খুলনা | শুক্রবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় টাউন সার্ভিস বিলুপ্তির পথে!

বিশেষ প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০

বিস্ময়কর হলেও সত্য, খুলনা মহানগরীতে টাউন সার্ভিস বিলুপ্ত হবার পথে। মাত্র তিন থেকে চারটা গাড়ি প্রায় বিশ লাখ জনসংখ্যার এই নগরিতে নামকাওয়াস্তে কোনও রকমে চলাচল করছে। রূপসা ফেরিঘাট থেকে ফুলতলা অভিমুখী এসব গাড়ি কখন যায়, কখন আসে তা নগরবাসীরও জানার বাইরে। পর্যাপ্ত নগর পরিবহন না থাকায় যাত্রী সাধারণকে অধিক ভাড়ায় মাহেন্দ্র, বেবি টেক্সি কিংবা যশোরগামী বাসে চলাচল করতে হচ্ছে। সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, নগর পরিবহনের ব্যাপারে তিনি নিজেও আগ্রহী। ঢাকা সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনা খুলনাতেও বাস্তবায়নে আধুনিক নগর পরিবহন আনতে তিনি আগ্রহী। খুব শিগগিরই তিনি নগর পরিবহনের বিদ্যমান সংকট সমাধানে বসবেন। 
সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাস নগর পরিবহনের মালিক সভাপতির দায়িত্বে আছেন। বিআরটিএ খুলনা অফিসের উপ-পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ নগর পরিবহনের দুর্দশার কথা স্বীকার করে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি তাদের, এর মধ্যে তারা গাড়ির সংখ্যা বাড়ালে ভালো, না বাড়ালে তাদের রুট পারমিট বাতিল করে দেয়া হবে। তিনি জানান, শহরের সীমানা এলাকা বেড়েছে। রূপসা থেকে ময়লাপতা মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্ট দিয়ে রূপসা ব্রিজ পর্যন্তও চাইলে নগর পরিবহন এখন চালানো যায়। একইভাবে, রূপসা থেকে ডুমুরিয়া কিংবা রুপসা থেকে ফুলতলা, রূপসা থেকে খালিশপুর শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত নগর পরিবহন চাইলে চালানো যায়। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে হাইওয়েতে থ্রি হুলার জাতীয় পরিবহন বন্ধ করার চিঠি আসায় তারা বাসের ওপরেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। 
জানা গেছে, রাজধানীতে শহিদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় মারা গেলে দেশব্যাপী স্কুল ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনের ঢেউ খুলনা মহানগরীতেও এসে পৌঁছালে অধিকাংশ গাড়ি ফিটবেসবিহীন থাকায় রাতারাতি তা সড়ক থেকে উধাও হয়ে যায়। নিজ অফিসে বৃহস্পতিবার রাতে বসে আলাপকালে আব্দুল গাফ্ফার বিশ্বাস জানান, এর আগে ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি চলাচল করতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের কারণে অধিকাংশ গাড়ির মালিক নিজ উদ্যোগেই ফিটনেসবিহীন থাকায় গাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি জানান, মালিক সমিতি উদ্যোগী হয়ে গাড়ি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই অন্তত তিনটি গাড়ি তারা নতুন করে নামানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। 
শুক্রবার সরেজমিনে নগরীর ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নগর পরিবহনের জন্য বাসস্ট্যান্ডে সোহাগ পরিবহনের গাড়িগুলি সারি বেধে রাখা। স্থানীয় হকার আব্দুল করিম জানান, শুক্রবারে নগর পরিবহন বন্ধ থাকে। তিনি জানান, বর্তমানে তিন চারটি গাড়ি চলাচল করে। তাও অনিয়মিত। 
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপ¬ব জানান, খুলনা মহানগরীর মতো একটি বিভাগীয় শহরে নগর পরিবহন বিলুপ্ত হবার পথে, এটা খুব লজ্জার। তিনি বলেন, এর আগে পরিকল্পিতভাবে দোতলা বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 
খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মোহাম্মাদ মোশাররফ হোসেন জানান, আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ, সেই প্রেক্ষাপটে খুলনা মহানগরীতে আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালুর দাবি জানাই। 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ