খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘গায়েবি মামলায়’ ফের আত্মগোপনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা!

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়-ঝাঁপ ততোই বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে আ’লীগের নেতা-কর্মীদের সরগরম দেখা গেলেও মাঠে নেই অন্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় রুটিন কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ খুলনা বিএনপি। গত দু’সপ্তাহে দায়ের হওয়া অন্তত দেড় ডজন ‘গায়েবি মামলায়’ ফের আত্মগোপনে নেতা-কর্মীরা। ফলে নির্বাচনী ট্রেনে ক্ষমতাসীন আ’লীগ চলতে শুরু করলেও রাজপথে নেই খুলনা বিএনপি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আ’লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নির্বাচনী মিছিল করবে; আগামী ১৩ অক্টোবর শহিদ হাদিস পার্কে মহাসমাবেশ করবে মহাজোট।
দলীয় সূত্র জানায়, বিভাগীয় সদর খুলনার ছয়টি আসনের একাধিক সংসদ সদস্য আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন না বলে গুঞ্জন চলছে। আগামী নির্বাচনে এসব আসনে দেখা মিলতে পারে আ’লীগের নতুন প্রার্থী। সর্বোপরি খুলনা’র ছয়টি আসনে আ’লীগের অন্তত দেড় ডজন প্রার্থী সরব। প্রতিদিনই ‘নৌকা’ প্রতীকে যেমন ভোট প্রার্থনায় জনসংযোগ করছেন, তেমনি দলীয় মনোনয়ন পেতে স্ব স্ব লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। নেতাদের অনুসারীরাও স্বপক্ষে সরব। প্যানা সাইনে জানান দিচ্ছেন অস্তিত্ব। তিনদিনের ‘উন্নয়ন মেলা’য় সরকারের দু’টার্মের উন্নয়ন ও আগামীর সম্ভাবনা তুলে ধরে নাগরিক সেবা দিয়েছে সরকারি, বেসরকারি ও শায়ত্বশাসিত সংস্থাগুলো। এসব মেলা মঞ্চে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আ’লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেছেন।
খুলনা ১৪ দলের সমন্বয়ক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক সারাদেশের মতো খুলনাও আ’লীগ নির্বাচনী ট্রেনে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে সাধারণ মানুষও পুনরায় নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতে উজ্জীবিত। প্রত্যেকদিন ‘নৌকা’র পক্ষে মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে। আগামী ১৩ অক্টোবর শহিদ হাদিস পার্কে মহাসমাবেশ সফলে তৃণমূলের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিছিল করা হবে। সকল ভেদাভেদ ভুলে তফসিল ঘোষণার আগেই খুলনাবাসী নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।”
ঠিক তার বিপরীত চিত্র বিএনপি’র মধ্যে। গত দশ বছরের রাজনৈতিক মামলার জটে যোগ হয়েছে সম্প্রতি ‘গায়েবি’ মামলা। কোন ঘটনাই ঘটেনি এমন সব ঘটনার কাল্পনিক বর্ণনা দিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে গায়েবি মামলা করছে বলে অভিযোগ দলটির নেতা-কর্মীদের। 
নতুন করে একের পর এক মামলায় নেতা-কর্মীরা ফের গা ঢাকা দিয়েছেন। ফলে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফলে সতর্কতার সাথে উপস্থিত হচ্ছে ত্যাগী ও সাহসী নেতা-কর্মীরা। তবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার ধারে-কাছেও নেই কেউ। অতি উৎসাহী দু-একজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্যানা টাঙিয়ে দিলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সে সব। কেন্দ্রীয় রুটিন কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ খুলনা বিএনপি’র তৎপরতা।
এসব প্রসঙ্গে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর শাখার সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “প্রায় এক যুগ বিএনপি নেতা-কর্মীরা হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় জর্জরিত। গত দু’সপ্তাহে গায়েবি মামলা দায়ের করে বিরোধী দল-মতের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গ্রেফতার-তল্লাশীর নামে হয়রানি শুরু করেছে পুলিশ। স্বৈরাচারের সকল ঘৃণ্য রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এ সরকার। একদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে ভোট চাইছে ওরা; অন্যদিকে গায়েবি মামলায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা নির্ঘুম। দেশের জনগন এসবের উচিত জবাব দেবে; সময়ের অপেক্ষামাত্র।”
অন্যদিকে, খুলনা-৫ ও ৬নং আসনে জামায়াতে ইসলামীর দু’জন সম্ভাব্য প্রার্থী জনসংযোগ করছেন নিরবে-নিভৃতে। তবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, সদ্যগঠিত যুক্তফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও বামদলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সেভাবে হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে না। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ