খুলনা | শুক্রবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | ৪ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি 

রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রিয়রা পদ পাওয়ায় তৃণমূলে অসন্তোষ

মোহাম্মদ মিলন  | প্রকাশিত ০৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০:০০

দীর্ঘদিন পর গত সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্র থেকে খুলনা মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে এসব কমিটি অনুমোদন হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মাঝে যেমন রয়েছে উচ্ছ্বাস, তেমনই আছে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। রয়েছে বিতর্কও। বিশেষ করে ছাত্রদল আর যুবদলের কমিটি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কারণ কেন্দ্র ঘোষিত এসব কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ও অনুপস্থিত এমন নেতারা পেয়েছেন পদ। আর মাঠের কর্মীদের করা হয়েছে অবমূল্যায়ন। খুলনায় নেই, অথচ অনেকেই পদ পেয়েছেন, আবার একই নেতার রয়েছে তিন পদ। এমনই অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। 
জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে খুলনা মহানগর যুবদলের ২২৫ সদস্যের কমিটি। তবে এই কমিটি ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর গত ১৩ সেপ্টেম্বর মহানগর ছাত্রদলের ৩৯১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। 
যুবদল : ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল মাহাবুব হাসান পিয়ারুকে সভাপতি ও নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। যুবদলের নেতা-কর্মীরা বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত ৫ সদস্যের আংশিক কমিটির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম হোসেনকে অবমূল্যায়ন করায় তিনি পদত্যাগ করেছেন। আর আংশিক কমিটির প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক জিএম রফিকুল হাসানকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রাখা হয়নি। এর আগে তিনি সদর থানা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তবে আংশিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নেহিবুল হাসান নেহিমকে পূর্ণাঙ্গ উর্ধ্বতন সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে রাখা হয়েছে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েদকে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার আসামিদেরও। অথচ কমিটিতে খানজাহান আলী থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোল্ল¬া সোহরাব হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ইসলাম লাভলু, দৌলতপুর থানা সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান পিন্টু, সদর থানার সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ও আশিকুজ্জামান আশিককে রাখা হয়নি।  
কমিটিতে দেখা গেছে, নব ঘোষিত নগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির সহ-সভাপতি ও সোনাডাঙ্গা থানা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলামকে নগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। একই ব্যক্তি ছাত্রদল ও যুবদলের তিনটি পদে রয়েছেন। নগর ছাত্রদলের আশিংক কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ পেয়েছিলেন আরমান হোসেন রুপম। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাকে বাদ দেওয়া হয়। রুপমকে মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। 
নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, নতুন পুরাতনদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে। অথচ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যারা সার্বক্ষণিক ঘোরাফেরা করেন তাদেরকেই বড় বড় পদ দেওয়া হয়েছে। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ কোনো দিন যুবদলের কোনো সভা-সমাবেশ মিছিলে যায়নি অথচ ধর্ম সম্পাদক করা হয়েছে মোঃ মিরাজুল ইসলামকে। প্রবাসী মোঃ এনায়েত হোসেন পূর্ণাঙ্গ কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক পদ পেয়েছেন। 
নগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বাদ পড়া আংশিক কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক জিএম রফিকুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাকে রাখা হয়নি। অথচ দলের দুঃসময়ে প্রতিটি মিছিল-সমাবেশ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলাম। আমাকে তো রাখেইনি আমার সঙ্গে যারা যুবদল করতো তাদের কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। 
মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর এ প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর পর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ায় অনেকে উচ্ছ্বসিত। ১২ বছর দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে। এমন অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পেরেছি এটিই আমাদের সফলতা। এই কমিটিকে বিতর্কিত করতে অনেকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, সাবেক নেতাদের অনেক বয়স হয়েছে। সাবেক থানা সভাপতিদের অনেকে বিএনপিতে চলে যাবেন। এজন্য তাদের রাখা হয়নি। জিএম রফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আছে। তার কর্মকান্ড বিতর্কিত। এছাড়া এনায়েত হোসেন বিদেশে ব্যবসা করেন। সে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। তিন পদে থাকা সাইফুলের বিষয়ে তিনি বলেন, সে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করছে। তিনি বলেন, দেখে শুনে কমিটি দেয়া হয়েছে। এই কমিটিতে কেউ বাদ পড়েনি। আর নগরীর ওয়ার্ড ও থানা কমিটিতে যাদের রাখা হবে তারা নগর কমিটিতে থাকবে না। ওয়ার্ড ও থানা কমিটিগুলো হলে সবাই পদ পাবেন। ফলে বাদ পড়ার কোন সুযোগ নেই। 
ছাত্রদল : গত ১৩ সেপ্টেম্বর মোঃ শরিফুল ইসলাম বাবুকে সভাপতি ও মোঃ হেলাল আহম্মেদ সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর আগে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ৪০ সদস্যের আংশিক নগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর পর কমিটি হওয়ায় পদবঞ্চিত হয়েছেন অনেক নেতা-কর্মী। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রয়েছে তাদের অনেককে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। অনেককে জুনিয়রদের চেয়েও নিচের পদ দেওয়া হয়েছে। কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। তবে নগর কমিটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি দেয়া সম্ভব হয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামে কর্মী হিসেবে কাজ করেছে অনেক দিন। আমরা এমন নেতাদের মূল্যায়ন করে দীর্ঘদিন পরে হলেও কমিটি দিতে পেরেছি। এ কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে উচ্ছাস রয়েছে। 
তবে কমিটি ঘোষণার পর ১৬ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মহানগর কমিটি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম মনির আহ্বায়ক করে পাল্টা কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া কয়েকটি থানায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ফলে ছাত্রদলের দু’টি কমিটি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে নেতা-কর্মীরা। 
এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের বিদ্রোহী কমিটির আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, দুই বছর পূর্বে ২০১৬ সালে মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি করার পর বিদ্রোহ করা হয়। তখন ঊর্ধ্বতন নেতা-কর্মীরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা করা হয়নি। অথচ পিরোজপুর ও বাগেরহাটের লোকজনকে এই কমিটিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া মাদক বিক্রেতা ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল এমন নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য আমরা নগরসহ চার থানায় পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছি। 
পদবঞ্চিত মামুন পাটোয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের সভা, সমাবেশ মিছিল সামনের কাতারে থেকে করেছি। রাজপথে সক্রিয় থাকায় কিছুদিন আগেও আমি জেল খেটেছি। অথচ আমাকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। আমি ভাইয়াদের তেল মর্দন করতে পারিনি বলেই মনে হয় আমাকে কমিটিতে রাখা হয়নি। আর যারা পদ পেয়েছেন তাদের অসম্মানজনক পদেও রাখা হয়েছে। অনেকের ওয়ার্ডের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নেই, আন্দোলন সংগ্রামেও ছিল না অথচ তারা মহানগর ছাত্রদলের বড় পদ পেয়েছে। 
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকা বোরহান উদ্দিন সেতুকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক জুনিয়র যারা আমার হাত ধরে ছাত্রদলে এসেছে। তাদেরকে আমার চেয়ে বড় পদ দেয়া হয়েছে। আমাকে সম্মানজনক পদ দেয়া হয়নি। অথচ ছাত্রত্ব নেই এমন নেতাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। বাগেরহাট, বরিশাল থাকে এমন ব্যক্তিদের নগর কমিটিতে রাখা হয়েছে। 
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু এ প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়েছে। ফলে নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বসিত। এই কমিটি নিয়ে আনন্দ মিছিলও করেছে তারা। আন্দোলন সংগ্রামে ছিল এমন নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাল্টা কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, কারা এই কমিটি অনুমোদন দিয়েছে এই প্রশ্ন আমাদের। কমিটি অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার একমাত্র ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির। অথচ কিভাবে এ কমিটি হয়েছে সেটা বুঝি না। এদের মধ্যে কেউ ছাত্রদল করে না। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এটা করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়কের ছাত্রত্ব নেই। তিনি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। অথচ পাল্টা কমিটি দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। দু-চার জন বাদ পড়তে পারে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদেরও কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। 
স্বেচ্ছাসেবক দল : নগর স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে তেমন নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ না থাকলেও নগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি এড. ফজলে হালিম লিটনকে এই কমিটির সম্মানিত সদস্য করায় নানা গুঞ্জন উঠেছে। এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলাল বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৮ বছর পর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি হওয়ায় নেতা-কর্মীরা মূল্যায়িত হয়েছেন। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাবেক সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিবদের সম্মানিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু, সাবেক সভাপতি এড. ফজলে হালিম লিটন, লাভলু, মহিউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনকে সম্মানিত সদস্য পদ দেয়া হয়েছে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০








খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০




ব্রেকিং নিউজ


রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

রংপুরের বিপক্ষে খুলনার ড্র

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:১৫