খুলনা | মঙ্গলবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

মানসিক রোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের উদ্যেগ গ্রহণ জরুরী 

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:১০:০০

মানসিক রোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের উদ্যেগ গ্রহণ জরুরী 

মানসিকভাবে কেউ রোগাক্রান্ত হলে তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। জীবন সম্পর্কে হতাশা, উপার্জনহীনতা, আপনজনের সঙ্গে বিরোধ, সামাজিকভাবে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকলে কেউ কেউ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। নিজেকে সামলাতে পারে না। তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আপনজন, স্ত্রী-পরিজন, এমনকি প্রিয় সন্তানকেও হত্যা করতে দ্বিধা করে না। এমনই নিষ্ঠুর ও নির্মম কর্মকান্ড আমাদের সমাজে ঘটছে প্রায়শ। অথচ খুলনা অঞ্চলে মানসিক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চললেও নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা। একমাত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ নামে একটি ওয়ার্ড থাকলেও জনবলসহ নানা সংকটে ধুকছে ওয়ার্ডটি। প্রতিদিন চিকিৎসা সুযোগ বঞ্চিত হয়ে ফেরত যাচ্ছে রোগীরা। এই ওয়ার্ডটি ছাড়া খুলনায় বেসরকারি পর্যায়ে কোন মানসিক রোগীর চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। এসব সংকটের মধ্যেই আজ খুলনায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।
খুমেকে মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসক রয়েছেন ৩ জন, যা খুবই অপ্রতুল। নেই কোন সহকারী চিকিৎসক, ওয়ার্ড বয় ও আয়া। রোগীদের জন্য শয্যা রয়েছে ১১টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। প্রতিদিন খুমেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফেরত যাচ্ছে। মানসিক রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। কারণ মানসিক রোগীদের দ্বারা দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা যেকোন মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারে। অথচ খুমেকে এই ইউনিটটি অবহেলিত ও জনবল সংকটে ভুগছে। খুলনার প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ২০ শতাংশের বেশি কোন না কোন মানসিক রোগে ভুগছে। যার মধ্যে শিশুদের হার প্রায় ২৫ শতাংশ এবং যা গত দশ বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। বিশেষঞ্জদের মতে তরুণদের বয়স ভেদে ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে তৈরি মানসিক অবসাদ রূপ নিতে পারে মারাত্মক মানসিক ব্যাধিতে। এতে তারা আংশিক ও সম্পূর্ণ মানসিক রোগীতে (পাগল) পরিণত হতে পারে। এছাড়া প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কারণে মানসিক রোগী তৈরি হতে পারে। খুলনাসহ আশেপাশের এলাকায় মানসিক রোগীদের কার্যত কোন সেবা নেই। 
প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে দেশে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আইনের শাসন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত না হলে সংক্ষুদ্ধতা ও রাষ্ট্র থেকে মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এছাড়াও জন্মগত মানসিক বিকার গ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী যারা তাদের জন্মকালীন রাষ্ট্র যতœ না নেয়ায় এদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদের উপর বিষদ গবেষণাও নেই। এদের প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে রাষ্ট্রের উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

নারীর শেকল ভাঙার গান বেগম রোকেয়া

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০






এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

এইডস সংক্রমন রোধে  সচেতনতা জরুরী

০৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১০




সড়কে আর কত মৃত্যু? 

সড়কে আর কত মৃত্যু? 

২৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০

সবজির বাজারে মনিটরিং জোরদার করুন

সবজির বাজারে মনিটরিং জোরদার করুন

২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০


ব্রেকিং নিউজ












বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:১০