানে আরো তিনজন প্রয়োজন। নিয়োগকৃত কোন ওয়ার্ডবয় ও আয়া নেই। তিনি বলেন, ইউনিটটিতে নেই পর্যাপ্ত শয্যা সংখ্যা।  প্রতিদিনই রোগীরা শয্যা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে।   
বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, রাষ্ট্রে যারা মর্যাদা সম্পন্ন তারাও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে দেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আইনের শাসন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হলে সংক্ষুব্ধতা ও রাষ্ট্র থেকে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এছাড়াও জন্মগত মানসিক বিকার গ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী যারা তাদের জন্মকালীন রাষ্ট্র যতœ না নেয়ায় এদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদের উপর বিষদ গবেষণাও নেই। এদের প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের কোন উদ্যোগ নেই। 
সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী  বলেন,  পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থা  ও প্রতিযোগিতামূলক সামাজিক, রাজনীতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ভাবধারায় জনজীবন এখন অবনমনের পথে অগ্রসরমান। এরূপ অবনমনমূলক পরিস্থিতিতে মানসিক বিপর্যস্ততার ফলস্বরুপ বিষাদগ্রস্ততা, আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি, একাকিত্বের অনুভুতি, মনোযোগ ও সহানুভূতি প্রকাশে সমস্যা , সামাজিক অভিযোজন সমস্যা ও বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরূপ পরিস্থিতিকে মোকাবেলার মানসে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি  বিশেষভাবে সামনে উঠে এসেছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








রূপসা কলেজ ছাত্রলীগের  আলোচন সভা 

রূপসা কলেজ ছাত্রলীগের  আলোচন সভা 

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ





২০২০ এশিয়া কাপের আয়োজক পাকিস্তান

২০২০ এশিয়া কাপের আয়োজক পাকিস্তান

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


প্রথম ইনিংসে খুলনা-সিলেট সমান সমান

প্রথম ইনিংসে খুলনা-সিলেট সমান সমান

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



কয়রা ও পাইকগাছার স্কুল চ্যাম্পিয়ন

কয়রা ও পাইকগাছার স্কুল চ্যাম্পিয়ন

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০