খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ওষুধ চুরির ঘটনায় জড়িতরা  সবাই বহাল তবিয়তে!

আবু নাসের হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধের কথা জানেই না অধিকাংশ রোগী 

বশির হোসেন  | প্রকাশিত ০৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

শহিদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে সাড়ে ১২ লাখ টাকার ওষুধ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার এক বছর পার হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা ফার্মাসিস্টদের সবাই চাকুরিতে বহাল তবিয়তে। অভিযুক্ত এক চিকিৎসকও জামিন নিয়ে নিয়মিত আসছেন হাসপাতালে। তবে চুরি হওয়া ওষুধের হদিস মেলেনি। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের অধিকাংশই জানেন না আবু নাসের হাসপাতালের একটি ফার্মেসী আছে, সেখান থেকে মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া যায়। 
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ৩০ হাজার পিস ওষুধসহ ফার্মাসিস্ট দেবপ্রসাদ, তার শ্যালক ও ওষুধ ব্যবসায়ী গ্রেফতার হওয়ার বছর পার হয়েছে। এরপর র‌্যাবের অভিযানে হাসপাতালটিতে আরও ১০ লক্ষ টাকার ওষুধ চুরির বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ ঘটনায় গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সব কমিটিতেই ফার্মাসিস্টদের অভিযুক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়া হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের আরএমও ডাঃ অলোক কুমার মন্ডলকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট প্রদান করে দুদক। আদালতে আত্মসমর্পনের পর অভিযুক্ত চিকিৎসক জেলহাজতে যান এবং কয়েক দিন পর জামিনে বের হয়ে আবার দায়িত্ব পালন করছেন। 
একাধিক তদন্ত কমিটির অভিযোগপত্র ও মামলায় ৪ ফার্মাসিস্টের তিনজনকেই অভিযুক্ত করা হলেও এক বছরের ব্যবধানে সব ফার্মাসিস্ট এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক সবাই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শুধু চুরি হওয়া ওষুধের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। 
অপর দিকে সাধারণ রোগীরা বলছেন আবু নাসের হাসপাতালের ফার্মেসী অবস্থানগত কারণে নজরে আসে না। এ হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয় তাও অনেকে অজানা এমন দাবি রোগীদের। সানজিদা নামে একটি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। তার ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকলেও তাকে কোন ধরনের ওষুধ দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয় সেটাও জানতাম না।
ইসরাত জাহান নামে একটি মেয়েকে নিয়ে ইউরোলজি সমস্যা নিয়ে পাইকগাছা থেকে ডাক্তার দেখাতে আসেন একজন কৃষক। গত এক বছরে ছয় বার এসেছেন এখানে, কিন্তু ওষুধ বিনামূল্যে পাননি কোনদিন। বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয় তা তিনি জানেনও না। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫ জন রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে ১০ জনই বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয় তা জানে না। আর বাকি ৫ জন জানে এখানে শুধু গ্যাসের ওষুধ ও জ্বরের ওষুধ ছাড়া কোন ওষুধ দেয়া হয় না। অথচ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। 
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, ফার্মেসী অবস্থানতো আমরা করিনি। সেটা পরিবর্তন করাও সম্ভব নয়। এটা ঠিক যে অনেকেই জানেন না এখানে বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হয়। আবু নাসের হাসপাতালে মানুষ আসে চিকিৎসা নেয়ার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ নেয়ার জন্য অনেকেই আসে না তাই জানে না। তারপরেও সাধ্যমত রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ